সানি চক্রবর্তী :

পি শ্রীজেশ আমার কাছে বড়ো দাদার মতো, অনুশীলনে যেমন পাশে থাকেন তেমনই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ও আরও ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করেন। কথাগুলো একটানা বলে থামলেন বিকাশ দাহিয়া। ভারতের অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিশ্বস্ত এই দূর্গপ্রহরীর হাতেই আটকেছিল অস্ট্রেলিয়া। শুটআউটের নায়ক ফাইনালেও বেলজিয়ামে বিরুদ্ধে মেলে ধরেছিলেন অসাধারণ পারফরম্যান্স।

দীর্ঘ ১৫ বছর পরে ভারতের জুনিয়ার ব্রিগেডকে বিশ্বসেরা করতে অন্যতম ভূমিকাটা নিয়েছিলেন বিকাশ। বড়োদিনের আবহে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিকাশ-সহ মোট আটজন সদস্যকে এ দিন সংবর্ধিত করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও বেঙ্গল হকি অ্যাসোসিয়েশন। সেখানেই একান্তে বিকাশ বলছিলেন কথাগুলো। বলছিলেন, “টানা দু’বছর ২ ঘণ্টার সাধারণ অনুশীলনের পরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের আলাদা প্র্যাকটিস করেছি। অলিম্পিকে দলের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ওল্টম্যান্স স্যার। শ্রীজেশ থাকায় খেলার সুযোগ না পেলেও সামনে থেকে দেখেছি ওদের খেলা। বড়ো দাদার মতো সব সময় পাশে থেকেছেন শ্রীজেশ।”

বিকাশ ছাড়াও দলের অধিনায়ক হরজিত, দলের দুই স্ট্রাইকার হরমনপ্রীত সিং, গুরজন্ত সিংরাও উপস্থিত ছিলেন। হরজিতও স্বীকার করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালটাই ছিল সব থেকে কঠিন ম্যাচ। ওই ম্যাচে জিতে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসটা দলের মধ্যে চলে এসেছিল। হরজিত আরও বললেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০১৮ বিশ্বকাপ ও ২০২০ অলিম্পিকে দেশের হয়ে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা দেওয়া।” সেই সুযোগ তৈরি করতে যে বেশ কয়েকটা ধাপ বাকি আছে তা মেনে নিয়েই সংযোজন করলেন, “আপাতত হকি ইন্ডিয়া লিগে খেলে সিনিয়র দলের নিয়মিত সদস্য হওয়াটা প্রাথমিক টার্গেট, তার পরে ধাপে ধাপে বাকিটা।”

উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপের পরেই বেশির ভাগ জুনিয়ার তারকা কলকাতায় এসেছেন ঐতিহ্যশাহী বেটন কাপে খেলতে। সেই খবর পেয়েই তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্রীড়মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে যাবতীয় দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ২৮ তারিখ জুনিয়ার দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। তার আগে এ দিন প্রত্যেকের হাতে ১০ হাজার টাকার সাম্মানিক পুরস্কার অর্থও তুলে দেওয়া হয়। বেটন কাপের মতোই কলকাতায় ঝিমিয়ে পড়েছে হকি খেলাও। কোনো মাতামাতি নেই। জুনিয়ারদের সংবর্ধনার দিনেও বাংলার হকির দৈন্যতাটা আরও একটু ফুটে উঠল। মোহনবাগান মাঠে শুরু হওয়া বেটনের স্মৃতিচারণার মাঝেই বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত বন্দোপাধ্যায় সভামঞ্চেই ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আবদার রাখলেন রাজ্যে অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানোর জন্য। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here