30 C
Kolkata
Friday, June 18, 2021

আজ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস ভক্তসমাগম ছাড়াই পালিত হচ্ছে

আরও পড়ুন

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সনাতনী হিন্দুধর্মে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সেবাকাজে তাঁর এগিয়ে আসা এবং সর্বোপরি সমস্ত ধর্মের মধ্যেই পরমব্রহ্ম ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা, এ যেন এক অভূতপূর্ব নিদর্শন। আজ তাঁর তিরোধান দিবস পালিত হচ্ছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে। এই উৎসবের ছোঁয়া থেকে বাদ নেই বাংলাদেশও।

Loading videos...
- Advertisement -

১৭৩০ সালের ৩১ আগস্ট (১৮ ভাদ্র, ১১৩৭ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন যশোহর জেলায় (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সে দিন ছিল জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথি। উত্তর চব্বিশ পরগণার ঠিক কোথায় তাঁর জন্ম, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান নিয়ে নিত্যগোপাল সাহা হাইকোর্টে মামলা করেন। কোর্ট রায় দেয় যে কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাবা লোকনাথ। তবে বহু মানুষের আজও বিশ্বাস উত্তর চব্বিশ পরগণারই চাকলায় তাঁর আবির্ভাব ঘটে।

তীর্থভ্রমণে লোকনাথ

পিতামাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন লোকনাথ। সবার কাছে খুবই আদরের পাত্র ছিলেন ছোট্টো লোকনাথ। তাঁর দীক্ষাগুরু ছিলেন সাবর্ণ গোত্রীয় মহাপণ্ডিত ভগবান চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়। উপনয়নের পরই তাঁকে নিয়ে তীর্থভ্রমণে বের হন ভগবান, সঙ্গে ছিলেন লোকনাথ-সঙ্গী বেণীমাধব।

গুরুর সঙ্গে দুই শিষ্য তীর্থভ্রমণে বেরিয়ে প্রথমে এসেছিলেন মহাতীর্থ কালীঘাটে। সেই সময় থেকেই তাঁদের সন্ন্যাসজীবনের শিক্ষা দিতে থাকেন গুরু ভগবান গঙ্গোপাধ্যায়। শেখাতে থাকেন কঠোর উপবাসের সাধনা। তার পর বিভিন্ন তীর্থভ্রমণের পর গুরু ভগবান গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর দুই শিষ্যকে ত্রিকালজ্ঞ বাবা ত্রৈলঙ্গস্বামীর কাছে দিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। গুরুর আদেশমতো লোকনাথ ব্রহ্মচারী কঠোর সাধনায় ব্রতী হন।

কচুয়া আশ্রমে গত বছরের ভিড়।

বাবা লোকনাথ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন এবং লোকহিতৈষী কাজে নিজেকে অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। চিনদেশে প্রায় তিন মাস বন্দি থাকার পর ঢাকার কাছে বারদি গ্রামে এসে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে তিনি বারদির ব্রহ্মচারী বলেই বেশি পরিচিত। লোকনাথকে নিয়ে বহু প্রচলিত উক্তি রয়েছে ভক্তদের মধ্যে। কেউ তাঁকে শিবজ্ঞানে আবার কেউ তাঁকে কালীজ্ঞানে ভাবতে ভালোবাসেন। বারদির আশ্রমে থাকাকালীন তিনি বহু অসাধ্য সাধন করেছিলেন। বহু রোগীকে তিনি তাঁর সাধনক্ষমতার দ্বারা সুস্থ করে তুলতেন।

লোকনাথের অলৌকিক ক্ষমতা

ফৌজদারি মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে ডেঙ্গু কর্মকার নামে এক ব্যক্তি বাবা লোকনাথের কাছে এসে তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়েন। বাবা তাঁকে অভয় দেন। যে মামলা কখনোই জেতার কথা নয়, বাবা লোকনাথের কৃপায় তা সহজেই জিতে গেলেন ডেঙ্গু কর্মকার। বাবার আধ্যাত্মিক শক্তি এবং মনোরম ব্যবহার দেখে ডেঙ্গু তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং আমৃত্যু তাঁর সঙ্গে কাজ করে যান।

বাবা লোকনাথের নাম চার দিকে ছড়িয়ে পড়তেই বারদির লোভী ব্রাহ্মণসমাজ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। নানা ভাবে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। একবার জমিদারের ইচ্ছায় কামাখ্যা নামের এক অহংকারী কালীপূজকের কাছে বাবা লোকনাথকে তাঁর সিদ্ধিজ্ঞানের প্রমাণ দিতে বলা হয়। বাবা লোকনাথকে কামাখ্যা  কথা দেন, যদি বাবা লোকনাথ সিদ্ধপুরুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, তা হলে কামাখ্যা তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন। বাবা লোকনাথকে ধুতরা ফুল এবং সাপের বিষ দেওয়া হয়। চিতাও সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। বাবা লোকনাথ স্বেচ্ছায় সব গ্রহণ করেন। বাবাকে অজ্ঞান অবস্থায় চিতায় শোয়ানোও হয়। কিন্তু চিতায় আগুন দিতে যাওয়ার সময় লক্ষ করা হয় তাঁর ওপরে অবিরত ধুতরা ফুল পড়ছে। এ ছাড়াও তিনি তাঁর মাকে বলেছিলেন যে তাঁর মায়ের হাতের দুধ তাঁর মৃত্যুকেও জয় করতে পারে। সে জন্য তাঁর মা তাঁকে দুধ পান করিয়ে দেন চিতায় শয়নরত অবস্থায়। বাবা লোকনাথ দ্রুত সুস্থ হয়ে চিতা থেকে উঠে আসেন। পুরো ব্রাহ্মণসমাজ বিহ্বল। সবাই বাবা লোকনাথের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এমনকি কামাখ্যাও। এমন বহু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি।

চাকলাধামে লোকনাথ বিগ্রহ।

লোকনাথের তিরোধান

১২৯৭ বঙ্গাব্দে বারদিতে বাবা লোকনাথের প্রয়াণ হয়। আজ বৃহস্পতিবার বাবার তিরোধান দিবস পালিত হচ্ছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে কোনো ভক্তসমাগম ছাড়াই এ বছর এই দিবস পালিত হচ্ছে বলে জানাল কচুয়া লোকনাথ মিশনে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে কথা হল সুব্রত কুমার দের সঙ্গে। তিনি জানালেন, পুজো যেমন হয় তেমনই হচ্ছে, তবে কোনো ভক্তকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সকালে বাবার মঙ্গলারতি দিয়ে উৎসব শুরু হয়েছে। তারপর বাল্যভোগ নিবেদন করা হয়েছে। এই দিনে বাবা লোকনাথকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। ভোগে থাকবে পোলাও, নানান ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগ নিবেদন করা হবে।

এর পাশাপাশি চাকলা ধামের আশ্রমও বন্ধ রয়েছে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। প্রতি বার তিরোধান দিবসে এখানে ৭২ ঘণ্টা হোম হয়। এ বার সেই হোম হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। শুধুমাত্র মন্দিরের পুরোহিতরাই হোমে যোগ দিচ্ছেন বলে জানালেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নিত্যপূজা, বাল্যভোগ, দুপুরে বাবা লোকনাথের রাজবেশ সবই হচ্ছে। বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে বলে জানান বাসুদেববাবু।

প্রতি বছর দর্শনার্থীদের যে ভিড় লক্ষ করা যায় কচুয়া ও চাকলাধামে, এ বছর স্বাভাবিক ভাবেই সেই ভিড় দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ছোট্টো নির্মলাসুন্দরী একদিন হয়ে উঠলেন সবার মা আনন্দময়ী

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

- Advertisement -

আপডেট

আচমকা ধস, সেবক-রংপো রেল টানেলে দুর্ঘটনায় মৃত ২ শ্রমিক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টির কারণে আচমকা ধস নামল সেবক-সিকিম রেল টানেলে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ শ্রমিকের। আহত হয়েছেন ৪...

পড়তে পারেন