‘কাজ চাই’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লজ্জিত নই, জানিয়ে দিলেন নীনা গুপ্তা

0
612

মুম্বই: লোকে কী ভাবল, কী বলল, তা নিয়ে যে তাঁর কিছুই আসে যায় না, তার প্রমাণ তিনি বহু দিন আগেই দিয়েছেন। তাই ‘কাজ চাই’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানিয়ে আদৌ লজ্জিত নন তিনি।

তিনি জাতীয় পুরস্কার বিজেতা প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। ৬২ বছরের এই অভিনেত্রী কাজ চেয়ে শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন – “তিনি ভালো অভিনেত্রী, অভিনয়ের জন্য ভালো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছেন”। টুইটারে লেখেন, “আই লিভ ইন মুম্বই অ্যান্ড আই অ্যাম ওয়ার্কিং অ্যান্ড আই অ্যাম আ গুড অ্যাক্ট্রেস কোই কাম হ্যায় তো বতাও” (আমি মুম্বইয়ে থাকি, আমি কাজ করছি, আমি ভালো অভিনেত্রী, কোনো কাজ থাকলে জানাও)।

নীনা বলেছেন, “ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর নিজের জন্য খুব গর্ব অনুভব করছি। আমার মনে হচ্ছে, নিজেকে আবার নতুন করে হাজির করছি … এই বয়সে। তাতে কী হয়েছে? আমি তো মরে যাইনি। আমি পুরোপুরি ফিট, দেখতে ভালো এবং আমি এখনও অভিনয় করতে পারি। তা হলে কেন নয়? আমি আদৌ লজ্জিত নই।” হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিনিধির সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন প্রবীণ অভিনেত্রী।

মায়ের পোস্টটা রিপোস্ট করে কন্যা মাসাবা (ভিভিয়ান রিচার্ডস ও নীনার সন্তান) বলেছেন, “আমি ভেবেছিলাম মা আমাকে বকবে, বলবে ‘তুমি সোশ্যাল মিডিয়ার কিছুই জানো না, তুমি এই সব বাজে জিনিস পোস্ট করছো’। কিন্তু আমি যখন তাঁর পোস্টটা পড়লাম, আমি বুঝতে পারলাম, মা সব কিছুই বোঝে।” মাসাবা বলেছেন, মায়ের পোস্টটা পড়ে তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ রকম একটা পোস্ট কেন করতে গেলেন নীনা? নীনা বলেছেন, “সবাই ভেবেছে আমি বিয়ে করে দিল্লি চলে এসেছি, আমি আর কাজ করি না। আমি দেখছি আমার বয়সের অভিনেতাদের নানা রকম পার্ট দেওয়া হচ্ছে।”

অতি সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় তিনি বেশ হতাশ হন, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। নীনা বলেন, “একটা বেশ বড়ো ফিল্মে একটা সুন্দর দীর্ঘ রোল ছিল। আর আমি ডিরেক্টরকে ভালোই চিনি। ও অন্য এক জনকে নিয়ে নিল। যাঁকে নিলেন তিনি পাঞ্জাবিও নন, অথচ ভূমিকাটা এক জন পাঞ্জাবি মহিলার। আমি ওকে ফোনে ধরলাম, বললাম, ‘পাঞ্জাবি কা রোল মহারাষ্ট্রিয়ান কো দে রহা হ্যায়, মেরি উমর কা? তুনে মেরে কো কিঁউ নহি লিয়া?’ ও বলল, ‘সরি নীনা, মুঝে ধ্যান হি নহি আয়া। মুঝে লগা তু তো অব দিল্লি মেঁ রেহতি হ্যায় আওর কাম নহি করতি।’ এর পর সিদ্ধান্ত নিলাম। নতুন করে শুরু করার মতো যথেষ্ট সময় আমার আছে …  কাজ চাইতে মুঝে কোই শরম নহি হ্যায়।”

নীনা সম্প্রতি ‘দ্য মিউজিক টিচার’ নামে একটি ফিল্মে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। দু’ দশক আগে করা টিভি শো ‘সান্স’ যে লোকে এখনও মনে রেখেছে, তাতে তিনি আপ্লুত। তাঁর কথায়, “এই পেশাটা এমন, তুমি যদি কিছু দিনের জন্য কাজ না করো, লোকে তোমায় ভুলে যাবে। এটা অনেকটা আউট অব সাইট আউট অব মাইন্ড।”

নীনা স্বীকার করেন, বিয়ের পরে সক্রিয় ভাবে কাজ না করার সিদ্ধান্তটা জেনেবুঝেই নিয়েছিলেন, কারণ তাঁর স্বামী মোটামুটি একটা স্থায়ী কাজ করেন। “কিন্তু আমি দেখলাম উনি সারা দিন ওঁর কাজ নিয়ে ব্যস্ত আর আমি ওঁর জন্য অপেক্ষা করে সারা দিন বাড়িতে বসে থাকি। তাই ভাবলাম, এ ভাবে চলতে পারে না। তাই এখন বলি, বিশ্বে কোনো কিছুর জন্য কারওরই কাজ ছাড়া উচিত নয়” – বললেন নীনাজি।

আজকাল বেশির ভাগ অভিনেতা যেখানে পিআর প্রোমোশনস-এর ওপর নির্ভর করেন, সেখানে নীনা স্বীকার করেন, এটা তাঁর দ্বারা ঠিক হয় না। “যে কোনো  কারণেই হোক, এ ব্যাপারটায় আমি ঠিক বংশগত ভাবে উপযুক্ত নই। আমি খুব লাজুক প্রকৃতির মানুষ। কাউকে দীর্ঘ দিন ধরে চিনলেও, তাঁর কাছে কাজ চাইতে পারি না। আমি ভাবি কেউ না কেউ আমাকে ডাকবে। জানি, এই পেশায় এটা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। আবার অনেকে এটা ঔদ্ধত্য বলে ভুল করে। আমার পিআর ব্যাপারটাই ঠিকঠাক হয় না। আমি যতটা পিআর করতে পারি ততটা করলাম, আর নিজেকে তুলে ধরার জন্য কাউকে তো একটা পয়সাও দিতে হল না” – হাসতে হাসতে বলেন নীনা।

ছবি সৌজন্যে হিন্দুস্তান টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here