jhapan

নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ধমান  শহর থেকে ২০ কিমি দূরে রায়না থানার গোপালপুর গ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দুরন্ত দামোদর। এলাকার ভৌগোলিক মানচিত্রে আলাদা কোনো বিশেষত্ব দেখা না গেলেও এক বিচিত্র উৎসবের জন্য বিখ্যাত  হয়ে উঠেছে  গোপালপুর। জীবন্ত বিষধর সাপ নিয়ে ৭০ বছর ধরে এই গ্রামে ধুমধাম করে পালিত হয়ে আসছে সয়লা ও  ঝাপান উৎসব।

মনসা পুজো উপলক্ষে  এখানকার মানুষেরা তাঁদের শরীরের সঙ্গে বিষধর জড়িয়ে নেন। তার পর চলে এক অদ্ভুত নৃত্য।  সঙ্গে চলে  গ্রামীণ সুরে  মনসামঙ্গলের গান-  ” দেখে যা গো বেহুলা, কত সুখে আছে তোর  বেহুলা । ”

পুরাণের গল্প অনুযায়ী গ্রাম বাংলার বেহুলা কাহিনী থেকেই জন্ম এই ঝাপান উৎসবের।  এই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আশোক কুমার সাঁতরা জানান, ” ঝাপান কথার অর্থ সয়লা বা বন্ধু। সাপেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই এই উৎসবের লক্ষ্য।  এক সময় এই গ্রামে সাপের উপদ্রবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছিলেন।  তখন এই গ্রামের কিছু মানুষ এই সাপেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য এই উৎসব চালু করেন। তার পর থেকেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে এই পুজো।  তবে এই ঝাপান এখন প্রতিযোগিতায় পরিণত  হয়েছে।  ১০ ও ১১ অগ্রহায়ন কোন সাপুড়ে কত ভয়ানক ও বিষধর সাপ নিয়ে খেলা দেখাতে পারেন, তা নিয়েই বর্তমানে জমজমাট গোপালপুর।

জানা গিয়েছে, এবারে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে এসেছে ১৮ জনের সাপুড়ের দল।  সঙ্গে এনেছে আলকেউটে, খইগোখরো, ময়াল, লাউডগা।  তাদের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে এই গ্রামের বাসিন্দাদের। গ্রামের সাপুড়ে বাবলু মাল জানান, তাঁরা ছোটোবেলা থেকেই  ঝাপানের জন্য প্রস্তুত থাকেন।  এবছর  বাঁকুড়ার বিরুদ্ধে লড়ায়ের বন্ধু হিসেবে থাকছে  কালনাগিনী,  শঙ্খচূড়,  চন্দ্রবোড়ার মতো সব বিষধর সাপ।  রীতি অনুযায়ী গোপালপুর থেকেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।  থাকে আর্থিক পুরস্কারও।

তবে সাপেদের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব হোক বা না হোক, এই গ্রামের কাছে ঝাপান এখনও এক বিরাট ধর্মীয় উৎসব।  পাশাপাশি সাপেড় কামড় সংক্রান্ত ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ার কাজও করে থাকে এই উৎসব। প্রচার করা হয় এখানে-  সাপের কামড়ে ওঝা নয়, ডাক্তারের কাছেই নিয়ে যেতে  হবে ব্যক্তিকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here