low pressure in bay of bengal
ওই আসে বৃষ্টি। নিজস্ব চিত্র

ওয়েবডেস্ক: ভেল্কি দেখিয়ে যাচ্ছে বর্ষা। একদিকে যখন প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছে কেরল, যখন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে ওড়িশায়, তখন পশ্চিমবঙ্গ কার্যত বৃষ্টিশূন্য। গত কয়েকদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টির দেখা নেই। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ ঘাটতি বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যে।

বৃষ্টির অভাবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার ঘাটতি ছুঁয়েছে ১৪ শতাংশ আর উত্তরবঙ্গে ২০ শতাংশ। উত্তরের জেলাগুলিতে আবার বৃষ্টির অভাবে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেছে রোদ। গত রবিবার উত্তরবঙ্গে পারদ অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। সেই তুলনায় সোমবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও, বর্ষায় উত্তরবঙ্গের এ রকম আবহাওয়া শেষ কবে হয়েছিল মনে করা যায় না।

দক্ষিণবঙ্গে অবশ্য উত্তরবঙ্গের মতো পারদ বাড়ছে না। বৃষ্টিও হচ্ছে মাঝেমধ্যে, কিন্তু বর্ষার সেই রূপটা এখনও নেই। কেন এই পরিস্থিতি রাজ্যে?

আরও পড়ুন অপরিসীম ক্ষয়ক্ষতি, ছন্দে ফিরতে কেরলের লেগে যেতে পারে বহু বছর

রাজ্যের ওপরে নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার অভাবকেই এই অবস্থার জন্য দায়ী করছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। সোমবার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরেই অবস্থান করছিল একটি নিম্নচাপ। কিন্তু মঙ্গলবার সেটি এক লাফে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রদেশে চলে যাওয়ায় বৃষ্টি কমেছে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। নিম্নচাপটি চলে যাওয়ার আগে অবশ্য কিছুটা বৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি না হওয়ার কারণও সেই মৌসুমী অক্ষরেখা এবং ঘূর্ণাবর্তের অভাব।

এই পরিস্থিতি বদলাবে কবে?

বুধবার থেকেই উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়েদার আল্টিমা। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সোজা পৌঁছে যাবে উত্তরবঙ্গে। এর প্রভাবেই ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মৌসুমী অক্ষরেখা আগামী শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। এর ফলে মুষলধারে বৃষ্টি নামতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। বিক্ষিপ্ত ভাবে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাসে উত্তরবঙ্গের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের ঘাটতি কমানোর জন্য আপাতত সপ্তাহান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন