Connect with us

দুর্গা পার্বণ

বাণীকুমার ও মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’

রাত পোহালেই শিউলি ফোটা শরতের সেই ভোর। বেজে উঠবে সেই সুর, যে সুরের মায়াজালে বাঙালি বন্দি ৮৪টা বছর। সেই সুর সৃষ্টির অন্যতম কারিগর বাণীকুমারকে স্মরণ করেছেন পাপিয়া মিত্র। পরনে কোঁচানো ধুতি ও পাঞ্জাবি, গায়ের রং ফর্সা, ঝকঝকে কালো পাম্পশু, মুখে পান, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। মাথার সামনের দিকের অংশ কিছুটা ফাঁকা হলেও পেছনে ও কানের […]

Published

on

papya_mitraরাত পোহালেই শিউলি ফোটা শরতের সেই ভোর। বেজে উঠবে সেই সুর, যে সুরের মায়াজালে বাঙালি বন্দি ৮৪টা বছর। সেই সুর সৃষ্টির অন্যতম কারিগর বাণীকুমারকে স্মরণ করেছেন পাপিয়া মিত্র।

পরনে কোঁচানো ধুতি ও পাঞ্জাবি, গায়ের রং ফর্সা, ঝকঝকে কালো পাম্পশু, মুখে পান, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। মাথার সামনের দিকের অংশ কিছুটা ফাঁকা হলেও পেছনে ও কানের দু’পাশের চুলটি বড়ো সুন্দর। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। গায়ে মিষ্টি আতরের গন্ধ। গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারা। সব কিছুর মধ্যেই এক শিল্পীসুলভ ভাব। মুখে তাঁর জর্দা মেশানো পান। আতরও মাখতেন তিনি। জুঁইফুলের আতর ছিল তাঁর খুব প্রিয়। এ হেন মানুষটি যে এত কঠিন হতে পারেন কে বলবে?

বলতে পারে অতীত।

১৯৩২-এ বাণীকুমারের প্রযোজনায় সম্প্রচারিত হল শারদ-আগমনী গীতিআলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। তখন এটি ঘিরে তীব্র আপত্তি ওঠে। ধর্মকে যারা চিরদিন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায়, সেই রক্ষণশীলদের পক্ষ থেকে। প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল – এক অব্রাহ্মণ ব্যক্তির কন্ঠে কেন চণ্ডীপাঠ শোনা যাবে? রুখে দাঁড়ালেন বাণীকুমার। গ্রন্থনা ও চণ্ডীপাঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রই করবেন এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন তিনি। আর মায়ের এই আরাধনায় মুসলমান শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবেন৷ সে-ও আটকাবে না কিছুতেই৷ মা শুধু হিন্দুর মা নন। এই লড়াকু মনোভাব লেখা ছিল যেন মজ্জায়৷ অন্য একটি আপত্তিও ছিল, মহালয়ার সকালে পিতৃতর্পণের আগেই কেন চণ্ডীপাঠ হবে? এ কারণে কয়েক বছর অনুষ্ঠানটি ষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু শেষে বাণীকুমারের সিদ্ধান্ত মেনেই মহালয়ার ভোরেই প্রচারিত হয়ে আসছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী।

একই রকম জেদি মনোভাব দেখিয়েছিলেন পঞ্চাশের দশকেও। যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন বোম্বাই, রিহার্সাল করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। বাণীকুমার বেঁকে বসলেন, সুতো ছেঁড়া যাবে না। হোক তারকা, তবু বাদ হেমন্ত। দুর্ভাগ্য শচীন গুপ্তের, সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও গাওয়া হল না হেমন্তের ‘জাগো দুর্গা’। বর পেলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, আর সেই থেকেই অমর হয়ে রইলেন দ্বিজেন।

কে এই বাণীকুমার?

baniবাণীকুমারের আসল নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। জন্ম ১৯০৭-এর ২৩ নভেম্বর। পিতা সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ বিধুভূষণ ভট্টাচার্য ও মা অপর্ণা ভট্টাচার্য। তাঁদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। আদি নিবাস ছিল হুগলির আঁটপুর। জ্যেষ্ঠ পুত্র বৈদ্যনাথের জন্ম হয় হাওড়ার কানপুর গ্রামের মাতুলালয়ে। বৈদ্যনাথ হাওড়া জেলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ওই স্কুলের শিক্ষক-কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উৎসাহে কাব্যরচনায় মন দেন বৈদ্যনাথ। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পিতা, পিতামহ, সকলেরই সংস্কৃতে ব্যুৎপত্তি ছিল এবং সম্ভবত সেই কারণেই বৈদ্যনাথও সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করে ‘কাব্যসরস্বতী’ উপাধি পান। এটা পরে তাঁর কর্মজীবনে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছিল। সংস্কৃত পঠন উপলক্ষেই বৈদ্যনাথ বাগবাজারে পণ্ডিত অশোকনাথ শাস্ত্রীর সংস্পর্শে আসেন। ইচ্ছে থাকলেও সংসারের চাপে পড়াশোনা আর বেশি দূর এগোয়নি। টাঁকশালে চাকরি নিলেন বৈদ্যনাথ। গৌরী ভাট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

সৃষ্টিশীল মন নিয়ে টাঁকশালের কলম পেশায় তাঁর মন ছিল না। সময় ১৯২৭। ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্থাপিত হয় কলকাতা বেতারকেন্দ্র। সেই সময় একটি বেতারনাটকের জন্য কলকাতা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ হল বৈদ্যনাথের। ১৯২৮-এ একুশের যুবক টাঁকশালের চাকরি ছেড়ে যোগ দিলেন রেডিওতে। সরকারি চাকরি ছেড়ে যে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়িয়েছিলেন ওই যুবক, তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই সময় বেতারকেন্দ্রের ভারতীয় অনুষ্ঠান বিভাগের অধিকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদারের আগ্রহে ওখানে যোগ দিয়েছিলেন রাইচাঁদ বড়াল, পঙ্কজকুমার মল্লিক, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র প্রমুখ শিল্পী। রাইটার স্টাফ আর্টিস্ট হয়ে কাজে যোগ দেন বৈদ্যনাথ – নাম নেন ‘বাণীকুমার’।

সাধারণ মানুষের কাছে যে ভাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত পঙ্কজকুমার ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ, সেই তুলনায় একটু হয়তো আড়ালেই থেকে গিয়েছেন বাণীকুমার। অথচ মূল অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও রচনা বাণীকুমারেরই। অনুষ্ঠানটি সফল ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বাণীকুমারের সঙ্গে পঙ্কজকুমার মল্লিক ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম অবশ্যই স্মরণীয়। বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও পঙ্কজকুমার মল্লিক ছিলেন একই বৃন্তের তিনটি কুসুম।

বাণীকুমার নিজের লেখাতেই জানিয়েছেন, “এ কথা বলা বাহুল্য যে আমাদের কয়জনের আন্তরিক সাধন দ্বারা এই মহিমাময় চণ্ডী-গাথা সকল শ্রেণীর জনবর্গের প্রার্থনীয় হয়েছে।… ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ কলিকাতা বেতারের তথা বাংলার একটা কীর্তি স্থাপন করেছে।”

পণ্ডিত অশোকনাথ শাস্ত্রী’র ঠাকুরঘরে বসে লেখা শুরু করেন বাণীকুমার৷ কিছুটা লেখেন, আর পড়ে শোনান বন্ধু অশোকনাথকে৷ অশোকনাথ শোনেন, আলোচনা করেন, তথ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন। বাণীকুমার লিখে চলেন৷ আর লিখেই বসে যান আর এক অক্লান্ত পথিকের সঙ্গে৷ রাজার রোয়াব যাঁর সঙ্গীতে, তিনি পঙ্কজকুমার মল্লিক৷ অহরহ বৈঠক৷ আর ঘরময় সুরের পরশ৷ এক লাইন এক লাইন করে কোরাস নির্মাণ, পর্দার আড়ালে হাজার রাগ৷ পিলু, খম্বাজ, আহির ভৈরব, মালকোষ…পঙ্কজকুমার তখন সে আবহে এমনই আশক্ত, যে রাতের রাগ মালকোষকে ব্যবহার করলেন ভোরের সে মুহূর্তে৷ কর্ণাটকী শৈলির রাগ অনায়াসেই মিশ খেল অন্য ঘরানায়৷ আর বাণীকুমার, বন্ধু পঙ্কজের কাছে নতুন আত্মজকে সমর্পণ করে আবার ঢুকে গেলেন ঘোর-মধ্যে৷ যে ঘোরে প্রতিনিয়ত ডুব দিয়ে বাণীকুমার তুলে আনছেন মুক্তো-হিরে-চুনি-পান্না। ভোর চারটেয় তরঙ্গে ভাসা শুরু ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র৷ আরম্ভে তিন বার শঙ্খধ্বনি, আর তার পরই বীরেন ভদ্রের অমর হয়ে যাওয়া স্বর৷

বাণীকুমার এই শঙ্খ বাড়ি থেকে বেতারকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন। মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে ফুঁ দিতেন৷ শুরুর নির্দেশ৷ পরে গৌর গোস্বামী বাঁশি দিয়ে বা কখনও শৈলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ক্ল্যারিওনেটে তুলে দিতেন এই সুর। তখন তো লাইভ ব্রডকাস্টের যুগ৷ দীর্ঘ বিশ-বাইশ দিনের অবিরাম মহড়া চলত পঙ্কজ মল্লিকের নেতৃত্বে। সকলের উপস্থিতি চাই। এক দিকে সারেঙ্গি ধরতেন মুন্সি, চেলোয় ওঁরই ভাই আলি, হার্মোনিয়ামে খুশি মহম্মদ, বেহালায় তারকনাথ দে, ম্যান্ডোলিনে সুরেন পাল, গিটারে সুজিত নাথ, এসরাজে দক্ষিণামোহন ঠাকুর, পিয়ানোয় রাইচাঁদ বড়াল, নক্ষত্রের সমাহার৷ আর এ সবের অন্য পিঠে গায়কদের নিয়ে একা বাণীকুমার। প্রত্যেকের সংস্কৃত উচ্চারণ ঠিক চলছে কিনা। এমনকি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রেরও৷ তিনি শুরুর দিকে সংস্কৃত বেশ কিছু কথা অনেকটা বাংলার মতো উচ্চারণ করে বলতেন, যা অধ্যাবসায়ের জোরে শেষে এমন বসল ওঁর গলায়, যে একটা ভিন্ন ধারাই তৈরি হয়ে গেল। বাণীকুমারের কথা ছিল, আগে মানে বুঝতে হবে প্রতিটি শব্দের, সে তুমি কোরাসই গাও না কেন, উপলব্ধি করতে হবে ভাব, তার পর মিলবে ছাড়। সোজা পঙ্কজবাবুর সান্নিধ্যে এক বিস্তর মহাযজ্ঞ।

এবারেও বোধনের আগে আর এক বোধনের কথা ছড়িয়ে পড়ছে আশ্বিনের শারদ হাওয়ায়। কচুরি জিলিপির দোকানে অর্ডার চলে গিয়েছে পঙ্কজকুমারের। এরই মধ্যে বেতারকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে পড়েছেন বাণীকুমার গঙ্গার দিকে যাবেন বলে।

দুর্গা পার্বণ

হরিঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীনের পুজোয় বাদ দেওয়া হচ্ছে পুজোর একাধিক আচার

Published

on

স্মিতা দাস

আটচালার মণ্ডপ করে একদম ছোটো করে পুজো করবেন হরিঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীনের আয়োজকরা। এক চালচিত্রের প্রতিমার সেই সাবেক রূপই হবে এই বছরের আকর্ষণ

৮১তম বর্ষ করোনাগ্রাসে। ফলে পুজোটা করাই এ বছরের সব থেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তাই সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটা সম্ভব ছিমছাম ভাবে হবে এই বছরের পুজো। তাই এই বছরের ট্যাগ লাইন ‘সুস্থ হোক বসুন্ধরা, চাই না এ বার নজরকাড়া। আতঙ্ক তুমি বিদায় হও, নিয়ে সবার যাতনা। মায়ের কাছে এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা’।

পুজো কমিটির কর্মকর্তা সুরজিত সেন বলেন, করোনার কারণে কাটছাঁট করা হয়েছে অনেক কিছুই। যেমন নবমীর দিনের ৫৬ ভোগ এ বার হবে না। এ দিনের মহাযজ্ঞও বন্ধ রাখা হবে। এই যজ্ঞে অনেক ভিড় হয়, শুধু পুরোহিতই থাকেন ১১ জন। তার পর আরও সবাই, চলে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে। তাই সেটিও এই বারে বন্ধ। অঞ্জলি কী ভাবে হবে সেই নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সিঁদুরখেলাতেও যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা যায় সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।

বাজেট প্রায় ৪০% কমে গিয়েছে। নিজেদের চেষ্টায় করা হচ্ছে পুজো। সরকারি নিয়ম মেনে ৩ দিক খোলা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মাতৃপ্রতিমাও একচালা। মোট উচ্চতা ১২ ফুট। প্রতিমা গড়ছেন শ্রীদাম পাল। প্রতি ঘণ্টায় গোটা মণ্ডপ স্যানিটাইজ করা হবে। থাকবে থার্মাল স্ক্রিনিং, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থা।

উদ্বোধন হবে চতুর্থীতে। বিসর্জন হবে দশমীর দিন। কোনো রকম আড়ম্বর ছাড়াই।

গত বছরের থিম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়-এর দেড়শো বছর উপলক্ষ্যে ‘বর্ণপরিচয়’।

কলেজ স্ট্রিটের দিকে যেতে বিধান সরণিতে হেদুয়া পার্ক বাসস্টপে নেমে উলটো দিকে বিডন স্ট্রিটে ঢুকে ডান হাতের প্রথম গলি হরি ঘোষ স্ট্রিট। একটু এগোলেই মণ্ডপ।

আরও – করোনাকালে আড়ম্বর থাকবে না, তবুও থাকবে চমক তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

করোনাকালে আড়ম্বর থাকবে না, তবুও থাকবে চমক তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

এই বারের ট্যাগ লাইন, ‘মা তোমার কাছে কিছু চাই না, খালি করোনা মুক্তি ছাড়া’।

Published

on

স্মিতা দাস

৫৫তম বর্ষে তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন। করোনার গ্রাসে তেলেঙ্গাবাগানে হচ্ছে না থিম। তার প্রথম ও অন্যতম কারণ হল কন্টেনমেন্ট জোনে রয়েছে এই পুজো। অনেক কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে, পাড়ার বয়স্কদের বহু বারণ সত্ত্বেও আয়োজন করা হয়েছে পুজোর। তবে তার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বহু নিয়ম ও সচেতনতার। এই বারের ট্যাগ লাইন, ‘মা তোমার কাছে কিছু চাই না, খালি করোনা মুক্তি ছাড়া’।

ঠিক কী ভাবে হচ্ছে এই বছরের পুজো?

এই ব্যাপারে ক্লাবের অফিস সেক্রেটরি অমৃত সাউ বলেন, এই বারের মণ্ডপ একদম সাধারণ। চার দিক খোলা। ঢোকা বেরোনোর পথ আলাদা আলাদা। তবে সাবেকি ঠাকুর। প্রতিমাতেই থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। বিশেষ করে প্রতিমার মুকুটে থাকবে চমক। দর্শকরা দেবী মূর্তি দেখে মুগ্ধ হবেনই।

চালচিত্র নিয়ে এ বারের প্রতিমার উচ্চতা ১২ ফুট। শিল্পী ভাস্কর প্রদীপ রুদ্র পাল গড়ছেন ঠাকুর।

অমৃত জানান, ঢোকার মুখেই রাস্তার ওপর থাকবে জায়েন্ট স্ক্রিন। সেখান থেকেই দর্শকরা ঠাকুর দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ভেতরে ঢোকারও দরকার পড়বে না। ফলে ভিড় এড়ানো যাবে। মাস্ক, থার্মাল স্ক্রিনিং, দূরত্ব বজায় রাখতে গোল গোল দাগ থাকবে ঢোকার রাস্তায়। মাটি থেকে দশ ফুট খোলা থাকবে মণ্ডপ।

অষ্টমীতে অঞ্জলি হবে বাড়িতে বসেই, বাড়ির ঠাকুরের সামনে। মাইক দিয়ে মণ্ডপ থেকে ঠাকুরমশাই মন্ত্র পাঠ করবেন। সেই শুনে অঞ্জলি দেবেন এলাকাবাসী। পরে সুবিধেমতো এসে মণ্ডপে রাখা ঝুড়িতে ফুল দিয়ে যাবেন। পরিবর্তন করা হয়েছে ভোগের দিন ক্ষণে। অষ্টমীতে নয়, নবমীতে হবে ভোগ।

প্রতি বছরের মতোই মানুষের কাছে বার্তা তুলে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে এ বছর করোনা নিয়েই বার্তা থাকবে। বাজেট ৭০% কাট করা হয়েছে। এই বারের বাজেট ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। চাকচিক্য নেই, লাইটের রমরমাও নেই।

অমৃতবাবু জানান, এখনও পর্যন্ত ব্যানার স্পনসর, স্টল ইত্যাদি নিয়ে কোনো ফোনও আসেনি। সেই নিয়ে চিন্তিত কর্মকর্তারা।

এই বছরের উদ্বোধন তৃতীয়াতে, বিসর্জন পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই হবে।

গত বছরের থিম ছিল ‘পুনর্জন্ম’।

খান্না থেকে উলটোডাঙার দিকে যেতে অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে বাঁ দিকে তৃতীয় পূজামণ্ডপ।

আরও – পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Published

on

বকশিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজোয় নানা রীতি, নানা আচার পালন করা হয় বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। কোথাও দেবীর ভোগে অন্ন থাকে, আবার কোথাও দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। মৃন্ময়ী মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন, কোথাও তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী আবার কোথাও তিনি সিংহবাহিনী।

বঙ্গের পুজোয় কুলাচারের নিয়ম প্রতিটি বাড়িতেই বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এবং এটাই বঙ্গের সংস্কৃতি যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত। তেমনই পশ্চিম বর্ধমানের বকশিবাড়িতে দেবীর পদতলে বিরাজ করেন সিংহের পরিবর্তে বাঘরাজ। এই বাড়ির পুজো প্রায় ২৬২ বছরের পুরোনো।

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশি বংশের আদিপুরুষ কিশোরীমোহন দাস ছিলেন বৈষ্ণবভক্ত। বর্ধমানের মহারাজাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিশোরীবাবু। তাঁর সেই ক্ষমতা দেখে তাঁর সাধ্যমতো উপকার করার প্রতিশ্রুতিও দেন বর্ধমানের মহারাজা। এর পর কিশোরীমোহন দাস সস্ত্রীক বৃন্দাবনে যান এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুত্রের নাম রাখা হয় গোবর্ধন। এই গোবর্ধন দাস ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। বর্ধমানের মহারাজা তাঁর অসীম ক্ষমতা দেখে তাঁকে প্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে বকশি উপাধি প্রদান করেন। গোবর্ধন দাসের সূত্রেই সূচনা হল বকশি বংশের।

১৭৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে দেশীর রাজাদের সঙ্গে ইংরেজদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় গোবর্ধন বকশি ছিলেন বর্ধমান মহারাজার প্রধান সেনাপতি। যুদ্ধ চলাকালীন গোবর্ধনবাবু একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। মা তাঁর মূর্তিপূজা শুরু করতে বলেন। মা বলেন, তাঁর মূর্তিপূজা করলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর বংশকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। মা স্বপ্নাদেশেই জানিয়ে দেন, তাঁর যে মৃন্ময়ীরূপের পুজো হবে, সেই রূপ তিনি দাঁইহাটের এক শিল্পীকে স্বপ্নাদেশে বর্ণনা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজয়নগরের গাছতলায় তাঁর যে শিলামূর্তি রয়েছে, তা এনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করারও আদেশ দেন মা।   

মায়ের মুখ।

এর পর দেবীর আদেশানুসারে গোবর্ধন বকশি শিলামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাঁইহাটের শিল্পীর সাহায্যে মূর্তি তৈরি করে শুরু করেন বংশের দুর্গাপুজো, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথের দিন মায়ের কাঠামোয় মাটি দিয়ে। এই বাড়ির মূর্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান পাশে থাকেন শ্রীলক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী ও গণেশ। দেবীর দুর্গার আটটি হাত ছোটো, কাঁধে বসানো এবং বাকি দুটি হাত স্বাভাবিক। ছোটো আটটি হাতের অস্ত্র মাটির এবং ত্রিশূলটি রুপোর তৈরি। এই বকশিবাড়িতে মায়ের বাহন হলেন বাঘ।

বকশি পরিবার বৈষ্ণব হলেও দেবীর আদেশে বলিদান প্রথা পালন করা হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য শুভদীপ বকশি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী ও মহাষ্টমীতে একটি করে ছাগ এবং মহানবমীতে তিনটি ছাগ, একটি মহিষ, চালকুমড়ো এবং আখ বলিদান হয়। এই বাড়ির দেবীকে কোনো শাড়ি পরানো হয় না। পুরো সাজটাই হয় রাজস্থানী ঘাঘরা দিয়ে। মায়ের মন্দিরের ভেতরে কোনো বেদি নেই। দেবীর আদেশে মন্দিরের ভেতরের মেঝেটি পুরোটাই মাটির।

বকশিবাড়ির পুজোয় ১২০ জনেরও বেশি ঢাকি আসেন। ঢাকের লড়াই চলে গ্রামের সরকারবাড়ির সঙ্গে বকশিবাড়ির। এ এক চিরন্তন প্রথা। বকশিবাড়িতে পুজোর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় – নাচ, নাটক, গান ইত্যাদি। বকশিবাড়ির খ্যাপা মাকে দর্শন করতে মানুষ ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে, জড়ো হন এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। পুজোর চার দিন ঠাকুরদালানে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

বকশিবাড়ির কুলদেবতা হলেন গোপাল। পুজোর সময় মায়ের সামনে গোপালকে রেখে তাঁর পুজো করা হয়। এই ভাবে পুজোর নানা প্রথা আঁকড়ে রেখে এবং সাবেক ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয় বকশিবাড়ির খ্যাপা মায়ের।

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

Continue Reading
Advertisement
Uncategorized4 hours ago

সরষের তেল থেকে এলপিজি হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, কাল থেকে যে ১০টি নিয়ম বদলে যাচ্ছে

Coronavirus durga puja
দেশ4 hours ago

ওনামেই বিপদ বাড়ল কেরলের, পুজোর আগে শিক্ষা নিতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে

Uttar Pradesh Police
দেশ4 hours ago

আটকে রাখা হল পরিবারকে, ঘেঁষতে দেওয়া হল না সংবাদমাধ্যমকে, হাতরাসের তরুণীর শেষকৃত্য করল পুলিশ

corona
দেশ4 hours ago

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও সুস্থ হলেন আরও বেশি মানুষ, সক্রিয় রোগী আরও কমল ভারতে

দেশ5 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৮০৪৭২, সুস্থ ৮৬৪২৮

mamata banerjee and sonia gandhi
রাজ্য5 hours ago

নয়া কৃষি আইন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি কংগ্রেসের

suresh raina
ক্রিকেট5 hours ago

সংঘাত চরমে, ওয়েবসাইট থেকে সুরেশ রায়নার নাম মুছে দিল চেন্নাই সুপারকিংস

Rapes in India
দেশ6 hours ago

দৈনিক ৮৭টি ধর্ষণের ঘটনা ভারতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য এনসিআরবির

দেশ5 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৮০৪৭২, সুস্থ ৮৬৪২৮

দেশ3 days ago

জল্পনার অবসান! নীতীশ কুমারের দলে যোগ দিলেন বিহারের প্রাক্তন ডিজি

north bengal rain
রাজ্য2 days ago

অতিবৃষ্টির হাত থেকে অবশেষে রেহাই পেল উত্তরবঙ্গ, আপাতত স্বস্তি

covid peak india
দেশ1 day ago

১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সক্রিয় রোগীর গ্রাফ নিম্নমুখী, কোভিডের চূড়া কি অবশেষে পেরোল ভারত?

Ration Card and Aadhaar Number
প্রযুক্তি2 days ago

অনলাইনে সত্যিই কি রেশন কার্ডে আধার লিঙ্ক করা যায়?

ganges cruise
কলকাতা2 days ago

মাত্র ৩৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে উপভোগ করুন ‘হেরিটেজ ক্রুজ’

coronavirus
দেশ1 day ago

দেশে নতুন কোভিড-আক্রান্তের সংখ্যা গত ২৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন, ব্যাপক পতন মৃত্যুর সংখ্যাতেও

low pressure west bengal rain
রাজ্য2 days ago

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসতে পারে নিম্নচাপ, তত দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিই ভরসা দক্ষিণবঙ্গের

কেনাকাটা

কেনাকাটা13 hours ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা2 days ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা5 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা6 days ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 week ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা2 weeks ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা3 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা3 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

নজরে