bankura
এই সেই গর্ত। নিজস্ব চিত্র
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: বাড়ির ভেতর সাড়ে ১৩ ফুট গর্ত। গর্তের ভিতরে পাওয়া যাবে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের এক ধাতু। যার দুই কোটি গ্রামের উন্নয়নে দান করা হবে। এত কিছু ঘোষণার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষা হল না।

কয়েক দিন ধরেই বাঁকুড়ার কোতুলপুরের চাতরা গ্রামে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন মানুষের যাতায়াত সন্দেহ সৃষ্টি করছিল এলাকাবাসীর মনে। স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়ির ভিতরে দু’জন লোক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছিল। প্রথম দিকে সেরকম সন্দেহ না হলেও দিনের পর দিন বাড়ির ভেতরে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে দেখে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের। কৌতুহলবশত তাঁরা বাড়ির ভিতরে দেখেন একটি বিশালাকার সুড়ঙ্গ কাটা হয়েছে। সুড়ঙ্গ কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সেটা এড়িয়ে যেতে চান গৃহকর্তা।

পরে অবশ্য কিছু অসংলগ্ন যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পারিবারিক গৃহশান্তি, তুকতাক, মাটির নীচে হাড়ের সন্ধান, এই সব বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গৃহকর্তার এই অসংলগ্ন কথাই গ্রামবাসীদের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। পরে গ্রামবাসীদের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন গৃহকর্তা রোহিত নন্দী। গুপ্তধনের সন্ধানে মাটি খোঁড়ার কাজ চলছিল বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন রাজ্যের পক্ষেই পঞ্চায়েত রায়, ঘোষণা করা যাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনের ফল

স্থানীয় শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন গ্রামবাসীরা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গ্রামে আসছে শুনেই বাড়ি থেকে চম্পট দেন রোহিতবাবু। তবে মাটি কাটার কাজে যুক্ত দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

স্থানীয় গ্রামবাসী অভিজিৎ নন্দী, জয়ন্ত নন্দীর কথায়, “গ্রামে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখে সন্দেহ হয়। পরে ওই বাড়িতে গিয়ে গর্ত দেখি। রোহিতবাবুর স্ত্রী তখন বাড়িতে ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর মতে এই বাড়ির তলায় ধাতু রয়েছে। ধাতু না তুললে অমঙ্গল হবে এমনই বলেন তিনি।”

তথাকথিত সেই ‘গুপ্তধনে’র খোঁজ মেলার আগেই অবশ্য শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গ্রামবাসীদের তৎপরতায় শ্রীঘরে ঠাঁই হলো গুপ্তধন সন্ধানীদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন