Connect with us

দোল উৎসব

কলকাতার নন্দনবাড়িতে তিনশো বছর ধরে চলেছে গোপীনাথের দোল

গোপীনাথ নন্দনবাড়ির কুলদেবতা নন। তিনি এসেছিলেন শম্ভুচরণ পাত্রের পরিবার থেকে।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

রাত পোহালেই দোল। এই উৎসব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অতি প্রাচীন কালে থেকেই পালিত হচ্ছে। তুলনায় নবীন শহর কলকাতাতেও তার প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই এই উৎসব পালিত হয়। কলকাতার বহু বনেদিবাড়িতে আজও তাদের কুলদেবতাদের নিয়ে দোলযাত্রা পালন করা হয়।

Loading videos...

ঠাকুরদালানে দশভূজার জাঁকজমক থাকলেও রাধাকৃষ্ণের দোল উৎসবও কোনো অংশে কম যায় না। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলের নন্দন পরিবারের দোল উৎসবও খুবই প্রাচীন। প্রচলিত লোককথায় এই বাড়ির গোপীনাথ আনুমানিক তিনশো বছরের প্রাচীন। সেই গোপীনাথকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় দোলযাত্রা।

এই পরিবারের দোল উৎসব পালিত হয় গোপীনাথ, শ্রীধর এবং শ্রীরাধারমণকে কেন্দ্র করে। পরিবারে দুর্গাপুজো হলেও দোল উৎসবও সাড়ম্বরেই পালিত হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য সৌভিক নন্দন। তবে গোপীনাথ নন্দনবাড়ির কুলদেবতা নন। তিনি এসেছিলেন শম্ভুচরণ পাত্রের পরিবার থেকে। শম্ভুচরণ পাত্রের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তিনি তাঁর সেজো মেয়ে বন্দনা দেবীকে গোপীনাথের সেবার দায়িত্বভার দেন। বন্দনা দেবী বিবাহসূত্রে নন্দনবাড়ির কুলবধূ হওয়ায় গোপীনাথও চলে আসেন এই পরিবারে।

এই গোপীনাথ অষ্টধাতু দ্বারা নির্মিত বিগ্রহ। নিত্যপূজায় তাঁকে নানা রকমের মিষ্টান্ন, চিঁড়ে, খই, দই, তাম্বুল সহযোগে ভোগ দেওয়া হয়। দোলপূর্ণিমার আগের দিন হয় ন্যাড়াপোড়া, পরের দিন ভোরবেলায় হয় দেবদোল।

তবে গোপীনাথের পঞ্চমদোল উৎসবই ধুমধাম করে পালন করা হয়। সারা দিন দোল খেলার পর বিকেলে অভিষেক হয় দুধ, দই, ডাবের জল, মধু ইত্যাদি নানা উপাচারে। তার পর রাজবেশে সেজে ওঠেন তিনি। এ দিন কোনো অন্নভোগ হয় না। তাই নানা রকমের মিষ্টি, ফুটকড়াই ইত্যাদি দিয়েই ভোগ দেওয়া হয়। এ বছরও একই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে পুজো হবে বলেই জানালেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে গঙ্গাবারি দিয়ে মহাপ্রভুর অভিষেক করতে পারেন সব ভক্তই

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দোল উৎসব

দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে গঙ্গাবারি দিয়ে মহাপ্রভুর অভিষেক করতে পারেন সব ভক্তই

এ বছর মহাপ্রভুর ৫৩৬তম আবির্ভাবতিথি।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোলপূর্ণিমা বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এক অতি পুণ্য তিথি। তবে এই পূর্ণিমা আপামর বৈষ্ণবসমাজের কাছে গৌরপূর্ণিমা হিসাবেই বেশি পরিচিত। এই দিনই জগন্নাথ-পত্নী শচীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিমাই, পরবর্তী কালে যিনি হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।

Loading videos...

পণ্ডিতেরা বলেন, ১৪৮৬ বঙ্গাব্দের দোলপূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব। তাই এই দিনটিতে নবদ্বীপের বিভিন্ন মন্দিরে যে পুজো হয়, তার মূলে থাকেন পরম প্রেমময় নিমাই। সারা বছর তিনি আপামর ভক্তের কাছে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু বা ‘রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু’ শ্রীচৈতন্য হলেও এই একটি দিনে তিনি কেবলই সদ্যোজাত শিশু নিমাই। প্রতি বছর নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে সাড়ম্বরে পালিত হয় নদিয়াবিহারীর আবির্ভাবতিথি। করোনা-আবহে এ বারেও তার অন্যথা হচ্ছে না।

মহাপ্রভুকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হত। শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের পত্নী সীতাঠাকুরানি মহাপ্রভুকে নিমগাছের নীচে জন্মগ্রহণ করতে দেখে নিমাই বলে ডাকতেন। মহাপ্রভুর গৌরবর্ণ দেখে প্রতিবেশীরা গৌরহরি বলে ডাকতেন। আবার তিনি জগতের ধারণ ও পোষণ করবেন বলে জ্যোতিষ-শাস্ত্রবিদ্ চক্রবর্তী মহাশয় তাঁকে বিশ্বম্ভর নামে অভিহিত করেন। অন্য দিকে তিনি শ্রীকৃষ্ণাবতার এবং জীবকে চৈতন্য দান করবেন বলে এসেছেন, এমনটাই মনে করতেন কেশব আচার্য। তাই তিনি তাঁকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য আখ্যা দেন। যে নামেই তাঁকে অভিহিত করা হোক না কেন, দোলপূর্ণিমা তিথিতে তিনি আমাদের আদরের নিমাই।

সোনার গৌরাঙ্গ।

এ বছর মহাপ্রভুর ৫৩৬তম আবির্ভাবতিথি। এই দিনটি সকলের কাছে খুবই মাহাত্ম্যপূর্ণ। কথা হচ্ছিল প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভুর দশমপুরুষ প্রভুপাদ শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামী বিদ্যারত্ন প্রথম নবদ্বীপে এসে শ্রীবাস অঙ্গনে সেবা পেয়েছিলেন এবং তার পর থেকেই গোস্বামী পরিবারের সদস্যরা এই শ্রীবাস অঙ্গনের সেবার দায়িত্বভার পান। তার আগেও এই শ্রীবাস অঙ্গনে মহাপ্রভুর বিগ্রহ থাকলেও সেবা খুব মলিন ছিল। তার পর প্রভুপাদ শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামী এসে নিজের হাতে মহাপ্রভুকে সেবা করেন। নবদ্বীপচন্দ্রের পুত্র প্রভুপাদ শ্রীপ্রতাপচন্দ্র গোস্বামী নবদ্বীপে সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন।

প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর সঙ্গে কথায় কথায় জানা গেল, মহাপ্রভুর সময়কার শ্রীবাস অঙ্গনে সেই সময় মাটির মন্দির ছিল। পরবর্তী কালে নাটমন্দির সহ মূল মন্দির তৈরি করা হয়। প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর কথায় এই মন্দিরের বয়স প্রায় ১৫০ বছর।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মের পাঁচশো বছরের বেশি পরেও চৈতন্যধামে দোলের দিন শুধু মহাপ্রভুর আবির্ভাব উৎসব পালিত হয়। এ বছর শ্রীবাস অঙ্গনে শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে মহোৎসব, চলবে ২ এপ্রিল অবধি। প্রথম দিন সন্ধ্যায় অধিবাস সম্পন্ন হবে। গৌরপূর্ণিমার দিন সকালে নগরকীর্তন নবদ্বীপের বিভিন্ন মন্দির পরিক্রমা করবে, এমনটাই জানালেন প্রভুপাদ শ্রীনিধি গোস্বামী। দোলপূর্ণিমার দিন সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ উঠলেই বেজে উঠবে শতেক শাঁখ, ঘণ্টা, মৃদঙ্গ ইত্যাদি। শুরু হয়ে যাবে মহাপ্রভুর মহাভিষেকপর্ব, পঞ্চামৃত এবং সুগন্ধি অভিষেকবারির মাধ্যমে। এই সময় সব ভক্তই মহাপ্রভুকে গঙ্গাবারির মাধ্যমে অভিষেক করাতে পারেন শ্রীবাস অঙ্গনে। অভিষেকের পর প্রভুকে রাজবেশ পরানো হয়।

ধামেশ্বর মহাপ্রভু।

পর দিন ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মতনই শ্রীবাস অঙ্গনেও পালিত হয় প্রভুর অন্নপ্রাশন। লালচেলিতে শিশু সাজে। ধামেশ্বর মহাপ্রভুর দুর্লভ দর্শনে ভক্তেরা আসেন শিশুর খেলনা নিয়ে। খাদ্য তালিকায় তরকারি থেকে মিষ্টি, সবই থাকে ৫৬ রকম করে। সেই দিন শ্রীবাস অঙ্গনে সাধুসেবার পাশাপাশি বরানগর পাঠবাড়ির রামদাস বাবাজি মহাশয়ের অনুগত ভক্তবৃন্দের দ্বারা স্বপ্নবিলাস কীর্তন হবে। কীর্তনের রেশ ধরে উৎসবের সুর ছড়িয়ে পড়েছে মহাপ্রভুর পাড়ার ঘরে ঘরে –

“জয় শচীনন্দন জয় গৌরহরি/বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণনাথ নদীয়াবিহারী।”

উৎসবের তিন দিন ধরে অহোরাত্র নামসংকীর্তন এবং ভাগবতপাঠ হয়। শ্রীবাস অঙ্গনে পঞ্চমদোলই মূল অনুষ্ঠান হিসাবে পালিত হয়। আগের দিন চৌষট্টি মহন্তের ভোগ হয় এবং সেই দিন প্রতাপচন্দ্র প্রভুর ছোটো পুত্র চৈতন্যচন্দ্র গোস্বামীর তিরোভাব তিথি উপলক্ষ্যে সূচক-কীর্তনও হয়। পঞ্চমদোলের সকালে হোলি-কীর্তন এবং রাত্রে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভুর বিগ্রহ নিয়ে নগর সংকীর্তন বের হয়। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাবতিথি পালিত হয় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রীবাস অঙ্গনে নানান বিধিনিষেধ থাকছে। প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামী জানালেন, শ্রীবাস অঙ্গনে ভক্তদের জন্য মাস্ক, স্যনিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই ভক্তদের আসতে হবে এ বার। মহাপ্রভুর অভিষেকের দিনও মন্দিরে ভক্তের ভিড় এড়াতেই লাইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ইত্যাদি।

শুধুমাত্র শ্রীবাস অঙ্গনেই নয়, গৌরপূর্ণিমার দিন চৈতন্য বিগ্রহের প্রতীক হিসাবে জগন্নাথ মিশ্রের গৃহে পূজিত ‘রাজরাজেশ্বর’ শিলাকে ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানোর পর ষোড়শোপচারে হয় অভিষকপর্ব। গৌরাঙ্গদেবকে পরানো হয় শিশুর চেলি।

আরও পড়ুন: শ্রীপাট খড়দহে শ্যামসুন্দরের দোল এক অন্য ঐতিহ্য বহন করে

Continue Reading

কলকাতা

কলুটোলার মতিলাল শীলের বাড়িতে ধুমধাম করে পালিত হয় পঞ্চমদোল

মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Published

on

কলুটোলায় মতিলাল শীলের বাড়ি।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোল হল মিলনের উৎসব। এক সঙ্গে সবাই মিলে আবিরে আবিরে রঙের উৎসব পালন করে। এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্দিরে, এমনকি বনেদিবাড়ির ঠাকুরদালানেও এখন সাজোসাজো রব। তবে  সব বাড়িতেই যে দোলপূর্ণিমাতেই উৎসব হয় তা নয়, কোনো কোনো বাড়িতে পঞ্চমদোল আবার কোনো কোনো বাড়িতে সপ্তমদোলও পালিত হয় মহাসমারোহে।

Loading videos...

উত্তর কলকাতার কলুটোলা অঞ্চলের মতিলাল শীলের বাড়িতে পঞ্চমদোল উৎসব পালিত হয়। শীলবাড়ির নাম করলেই যাঁর নাম প্রথমে মনে আসে, তিনি হলেন দানবীর মতিলাল শীল, যিনি আর্থিক অনটনের মধ্যে বড়ো হলেও পরবর্তী কালে নিজ ক্ষমতায় আর বুদ্ধিবলে প্রভূত উন্নতি করেন। ইতিহাসবিদের মতে, সেই সময় এমন কোনো ব্যবসা ছিল না, যেখানে মতিলাল শীল বিনিয়োগ করেননি।

তবে মতিলাল শীলের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল সমাজসংস্কার। বিধবাবিবাহ প্রচলন এবং সতীদাহ রদের আন্দোলন নিয়ে তখন উত্তাল বাংলা। চলছে রাধাকান্ত দেব ও রামমোহন রায়ের মধ্যে আদর্শগত বিরোধও। ঠিক সেই সময়ে ধর্মসভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিধবাবিবাহের উপযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মতিলাল।

কথা হচ্ছিল শীলবাড়ির সদস্য ইন্দ্রপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এঁদেরই পঞ্চমদোল পালিত হয় শীলবাড়িতে।

চাঁচড়ের পাশে শ্রীধর জিউ।

কৃষ্ণাচতুর্থীর দিন সন্ধ্যায় শ্রীধর জিউ ঠাকুরঘর থেকে দালানে আসেন এবং সেখানে হোম হয়। তার পর উঠোনে যেখানে চাঁচড় বাঁধা থাকে সেখানে যান। সেখানে পুজো, ভোগ ইত্যাদি নানা নিয়ম পালনের পর বাড়ির সকল সদস্য শ্রীধর জিউ সমেত চাঁচড় প্রদক্ষিণ করেন এবং তার পর চাঁচড় পোড়ানো হয়। ন্যাড়াপোড়ার পর ঠাকুর আবার দোলমঞ্চে আসেন এবং সেখানেই সারা রাত থাকেন।

এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শীলবাড়িতে ঠাকুরের ভোগের জন্য তৈরি হয় নাড়ু, পানতুয়া, গুড়ের মালপোয়া, ক্ষীরের মালপোয়া, খাস্তা কচুরি, নিমকি, লুচি-সহ আরও নানা পদ।

পঞ্চমীর দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয় এবং তার পর পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরকে আবির দেন। দেবদোলের পর শ্রীধর আবার ঠাকুরঘরে চলে যান এবং তার পর আবার আসেন দোলমঞ্চে, সেখানেই দোলের ভোগ নিবেদন আরতি ইত্যাদি হয়।

দালানে শ্রীধর জিউ।

তবে শ্রীধর দালানে উপস্থিত থাকলেও লক্ষ্মীঠাকুরানি ঠাকুরঘরেই থাকেন। তিনি কেবলমাত্র দুর্গাপুজোর সময় দালানে আসেন। দোলের দিন সন্ধ্যায় আরতির আগে প্রাচীন প্রথা মেনে ব্রাহ্মণ-বিদায় হয়। বংশপরম্পরায় তাঁরা এখনও বিদায় নিতে আসেন। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে দোল উৎসব পালিত হয় কলুটোলার শীলবাড়িতে।

আরও পড়ুন: শ্যামরায় ও রাধাকান্তের দোল নিয়ে মেতে থাকেন সাবর্ণ চৌধুরীরা

Continue Reading

দোল উৎসব

শ্যামরায় ও রাধাকান্তের দোল নিয়ে মেতে থাকেন সাবর্ণ চৌধুরীরা

এ ছাড়া সাবর্ণদের পানিহাটির বাড়িতে রাধাগোবিন্দের দোল এবং আড়িয়াদহের মন্দিরে দোল উৎসব খুবই বিখ্যাত।

Published

on

সাবর্ণদের রাধাকান্ত।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোলযাত্রা মানের রঙের উৎসব, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন ছোটো থেকে বড়ো, সকলেই। রঙের উৎসবে মন্দিরের দালান যেমন সেজে ওঠে ঠিক তেমনই প্রতিটি মানুষ একে অপরকে আবির দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

Loading videos...

সাবর্ণবাড়ির দোল উৎসব দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ভিড় করত। এই বাড়ির দোল শুধু পূর্ণিমাতেই পালন করা হয় না, পূর্ণিমার পর পঞ্চমী তিথিতে পঞ্চমদোল এবং সপ্তমী তিথিতে সপ্তমদোলও পালিত হয়। বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাবর্ণ পরিবারের প্রায় উত্তরপুরুষরা মিলিত হন দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে।

রায় চৌধুরীদের দোল অনুষ্ঠিত হত তাদের কাছারিবাড়িতে (বর্তমানে রাইটার্স বিল্ডিং), সেখানে তাদের পরিবারের শ্যামরায় জিউ ছিলেন। দোলের দিন পরিবারের সদস্যরা রঙ খেলে কাছারিবাড়ি সংলগ্ন দিঘিতে স্নান করতে নামতেন এবং আবিরের রঙে দিঘির জল রঙিন হয়ে উঠত। তাই সেই দিঘির নাম হয় লালদিঘি।

সেই শ্যামরায়ের দোল আজও অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা এখন হয় হালিশহরে সাবর্ণদের বাড়িতে। সপ্তমদোলের দিন ধুমধাম করে পালিত হয় শ্যামরায়ের দোল। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন করা হয়।

হালিশহরের শ্যামরায়।

দোলের আগের দিন চলে চাঁচর পোড়ানো। পালকিতে করে নারায়ণকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই নেড়াপোড়া অনুষ্ঠানে। পরের দিন ভোরে শ্যামরায়কে নিয়ে যাওয়া হয় দোলমঞ্চে এবং সেখানেই দেবদোল অনুষ্ঠিত হয় চালের নৈবেদ্যভোগ নিবেদনের মাধ্যমে। তার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবির দেন। সারা দিন দোল খেলার পর বিকালে শ্যামরায়ের অভিষেক হয় এবং তার পর ভোগ নিবেদন হয়। এই সপ্তমদোলে মেতে ওঠেন হালিশহরবাসী। এ যেন এক ঐতিহ্যের উৎসব।

হালিশহরের পাশাপাশি বড়িশায় সাবর্ণদের বাড়িতেও দোল উৎসব পালিত হয়। বড়িশায় দোল হয় রাধাকান্ত মন্দিরে। সাবর্ণ কুলতিলক সন্তোষ রায় চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত এই বিগ্রহ। সন্তোষ রায় তাঁর মাতুলালয় থেকে এনেছিলেন রাধাকান্তকে এবং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বড়িশায়।

দোলপূর্ণিমার আগের দিন রাধাকান্ত মন্দিরে বিশেষ পূজা হয়, হোমও হয়। তার পর নারায়ণকে পালকিতে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দ্বাদশ শিবমন্দির সংলঙ্গ মাঠে, সেখানেই চাঁচড় পোড়ানো হয়। অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর নারায়ণ আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। পরের দিন ভোরে হয় দেবদোল। পরিবারের সদস্যরা রাধাকান্ত ও শ্রীমতীকে নিয়ে আসেন দোলমঞ্চে। সেখানেই সবাই তাঁদের আবির দেন। সারা দিন

রাধাকান্ত ও শ্রীমতী।

দোল খেলার পরে আটচালায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের, সেখানেই হয় অভিষেকপর্ব। দই, দুধ, মসুরডাল বাঁটা, চিনি, ডাবের জল, আতর, কর্পূর ইত্যাদি নানা উপাচারে স্নান করানো হয় রাধাকান্তকে। তার পর রাজবেশ পরানো হয় এবং সেই দিন নানা পারিবারিক গহনা দিয়ে সাজানো হয় তাঁদের। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দোলের বিশেষ পূজা করেন। হোম ও ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে শেষ হয় রাধাকান্তের দোল।

এ ছাড়া সাবর্ণদের পানিহাটির বাড়িতে রাধাগোবিন্দের দোল এবং আড়িয়াদহের মন্দিরে দোল উৎসব খুবই বিখ্যাত।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরে বিগ্রহবাড়ির দোলযাত্রার পাশাপাশি গোপালপুজো এক অন্য মাহাত্ম্য বহন করে

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
ক্রিকেট8 hours ago

IPL 2021: স্পিনের জালে জড়িয়ে মুম্বইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করল হায়দরাবাদ

বাংলাদেশ8 hours ago

ভক্ত-সতীর্থদের চোখের জলে শেষ বিদায় কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে

Remdesivir
দেশ11 hours ago

মধ্যপ্রদেশের সরকারি হাসপাতাল থেকে চুরি গেল কোভিডরোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেমডেসিভির

Covid situation kolkata
রাজ্য11 hours ago

Bengal Corona Update: হুহু করে বাড়ছে সংক্রমণ, তার মধ্যেও সামান্য কমল সংক্রমণের হার

দঃ ২৪ পরগনা12 hours ago

গুজরাত রেল পুলিশ ক্যানিং থেকে উদ্ধার করল ৮ কেজি চোরাই সোনার গয়না

রাজ্য12 hours ago

Bengal Polls 2021: ভোটের শেষ লগ্নে অসুস্থ মদন মিত্র

দেশ14 hours ago

করোনায় নাভিশ্বাস দশা রাজ্যের, ‘বাংলায় ব্যস্ত’ প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে পেলেন না মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে

বাংলাদেশ14 hours ago

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির বিদায়, বনানী কবরস্থানে সমাহিত কবরী

রাজ্য19 hours ago

Bengal Polls Live: পৌনে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৭৮.৩৬ শতাংশ

পয়লা বৈশাখ
কলকাতা3 days ago

মাস্ক থাকলেও কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে শারীরিক দুরত্ব চুলোয়, গা ঘেষাঘেঁষি করে হল ভক্ত সমাগম

রাজ্য3 days ago

স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

শিক্ষা ও কেরিয়ার1 day ago

ICSE And ISC Exams: দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা পিছিয়ে দিল আইসিএসই বোর্ড

কোচবিহার3 days ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচির গুলিচালনার ভিডিও প্রকাশ্যে, সত্য সামনে এল, দাবি তৃণমূলের

গাড়ি ও বাইক2 days ago

Bajaj Chetak electric scooter: শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেই বুকিং বন্ধ! কেন?

ক্রিকেট1 day ago

IPL 2021: দীপক চাহরের বিধ্বংসী বোলিং, চেন্নাইয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল পঞ্জাব

ক্রিকেট3 days ago

দুর্নীতির অপরাধে ক্রিকেট থেকে ৮ বছরের জন্য বহিষ্কৃত জিম্বাবোয়ের কিংবদন্তি হিথ স্ট্রিক

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে