স্মিতা দাস[/caption] ৮২তম বর্ষে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল ঠাকুরের সাজ। যে-সে সাজ নয়, এক্কেবারে সোনার শাড়ি। আর এ বারের দুর্গার ড্রেস ডিজাইনার হলেন অগ্নিমিত্রা পাল। প্রায় ২৪ কিলোগ্রাম ওজনের সোনা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দুর্গার শাড়ি। তার ওপর থাকছে মিনাকারি কাজ। শাড়ির কাজের বেশির ভাগটাতেই ব্যবহার করা হচ্ছে ফুল, পাখি, প্রজাপতি আর ময়ূরের নকশা। এগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি করা হবে ময়ূর আর প্রজাপতির নকশা। আর সেই বাহারি শাড়ি পরে দেবী পাড়ি দেবেন লেবুতলা থেকে লন্ডনে। অগ্নিমিত্রাদেবীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেমন লাগছে এমন একটা অন্য রকম কাজ করতে পেরে? অগ্নিমিত্রাদেবী জানান, তাঁর ক্লায়েন্টদের খাতার তালিকায় একটা নাম ‘দুর্গা’। বাকিদের ঝুল, বুক, মুহুরির মাপ নেওয়ার মতো দুর্গার মাপও নিচ্ছেন তিনি। আর এই কাজটা করতে পেরে তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, যেন দেবী দূর্গা নিজেই তাঁর গোটা পরিবারের জন্য এ বার পুজোর কাপড় তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন। যখন এই কাজটা করার অফার তাঁর কাছে আসে তিনি এক বারও ভাবেননি, সোজা হ্যাঁ করে দেন। প্রথম দিকে একটু চিন্তা হয়েছিল, গোটা কাজটা কী ভাবে সামলাবেন তা নিয়ে। এত বড়ো মাপের এক জন কাস্টমারের মাপজোক কী ভাবে নেবেন? কিন্তু পরে সবটাই আয়ত্তে এসে যায়। তিনি মনে করেন, ভগবানের ইচ্ছা ছাড়া তো এটা সম্ভবই ছিল না। কী ভাবে হচ্ছে কাজটা? তিনি বলেন, সাধারণত মানুষের শাড়ির মাপ হয় ৪৪ ইঞ্চি বহর। কিন্তু ৯ ফুট লম্বা মায়ের শাড়ির বহর বানাতে কাপড়ের সঙ্গে কাপড় জুড়ে বহর বাড়াতে হচ্ছে। প্রথমে মায়ের প্রতিমায় মাটি দিয়ে কুঁচির আকার করে নেওয়া হয়েছে। সেই মাপেরই ফাইবারের কুঁচি করা হয়েছে। সেই ফাইবারের কুঁচির ওপর ঢালাও সোনার পাত দিয়ে শাড়ি তৈরি হবে। শাড়ির খোলে মিনাকারি কাজ যেমন থাকবে, তেমনই তার সঙ্গে শাড়ির পাড়ে থাকবে অগ্নিমিত্রাদেবীর তৈরি কাপড়ের পাড়ের কাজ। তা হবে সম্পূর্ণ জরদৌসি ডিজাইনের। মায়ের গয়না কেমন ভেবেছেন? অগ্নিমিত্রাদেবী বলেন, ভারী শাড়ি। তাই সঙ্গের গয়না একটু হালকা হলেই ভালো খোলতাই হবে। সব ক’টাকে আলাদা আলাদা ভাবে বোঝা যাবে। তবে গয়নার দায়িত্বে আছেন শিল্পী মিন্টু পাল নিজেই। মিন্টুবাবু বিশেষ ধরনের গয়না বানাবেন তাঁরই নির্দেশ অনুযায়ী। এত গেল মায়ের সাজ। বাকিদের ব্যাপারে? অগ্নিমিত্রাদেবী বলেন, তাঁদের জন্য যদিও সোনার জামাকাপড় নেই তবুও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের জনপ্রিয় শাড়ি-কাপড় থাকবে। থাকবে এক্সক্লিউসিভ ডিজাইনের কাঞ্জিভরম, বালুচরী, ইক্কত, কাঁথা কাজের শাড়ি। তবে গোটা কাজটা রংবেরঙের হলেও সাদার ভাবটাই বেশি থাকবে। মূলত চার দিকের অশান্তির আবহে শান্তির কামনায় এই সাদার ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে। আর তুলে ধরতে চাওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে। শিল্পী মিণ্টু পাল বলেন, এটা একটা অভিনব উদ্যোগ। এর আগে বহু কাজ করলেও এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং কাজ তিনি করেননি। এত বড়ো ঠাকুরকে সোনার কাপড় পরানো মোটেই সহজ কথা নয়। তাও শুধু সোনা নয়, সোনার সঙ্গে কাপড় মিলিয়ে কাজ হচ্ছে। ২৪ কেজির সোনার শাড়ি দিচ্ছে সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড। সংস্থার কর্ণধার শঙ্কর সেনকে প্রশ্ন করেছিলাম, এই কাজটা করতে পেরে কেমন লাগছে? শঙ্করবাবু বলেন, ব্যাপারটা খুবই অভিনব, এখানে কাপড় আর সোনাকে এক সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দেবীর সোনার মুকুট, গয়নার ডিজাইন এর আগের বার একটা পুজো কমিটিতে তাঁরা করেছিলেন। তাই একটা সামান্য অভিজ্ঞতা ছিলই। যদিও দু’টো ব্যাপার এক্কেবারেই আলাদা। আপাতত ৬ কোটি টাকার সোনা ব্যবহার করা হয়ে গেছে। তবে কাজটা সম্পূর্ণ হওয়ার পর ঠিক হিসেবটা পাওয়া যাবে। পুজো কমিটির প্রেসিডেন্ট প্রদীপ ঘোষ বলেন, তাঁদের হাতেই থিমের জন্ম ১৯৯৬ সালে। তাঁরা প্রতি বারই অভাবনীয় কিছু করার চেষ্টায় থাকেন। তা সে ট্রেন দুর্ঘটনা হোক বা জঙ্গি হানা। তাই এ বারের ভাবনাও এক্কেবারে অন্য রকম। এর আগের বারের ঠাকুরের ডায়মন্ড সেটের গয়না ছিল। এ বারে সোনার শাড়ি। তবে মায়ের সাবেক রূপ নিয়ে কোনো রকম কাটাছেঁড়া হবে না। এ বার প্রায় পুরো রাজ্যই বানভাসি। লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে। এই অবস্থায় তাঁরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দুর্গাকে সোনার শাড়ির পরানোর ব্যাপারে ভাবছেন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে? প্রদীপবাবু বলেন, বন্যার সমস্যা পুজোর আগে প্রতি বারই হয়। তা বলে কি মানুষ আনন্দ করবে না? কষ্ট ভুলে থাকতে চাইবে না? বন্যাদুর্গতদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছে ক্লাব। তা ছাড়া সারা বছর স্থায়ী সমাজসেবা, জনসেবামূলক কাজ তাঁরা বিরামহীন ভাবে করে যান। সেখানে কোনো খামতি থাকে না।

এ তো গেল ঠাকুরের প্রসাধনের হালহকিকত। কিন্তু মণ্ডপের থিম কী? উত্তরে পুজো কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বরূপবাবু বলেন, এ বারের থিম ‘লেবুতলা থেকে লন্ডন’। কারণ লন্ডনের সঙ্গে কলকাতার যোগ বহু দিনের। ইংরেজের রাজত্বে ভারতের প্রথম রাজধানী ছিল কলকাতা। সেই স্মৃতিকে তুলে ধরে কলকাতায় লন্ডন নেমে আসবে। লন্ডন বললে যা যা স্মৃতি মনে আসে সেই সব কিছুই থাকবে লেবুতলা পার্কে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে কোহিনুর হীরে, আরও অনেক অনেক কিছু। সে দেশের বহু স্থাপত্যকে তুলে ধরা হবে মণ্ডপচত্বরে। শিয়ালদহ বাসস্টপে নেমে শিয়ালদহ বাজারের রাস্তায় কলেজ স্ট্রিটের দিকে যেতে খানিকটা হেঁটেই বিশাল পার্ক। পার্কে মণ্ডপ।]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন