ছবিতে বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো!

0

ওয়েবডেস্ক: রবিবার যবনিকা পড়ল এ বারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। কোনো সন্দেহই নেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই শ্রেষ্ঠ ফাইনালে। অনেকের মতে, ইংল্যান্ড ম্যাচ না জিতেও বিশ্বকাপ জিতে গেল।

যা-ই হোক, রবিবারের ফাইনালের মতোই বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত আমাদের উপহার দিয়েছে এ বারের বিশ্বকাপ। সেগুলি কারও কারও কাছে আনন্দের, আবার কারও কারও কাছে দুঃখেরও। এরই মধ্যে কয়েকটি মুহূর্তের ছবি আমরা তুলে দিলাম আপনাদের জন্য।

১) সেমিফাইনালে ধোনির রান আউট

নিঃসন্দেহে এ বারের বিশ্বকাপের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটা। ধোনি ক্রিজে থাকা এবং না-থাকার মধ্যে অনেক কিছু ফারাক হতে পারত। মার্টিন গাপ্টিল, দুর্দান্ত থ্রো-এ ধোনিকে ফিরিয়ে দেন, আর তার পরেই হতাশায় ডুবে যায় ভারত। শেষ হয় ফাইনালে যাওয়ার ভারতের যাবতীয় সম্ভাবনার।

২) বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার সেমিফাইনালে হারল অস্ট্রেলিয়া

অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের এই ছবিটিই প্রমাণ করে দিচ্ছে, এই ব্যাপারটি হতে পারে ভাবতেই পারেননি তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া যত বারই সেমিফাইনালে গিয়েছে, জিতে ফাইনালে উঠেছে। এ বারই সেটা হল না। টুর্নামেন্টের সব থেকে জঘন্য ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ডের হাতে পর্যুদস্ত হল অস্ট্রেলিয়া।

৩) ইডেনে পেরেছিলেন, ম্যাঞ্চেস্টারে পারলেন না কার্লস ব্র্যাথওয়েট

অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলার মধ্যে মাত্র এক চুলের ফারাক। বাউন্ডারি লাইনে টিম সাউদি লাফিয়ে ক্যাচটি না নিলে, জিতে যেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর একার হাতে জিতিয়ে তিনিই হয়ে উঠতেন নায়ক। সেই কার্লস ব্র্যাথওয়েট, যিনি ২০১৬-এর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইডেনে শেষ ওভারে পর পর চারটে ছয় মেরে ট্রফি দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ানদের। এ বারও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে একার হাতে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অনবদ্য শতরান এল তাঁর ব্যাট থেকে। তবুও শেষরক্ষা হল না।

৪) একার হাতে সাউথ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিলেন উইলিয়ামসন

বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে ম্যাচটি জিততেই হত সাউথ আফ্রিকাকে। আর জেতার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েই ছিল। নিউজিল্যান্ডকে প্রায় নিজেদের কবজায় এনে ফেলেছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু তখনও যে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে দুর্দান্ত শতরান করে দলকে জেতালেন এবং ছিটকে দিলেন সাউথ আফ্রিকাকে।

৫) রক্ষাকর্তা যখন রোহিত

গত বিশ্বকাপে চারটে শতরান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সঙ্গকারা। এ বার সেই রেকর্ড ভেঙে পাঁচটা শতরান এল রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে। মাত্র ২৬ রানের জন্য সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ডটি তিনি ভাঙতে পারেননি। নইলে একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারীর মালিক তিনিই হতেন। গ্রুপ লিগে শীর্ষে থাকার পেছনে রোহিতের যে কত অবদান সেটা তামাম ভারতবাসীই জানেন।

আরও পড়ুন একদিনের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন বিরাট?

৬) বাংলাদেশের ত্রাতা শাকিব

বাংলাদেশ যে রকম বিশ্বকাপ অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল, সে রকম হয়নি। তিনটে ম্যাচ জিতলেও, আরও অন্তত দু’টি ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা ছিল তাদের, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। আর তা হলেই সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা থাকত তাদের কাছে। তবুও বাংলাদেশের নায়ক তো বটেই, এ বার বিশ্বকাপে যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে শাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট। যেন অতিমানবীয় কীর্তি। তাকে পেছনে রেখে টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ারের মুকুট উইলিয়ামসনের মাথায় ওঠায় বাংলাদেশের ক্রিকেটমোদীরা ক্ষুব্ধ হবেন তা তো বলাই বাহুল্য।

৭) স্টার্কের নিখুঁত ইয়র্কারে স্টাম্প ছিটকে গেল বেন স্টোক্সের

এ বার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। নিয়েছেন ২৭টা উইকেট। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর অন্যতম সেরা উইকেটটি এসেছিল গ্রুপ লিগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে। সেট হয়ে যাওয়ার বেন স্টোক্সের স্টাম্প নিখুঁত ইয়র্কারে তিনি উড়িয়ে দিলেন। স্টোক্স তো বোল্ড হলেনই, সেই সঙ্গে ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ভাগ্যও ডুবল।

৮) জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে থুতনি থেকে রক্ত অ্যালেক্স ক্যারির

বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা মুহূর্ত এটাকে বলা যেতেই পারে। ৭০-৮০-এর দশকের বিভীষিকাই যেন ফিরিয়ে আনলেন ইংল্যান্ডের জোফ্রা আর্চার। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারিকে দিলেন মারণ একটা বাউন্সার। সেটা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেলেন ক্যারি। হেলমেট খুলে হাতে চলে এল, সেই সঙ্গে থুতনি থেকে গলগল করে পড়তে শুরু করল রক্ত। যদিও ব্যান্ডেজ করে আবার ইনিংস শুরু করে ক্যারি।

৯) যে রান আউট বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ঠিক করে দিল

অনেকেই বলছেন যেমন কর্ম তেমন ফল। সত্যিই আজব এই ক্রিকেট খেলা। একদিন যিনি বিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে রান আউট করে দলকে ফাইনালে তুলতে পারেন, পরের দিনই তিনি রান আউটের মধ্যে দিয়েই বিশ্বকাপের ট্রফিটি মাঠে রেখে আসতে পারেন। এমনই হল মার্টিন গাপ্টিলের সঙ্গে। সুপার ওভারের শেষ বলে নিউজিল্যান্ডকে দুই রান করতে হত জেতার জন্য। গাপ্টিল এক রান নিয়ে দুই রানের জন্য ফিরতে গিয়েই রান আউটের শিকার হলেন। নিজের স্নায়ুকে ঠিকঠাক রেখে গাপ্টিলকে রান আউট করতে ভুল করেননি ইংল্যান্ডের জস বাটলার।

১০) আবার মন জিতল নিউজিল্যান্ড

২০১৫-এর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড। তবে সে বার একপেশে ম্যাচ হেরে গিয়েছিল বলে তাদের দুঃখ যতটা ছিল, এ বার দুঃখ অনেকটাই বেশি। কারণ এই ম্যাচে কোনো দলই যে জেতেনি। শুধুমাত্র ক্রিকেটের অদ্ভুত নিয়মের সৌজন্যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতে গেল। তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভালো খেলে এবং সব থেকে বড়ো কথা ভদ্র আচরণের মধ্যে দিয়ে তামাম ক্রিকেট বিশ্বের মন জয় করে নিল নিউজিল্যান্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.