ভারতের তিন দিকে সমুদ্র। তাই এ দেশের উপকূল এলাকা সুদীর্ঘ। ভারতের পুবে বঙ্গোপসাগর। আর তামিলনাড়ু থেকে ওড়িশা উপকূল বরাবর বিস্তৃত পূর্বঘাট পর্বতমালা। যদিও এই পর্বতমালা পশ্চিমঘাটের মতো টানা নয় এবং বহু জায়গায় বিচ্ছিন্ন। পূর্ব উপকূলের সৈকতগুলোয় পাহাড়ের সঙ্গে সমুদ্রের মিতালি খুব একটা দেখা যায় না। তাই পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্ব উপকূলের সৈকতগুলো দীর্ঘ, শক্তপোক্ত, সমতল। আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে পূর্ব উপকূলের সৈকতে বৈচিত্র্য কম। তবু প্রতিটি সৈকতের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। তেমনই কিছু আপাত-অচেনা সৈকত-দর্শন খবর অনলাইনে।

বালিয়াড়া, পশ্চিমবঙ্গ

ধীবরদের গ্রাম বালিয়াড়া, গ্রামের নামেই সৈকত। ফ্রেজারগঞ্জের গায়েই। তবু পর্যটকদের পদধূলি তেমন একটা পড়ে না এই সৈকতে। ভাটার সময় ফ্রেজারগঞ্জ সৈকত থেকে বাঁ দিকে কিলোমিটার খানেক হাঁটলে পৌঁছে যাওয়া যায় এই বালিয়াড়ায়। নামখানা-বকখালি সড়কে ফ্রেজারগঞ্জ মোড়ের ঠিক আগে বেনফিশের স্টপে নেমে ভ্যান রিকশায় পৌঁছে যাওয়া যায় বালিয়াড়ায়।

চাঁদপুর, পশ্চিমবঙ্গ

দিঘা-শংকরপুর-মন্দারমণি-তাজপুরে মতো এখনও অতটা পরিচিতি পায়নি পূর্ব মেদিনীপুরের এই চাঁদপুর সৈকত। নির্জনতাই এর ইউএসপি। থাকার জন্য আছে একটিমাত্র হোটেল। কাঁথি-দিঘা সড়কে বালিসাই স্টপেজে নেমে গাড়ি বা রিকশায় চলে যাওয়া যায় চাঁদপুর।

পেন্থা, ওড়িশা

কী, নাম শুনে চমকে গেলেন তো? চাঁদিপুর-পুরী-গোপালপুরের বাইরে কত অজানা অচেনা সৈকত ছড়িয়ে আছে এই ওড়িশায়, তার হিসেব করা মুশকিল। এমনই একটি সৈকত পেন্থা। কটক থেকে বাসে ৯৫ কিলোমিটার দূরের রাজনগর। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের পেন্থায় আসতে হলে গাড়িই ভরসা। কটক থেকে পুরো পথ গাড়িতেও আসতে পারেন। এক নিরালা সৈকতে রাজ করবেন আপনি।

রুশিকুল্যা, ওড়িশা

প্রশান্ত মহাসাগরের বিরল প্রজাতির কচ্ছপ অলিভ রিডলের সব চেয়ে বড়ো প্রজনন সৈকত এই রুশিকুল্যা। ওড়িশার বিখ্যাত গোপালপুর অন সি ছাড়িয়ে আরও দক্ষিণে গেলে নিরিবিলি এই সৈকত। গঞ্জাম জেলার এই সৈকত ব্রহ্মপুর (বেরহামপুর) শহর থেকে সড়কপথে ২৮ কিলোমিটার।

ভিমুনিপত্তনম, অন্ধ্রপ্রদেশ

বিশাখাপত্তনম রেল স্টেশন থেকে সড়কপথে ৩২ কিলোমিটার। বাসে বা গাড়িতে চলে আসুন। গোস্থানি নদীর মোহনায় এই সৈকত। স্থানীয় মানুষজন আদর করে ডাকেন ভিমিলি বিচ।

 ইয়ারাদা, অন্ধ্রপ্রদেশ

বিশাখাপত্তনম শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরের এই সৈকতে মেলবন্ধন হয়েছে পাহাড় আর সাগরের। বিশাখাপত্তনমের খুব কাছে হলেও এই সৈকতে ভিড়ভাট্টা কম। অথচ অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য এই সৈকত ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত বলে বিবেচিত হতেই পারে।

সূর্যলঙ্কা, অন্ধ্রপ্রদেশ

বিজয়ওয়াড়া থেকে ৯২ কিলোমিটার, গুন্টুর থেকে ৬১ কিলোমিটার, বাপাতলা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সূর্যলঙ্কা সৈকতে থাকার জন্য রয়েছে অন্ধ্র পর্যটনের টুরিস্ট লজ। দু-একটা দিন বিশ্রামের পক্ষে আদর্শ জায়গা।

তরঙ্গমবাড়ি, তামিলনাড়ু

অতীতের ট্র্যানকিউবার, আজ হয়েছে তরঙ্গমবাড়ি। দিনেমারদের (ডেনমার্কের মানুষজন) উপনিবেশ ছিল এই ট্র্যানকিউবার। তার চিহ্ন রয়েছে সৈকত-সহ সারা শহর জুড়ে। তামিলনাড়ুর অল্পচেনা এই সৈকতে দু’টো দিন অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায়।

ধনুষ্কোডি, তামিলনাড়ু

১৯৬৪ সালের বিধ্বংসী ঝড়ের চিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধনুষ্কোডি সৈকত। রামেশ্বরম থেকে জিপে চলে আসুন এই সৈকতে। শেষ ৫-৬ কিলোমিটার পথ একেবারে সমুদ্রের ধার দিয়ে। নির্দিষ্ট কোনো পথ নেই। তাই শুধু জিপই ভরসা।

তিরুচেন্দুর, তামিলনাড়ু

তুতিকোরিন থেকে ৩৫, তিরুনেলভেলি থেকে ৫৯ এবং কন্যাকুমারী থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরের এই সৈকত মুরুগান (কার্তিক) মন্দিরের জন্যও বিখ্যাত। তাই এই সৈকতে আসা মানে এক সঙ্গে রথ দেখা আর কলা বেচা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here