যমুনা চুলোয় যাক, ‘জয়যাত্রা’ চলুক শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের

0

খবর অনলাইন ডেস্ক : তাঁর কাছে মাথা নত করেন তাবড় তাবড় রাজনৈতিক নেতারা। তাঁর অঙ্গুলি হেলনে সেনাবাহিনী অস্থায়ী সেতু বানিয়ে দেয়। যমুনার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে জাতীয় পরিবেশ আদালত ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করার সাহস দেখান। উলটে জেলে যাওয়ার হুমকি দেন। তিনি শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। ‘আর্ট অব লিভিং’ খ্যাত রবিশঙ্কর।
এত জায়গা থাকতে ‘আর্ট অব লিভিং’-এর বর্ষপূর্তি উৎসব ‘ওয়ার্ল্ড কালচার ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করার জন্য তিনি বেছে নিলেন যমুনার চর। ওয়াকিব-হাল মানুষজন জানেন, দিল্লি ও তার সন্নিহিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই যমুনার উপর নির্ভরশীল, যে যমুনা নীল নয়, কার্যত আজ কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছে। যমুনার বাস্তুতন্ত্র আজ বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এবং এর পরেও ‘আর্ট অব লিভিং’-এর কার্যক্রম সহ্য করার ক্ষমতা সেই নদীর আছে কিনা, সেই প্রশ্ন পরিবেশবিদ মহলে উঠলেও প্রশাসন নির্বিকার। সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করার কোনও উদ্যোগ দেখা গেল না। বরং সেনাবাহিনী দু’টো সেতু বানিয়ে দিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পার্রীকরের মনে প্রশ্ন জাগল না, একটা বেসরকারি অনুষ্ঠানের জন্য সেনাবাহিনীকে কাজে নামানো হল কেন ? যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির দূষণ নিয়ে রীতিমতো চিন্তাভাবনা করে এক পক্ষ কাল ধরে শহরের রাস্তায় জোড়-বিজোড়ের খেলা চালালেন, সেই কেজরিওয়াল যমুনার পরিবেশ নিয়ে সমস্ত দুশ্চিন্তা শিকেয় তুলে ‘ওয়ার্ল্ড কালচার ফেস্টিভ্যাল’-এর অতিথিদের স্বাগত জানাতে মাঠে নেমে পড়লেন। দিল্লি হাইকোর্ট যখন স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জানাল, এই অনুষ্ঠান একটা বিপুল পরিবেশ-বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, তখনও সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করার কোনও উদ্যোগ দেখা গেল না। জাতীয় পরিবেশ আদালত পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে দায় সারল। আদালত স্বীকার করেছে এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির ফলে যমুনা অববাহিকার (রিভার বেসিন) ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু টাকার অঙ্কে সেই ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি টাকা, সেটাই বা নির্ধারণ হল কী ভাবে ?
পূর্ব দিল্লির যমুনার অববাহিকায় যেখানে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে, শহরের মূল রাস্তাগুলো থেকে তার দূরত্ব দু’-তিন কিলোমিটার। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছতে মাটির রাস্তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দু’টো বড় বাস যাওয়াও মুশকিল। একটা গাড়ি গেলেই ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে গোটা এলাকা। সকলেই যাওয়া-আসা করছেন মুখে রুমাল বেঁধে।
শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর কিন্তু মনে করেন তিনি কোনও অন্যায় করেননি। তাই পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, তিনি আদালতকে সম্মান করেন। কিন্তু পরিবেশ আদালত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তিনি মানেন না। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। শীর্ষ আদালত যদি একই রায় বহাল রাখে, তবে তিনি জেলে যাবেন।
এরই মধ্যে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভারতীয় কিসান মজদুর সমিতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একটি পিটিশন জমা করে। প্রধান বিচারপতি সেটি গ্রহণ না করে পাঠিয়ে দেন পরিবেশ আদালতে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “এত দিন ধরে প্রস্তুতি হচ্ছে আর এখন আপনারা এসেছেন। আপনারা কি প্রচারে আসতে চাইছেন ? আপনারা পরিবেশ আদালতেই যান।”
ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন ঝেড়ে ফেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুষ্ঠানে হাজির থাকছেন শুক্রবার বিকেল পাঁচটায়। সুতরাং রাখে কেষ্ট মারে কে! শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের অনুষ্ঠান যথারীতি হবে, যমুনা না হয় আরেকটু ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাক।

ছবি: ওয়ার্ল্ড কালচার ফেস্টিভ্যাল-এর টুইটার পোস্ট থেকে নেওয়া

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন