সৌরশক্তি, বায়ুশক্তিতে জ্বলছে আলো, পথ দেখাল চালতাবাগানের পুজো

0

স্মিতা দাস[/caption] চালতাবাগানের ঠাকুর কলকাতা শহরের অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু কেউ কি জানেন এই মণ্ডপের প্রতিটা আলো জ্বলেছে অপ্রচলিত শক্তির সাহায্যে। প্রায় ২৫ কিলোওয়াট প্রতি দিন লাগছে এই গোটা মণ্ডপের আলোকসজ্জায়। আর এই বিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে সৌরশক্তি আর বায়ুশক্তি থেকে। গত দশ বছর ধরে এই একই ভাবে চালতাবাগানের দুর্গাপুজোর আলো জ্বালানো হয়ে আসছে বলে খবর অনলাইনকে জানালেন গীতাঞ্জলি  সোলার এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা অনুপম বড়াল। চালতাবাগানের পুজোর বয়স ৭৫ বছর। গত ন’ বছর ধরে এখানে সৌরশক্তির সাহায্যে আলো জ্বালানোর পর এ বছর একটা বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌরশক্তির সঙ্গে বায়ুশক্তিও তৈরি হচ্ছে। একে বলে হাইব্রিড সিস্টেম। মণ্ডপের ভেতরেও এই মিলিত শক্তির আলোই রয়েছে। সঙ্গে অপ্রচলিত শক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে মণ্ডপে। রয়েছে স্লোগানও। রয়েছে বিশাল সেন্ট্রাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। প্রতি আলোর ওপরে রয়েছে সোলার প্যানেল আর উইন্ড টারবাইন। বৃষ্টির কথা ভেবে রয়েছে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য এনার্জি স্টোরের ব্যবস্থা। টানা দু’ দিন বৃষ্টিতেও এই সঞ্চিত শক্তি দিয়েই আলো জ্বালা সম্ভব। অনুপমবাবু প্রায় ৩৩ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে। তিনি বলেন, অপ্রচলিত শক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম। তাই মানুষকে সচেতন করতেই মূলত পুজোমণ্ডপকে বেছে নেওয়া। সেখানে হাজারে হাজারে মানুষের ভিড় হয়। আর কোনো ভালো বার্তা দিয়ে চাইলে এক সঙ্গে অনেক মানুষ পাওয়াটা জরুরি। প্রথম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পাড়ার পুজোতেই এই শক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পর চালতাবাগান যোগাযোগ করে, এই ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়। ফলে বেশ কিছুটা প্রচার হয়। এ বছর সন্তোষপুরের দু’টো মণ্ডপে এই শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। [caption id="attachment_54030" align="aligncenter" width="484"]anupam boral অনুপম বড়াল[/caption] তাপশক্তির ব্যবহারের ফলে দূষণ যেমন বাড়ছে, খরচও বেশি। পাশাপাশি মাটির নীচ থেকে জীবাশ্ম থেকে সৃষ্ট কয়লা তুলে নেওয়ার ফলে তা সঞ্চয়ও প্রায় শেষ হতে বসেছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামগ্রিক স্বার্থের কথা ভেবে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারও এই ব্যাপারে প্রচার চালাচ্ছে। ১০০ গিগাওয়াট শক্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্যারিস চুক্তিতেও এই ব্যাপারে কথা হয়েছে। অনুপমবাবু বলেন, এই ব্যাপারে জনগণকেই তো এগিয়ে আসতে হবে। লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ বলা যায়। তিনি বলেন, এই প্রজেক্ট প্ল্যান্টের খরচ ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়লে খরচ কমে। দেশপ্রিয় পার্ক-সহ বেশ কিছু এলাকায়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, হোটেলে, আবাসনে, হাসপাতালে এই শক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। অনেক রাজ্যে গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েও গিয়েছে। এ রাজ্যে খুব শীঘ্রই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। অপ্রচলিত শক্তি সম্পর্কে যুব সমাজকে সচেতন করতে বিভিন্ন কলেজেও এই শক্তির ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে অনুপমবাবু জানান। প্রশিক্ষণের জন্য যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গীতাঞ্জলি সোলার এন্টারপ্রাইজেও পাঠানো হয়। সরকারি উদ্যোগেও কম খরচে বা নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রশিক্ষণের খরচ খুব বেশি নয়। সাধারণের সাধ্যের মধ্যেই। বর্তমানে বহু মানুষ তাঁদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারছেন এই শক্তির সঙ্গে নিজেকে নানা ভাবে জড়িয়ে।]]>

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here