কোচবিহারে এ বারেও নেই মদনমোহনের রথযাত্রা, নেই রথের মেলা

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দেখতে দেখতে কোচবিহারে মদনমোহনের রথযাত্রা ১৩২ বছরে পড়ল। কিন্তু গত বছরের মতো এ বছরেও রথের চাকা গড়াবে না। করোনা এখনও দূর হয়নি। তাই গত বছর করোনা আবহে যে ভাবে কোচবিহারে মদনমোহনের রথযাত্রা পালিত হয়েছিল, এ বারেও সে ভাবেই পালিত হবে।

গত বার ভক্তরা রথ টানার সুযোগ পাননি। শুধুমাত্র সুপ্রাচীন প্রথা বহাল রাখতে রথের রশি স্পর্শ করেছিলেন কোচবিহার রাজপরিবারের প্রতিনিধি। রাজপরিবারের কুলদেবতা মদনমোহন মোটরচালিত রথের সওয়ার হয়ে মাসির বাড়ি গিয়েছিলেন। এ বছরেও এ ভাবেই পালিত হবে মদনমোহনের রথযাত্রা।

তবে মদনমোহনের রথকে ঘিরে যে সব আচার-অনুষ্ঠান চলে তার সব কিছুই উদযাপিত হবে ভক্ত সমাগম ছাড়াই।

রথযাত্রার সূচনা মহারাজ নৃপেন্দ্রনারায়ণের উদ্যোগে

মদনমোহন মন্দির কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির তৈরি করান কোচ রাজবংশের বিংশতম মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর। রাজবংশের গৃহদেবতা মদনমোহনকে পুরোনো রাজপ্রাসাদ থেকে নিয়ে এসে এই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠা করা হয়।

Shyamsundar

মহারাজ নৃপেন্দ্রনারায়ণের উদ্যোগেই মদনমোহনের রথযাত্রার সূচনা হয় ১৮৯০ সালে। মদনমোহনের রথ ২২ ফুট উঁচু, রয়েছে ছ’টি চাকা। সামনে থাকে দু’টি রুপোর ঘোড়া। সারথিরা কাঠের। এক সময় রাজা নিজে রথের দড়িতে টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করতেন। পরে সেই প্রথার বদল ঘটে। এখন রাজপরিবারের কোনো প্রতিনিধি রথের রশিতে টান দেন, তার পর রথ চলতে শুরু করে।

কোচ রাজবংশের রীতি মেনে আজও রথযাত্রার আগের দিন হয় পালিত হয় মদনমোহনের অধিবাস। সুগন্ধী তেল মাখিয়ে চলে তাঁর অঙ্গরাগ পর্ব। পরদিন সকালে মদনমোহনের মহাস্নান, বিকেলে রথযাত্রা। রথযাত্রার দিন মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মদনমোহনকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির চত্বরেই অন্য একটি নাটমন্দিরে।

ওই দিন বিকেলে মদনমোহনকে নানা সোনার গহনায় সাজিয়ে রথে তোলা হয়।  কোচ রাজবংশের প্রতিনিধি রথের রশি স্পর্শ করার পর রথ টানা শুরু হয়।

ডাঙরাই মন্দির মদনমোহনের মাসির বাড়ি

মন্দির থেকে ২ কিলোমিটার দূরে গুঞ্জবাড়ির ডাঙরাই মন্দির মদনমোহনের মাসির বাড়ি। কড়া পুলিশ পাহারায় সুসজ্জিত মদনমোহনকে নিয়ে রথ রওনা দেয় মাসির বাড়ির উদ্দেশে। রথের দড়ি ধরার জন্য তখন ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

ডাঙরাই মন্দিরে তখন সাজো সাজো রব। একটু পরেই আসবেন মদনমোহন। তাঁর থাকার জন্য একটি ঘর নির্দিষ্ট করা থাকে। সারা বছর ওই ঘর ফাঁকা পড়ে থাকে। মাসির বাড়িতে দিন সাতেক থাকেন মদনমোহন। এখানে তাঁর নিত্যপূজা চলে। প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। সাত দিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে উল্টোরথে নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন মদনমোহন।

মদনমোহনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বসে রথের মেলা। মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির সামনে বৈরাগী দিঘির পাড় ধরে বসে রথের মেলা। মদনমোহন যখন মাসির বাড়িতে অবস্থান করেন, তখন গুঞ্জবাড়ির ডাঙরাই মন্দিরকে ঘিরে সাত দিন ধরে মেলা জমে ওঠে বেশি।

গত বছরের মতো এ বছরেও কার্যত রথযাত্রা নেই, ভক্ত সমাগম নেই, রথের মেলা নেই। মন খারাপ কোচবিহারের। আবার আসছে বছরের জন্য অপেক্ষা।

আরও পড়ুন: ২৪৬ বছরে পড়ল মহিষাদলের রথযাত্রা, করোনা-কারণে এ বারেও গড়াবে না রথের চাকা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন