২৪৬ বছরে পড়ল মহিষাদলের রথযাত্রা, করোনা-কারণে এ বারেও গড়াবে না রথের চাকা

0
মহিষাদলের রথযাত্রা।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এ বছরেও পরিস্থিতি বদলাল না। গত বছর ছিল করোনার প্রথম ঢেউ। এ বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তাই গত বছরের মতো এ বছরেও রথযাত্রা হচ্ছে না মহিষাদলে। মহিষাদল রাজপরিবার ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঠিক হয়েছে, গত বছরের মতো এ বছরেও রথের বদলে পালকিতে চেপে এক কিলোমিটার দূরের মাসির বাড়ি গুন্ডিচাবাটিতে যাবেন জগন্নাথদেব। সঙ্গে প্রথা মেনেই থাকবেন রাজপরিবারের কুলদেবতা মদনগোপালজিউ। উলটোরথের দিন একই ভাবে ফিরে আসবেন তাঁরা।

Loading videos...

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মহিষাদল রাজবাড়ির অদূরেই বসে মেলা। এই রথের মেলা চলে প্রায় এক মাস ধরে। এই মেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন স্থানীয় মানুষজন। শুধু পূর্ব মেদিনীপুরই নয়, আশেপাশের জেলাগুলি থেকেও বহু মানুষ আসেন এই মেলা দেখতে। স্থানীয় ব্যাপারি, শিল্পীরা দুটো পয়সার মুখ দেখেন। মেলার দায়িত্বে থাকে মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি।

রাজপরিবার, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এক বৈঠকে রথকে কেন্দ্র করে কোনো মেলা বা জমায়েতের না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মাইক করে প্রচার করে তা সকলকে জানানোও হচ্ছে।

মহিষাদলের রথযাত্রার ইতিহাস

মহিষাদল রাজবাড়ির রথযাত্রা এ বার ২৪৬তম বছরে পড়ল। শোনা যায়, ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে এই রথযাত্রার প্রচলন করেছিলেন রানি জানকী দেবী। ১৭৩৮ সালে মহিষাদলের রাজা হন তৎকালীন যুবরাজ আনন্দলাল উপাধ্যায়। ৩১ বছর রাজত্ব করার পর তিনি মারা গেলে রাজ্যের দায়িত্ব নেন তাঁর পত্নী জানকী দেবী। এবং ১৭৭৬-এ রথযাত্রার সূচনা করেন।

এই রথযাত্রার সূত্রপাতের পিছনেও কাহিনি আছে। রানি এক দিন স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন, নদীর জলে ভেসে আসছে শালগ্রাম শিলা। তাঁকেই রাজবাড়ির কুলদেবতা হিসাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এর পর ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে রাজবাড়ির সামনেই ১০০ ফুট উঁচু মন্দির তৈরি করে কুলদেবতা মদনগোপাল জিউকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। একদিন একদল প্রজা এসে রানির কাছে আবেদন জানান, শ্রীক্ষেত্র পুরীর মতো মহিষাদলেও রথযাত্রা চালু করা হোক। প্রজাদের ইচ্ছা শিরোধার্য করে ১৭৭৬-এ রথযাত্রা শুরু করেন জানকী দেবী।

জানকী দেবীর আমলে মহিষাদলের রথ ছিল ২০ চাকার। আনন্দলাল-জানকীর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। জানকী দেবীর মৃত্যুর পরে তাঁদের পোষ্যপুত্র হিসাবে দাবি করে কিছু দিন রাজা হন মতিলাল পাঁড়ে। তাঁর আমলে রথ হয় ১৭ চাকার। অবশেষে মহিষাদলের রাজা হন জানকী দেবীর জামাতা ছক্কনপ্রসাদ গর্গের ছেলে গুরুপ্রসাদ গর্গ। সেই থেকে মহিষাদলের রাজপাট গর্গ পরিবারের হাতে আসে।                    

মহিষাদলের রথের আরও সংস্কার হয়েছে। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে রাজা লছমনপ্রসাদ গর্গ রথের সংস্কার করিয়ে ১৭ চূড়া থেকে ১৩ চূড়া করেন। প্রত্যেক তলাকে ঘিরে বারান্দা তৈরি করা হয় এবং চার কোণে চার ঋষির মূর্তি বসানো হয়। পাঁচ তলা বিশিষ্ট এই রথে ৩৪টি চাকা আছে।       

রথযাত্রার আগের দিন ‘লেদ উৎসব’ বা ‘নেত্র উৎসব’ নামে বিশেষ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই উৎসব হল রথের রশির বাঁধন প্রক্রিয়া। রথযাত্রার আগে রাজপরিবারের সদস্য রথে রশি বেঁধে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন। রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য চারটি রশি থাকে। এর মধ্যে একটি রশি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

রথযাত্রা, রথের মেলা ইত্যাদি থেকে এ বারেও বঞ্চিত থাকবেন মহিষাদল ও আশেপাশের মানুষজন।

আরও পড়ুন: এ বার অমদাবাদে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ১৪৪ বছর

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন