wheat blast

শৈবাল বিশ্বাস : 

রাজ্য‌ের সীমান্তবর্তী অন্তত চারটি জেলায় ছত্রাকের আক্রমণে ব্য‌াপক এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেল। এর ফলে অসংখ্য‌ কৃষক অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। প্রশাসনের তরফে এই কৃষকদের ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে বটে, কিন্তু আশঙ্কা অন্য‌ত্র। এ বার যে ভাবে ফসল নষ্ট হল বছরের পর বছর সে রকম হবে না তো?

এই ভয়ানক ছত্রাকটির নাম ম্য‌াগনাপরথে ওরিজা। এটির উদ্ভব কোথায় তা কেউ বলতে পারে না, তবে এশিয়ায় এর প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে গত বছর বাংলাদেশে। গত বছর ঠিক ফসল কাটার আগে সে দেশের ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ৬টি জেলার ফসল একেবারে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। এ বার সেই ছত্রাক সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়েছে যার প্রভাবে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা এবং নদিয়ায় প্রায় হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই গম পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় ছিল না।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ছত্রাক-আক্রান্ত জমির ফসল পুরোপুরি পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ছত্রাক আক্রান্তের চিহ্ন পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্য‌ে তা পুড়িয়ে না ফেললে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর প্রভাব শুধু যে ফসলের ওপর পড়ে তা নয়, মানুষ এবং জীবজগতেরও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ম্য‌াগনাপরথে ওরিজা সংক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্য‌েই গম গাছগুলি নুয়ে পড়ে। তখন আর কৃষকদের করার কিছু থাকে না। যে কারণে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ফসল আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ামাত্র কৃষি দফতর সমস্ত ফসল পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেছেন, ইতিমধ্য‌ে কোথায় কোথায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেই এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এই রোগ প্রথম দেখা যায় মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকে। ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহের মধ্য‌েই তা জলঙ্গি থেকে ডোমকল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একে একে আক্রান্ত হয় নওদা, রানিনগর, হরিহরপাড়া ব্লক। মুর্শিদাবাদের ৫০৯ হেক্টর জমির ফসল ইতিমধ্য‌েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য‌ের গরিব কৃষকদের পথে বসাতে এটা কোনো চক্রান্ত কিনা। কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কোনো আন্তজার্তিক বীজ বা সার সংস্থা চক্রান্ত করে পরীক্ষানিরীক্ষার নাম করে এই রোগের জীবাণু আমদানি করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই ছত্রাকজনিত রোগের নাম দিয়েছেন ‘হুইট ব্লাস্ট ডিজিজ’। বাংলাদেশ থেকে এই রোগ কী করে এ রাজ্য্ ঢুকল তা খুঁজে বের করতে কৃষি দফতর একটি বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল গঠন করেছে। তিন সপ্তাহের মধ্য‌ে তাদের এ ব্য‌াপারে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনোরকম নাশকতার ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। সে রকম কিছু ঘটলে উপযুক্ত ব্য‌বস্থা নেওয়া হবে।

এ দিকে রাজ্য‌ কৃষি দফতর কিন্তু গোটা বিষয়টি ইতিমধ্য‌ে কেন্দ্রকে জানিয়ে রেখেছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা যে ভাবে ছত্রাক সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তাতে অচিরে পার্শ্ববর্তী রাজ্য‌ আক্রান্ত হবে না তার কোনো গ্য‌ারান্টি নেই। সে দিকে তাকিয়ে দ্রুত ব্য‌বস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন