দেবী সরস্বতীর সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

saraswati puja
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: সরস্বতী হলেন জ্ঞান, সংগীত, শিল্পকলা, বুদ্ধি ও বিদ্যার দেবী।  তিনি সরস্বতী-লক্ষ্মী-পার্বতী এই ত্রিদেবীর অন্যতম। সরস্বতীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদে। বৈদিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত তিনি হিন্দুধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবী।

বিদেশে সরস্বতীর পুজো

বৌদ্ধ এবং পশ্চিম ও মধ্য ভারতে জৈনরাও সরস্বতীর পুজো করেন। জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে ভারতের বাইরে জাপান, ভিয়েতনাম, বালি (ইন্দোনেশিয়া) ও মায়ানমারেও সরস্বতী পুজোর চল আছে।  

অন্য ধর্মে এই দেবীর পুজো 

আরও পড়ুন – প্রতিবাদের পর কেরলের কলেজে সরস্বতী পুজোর অনুমতি মিলল

হিন্দুদের দেবী হওয়া সত্ত্বেও বৌদ্ধ ও জৈনদের কাছেও পুজো পেয়েছেন সরস্বতী। গান্ধারে রয়েছে বীণাবাদিনী সরস্বতীর মূর্তি। আবার সারনাথে সংরক্ষিত সরস্বতী মূর্তি এর প্রমাণ। অনেক বৌদ্ধ উপাসনালয়ে সরস্বতীর বীণা বাজানোর প্রতীকী মূর্তি পাওয়া গিয়েছে।

মথুরায় জৈনদের প্রাচীন কীর্তির আবিষ্কৃত নিদর্শনে সরস্বতীর মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। সেখানে দেবীর একটি চৌকো পীঠের উপর বসা অবস্থায় এক হাতে বই রাখা একটি মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। শ্বেতাম্বরদের মধ্যে সরস্বতী পুজোর অনুমোদন ছিল। জৈনদের ২৪জন শাসনদেবী আর ১৬ জন বিদ্যাদেবীর মধ্যে অন্যতমা হলেন সরস্বতী। শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর উভয় জৈন সম্প্রদায়েই সরস্বতীর প্রাধান্য আছে।

পৌরাণিক কাহিনি

পুরাণে আছে ব্রহ্মা তাঁর কন্যা সরস্বতীর প্রতি দুর্ব্যবহার করলে শিব তাঁকে শরবিদ্ধ করে হত্যা করেন। তখন ব্রহ্মার পত্নী গায়ত্রী কন্যা সরস্বতীকে নিয়ে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য গন্ধমাদন পর্বতে তপস্যা শুরু করেন। তাঁদের দীর্ঘ তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে শিব ব্রহ্মার প্রাণ ফিরিয়ে দেন। এর পর ব্রহ্মা তার তীর্থ ক্ষেত্র স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ব্রহ্মার নির্দেশে দেবী সরস্বতী তাঁকে সাহায্য করেন।

আরও পড়ুন – সরস্বতী পুজো নাকি ভ্যালেন্টাইন’স ডে- প্রেমদিবস পালন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে

দেবীভাগবত পুরাণ 

দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, দেবী আদ্যাপ্রকৃতির তৃতীয় অংশে সরস্বতীর জন্ম হয়েছিল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের জিহ্বাগ্র থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। সরস্বতী বাক্য, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সংশয় মোচনকারিণী ও সর্বসিদ্ধিপ্রদায়িনী দেবী সরস্বতী। ব্রহ্মা প্রথম তাঁকে পুজো করেন। পরে জগতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবী সরস্বতী নারায়ণের অন্যতম পত্নী। তারপর কৃষ্ণ জগতে তাঁর পুজো প্রবর্তন করেন মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমীতিথিতে।

মার্কণ্ডেয় পুরাণে

মার্কণ্ডেয় পুরাণে শ্রীশ্রীচণ্ডী উত্তরলীলায় শুম্ভ নিশুম্ভ নামক অসুরদ্বয়কে বধ করার সময় দেবীর যে মূর্তির কল্পনা করা হয়েছিল তা ছিল মহাসরস্বতী। এ মূর্তি অষ্টভূজা। বাণ, কার্মূক, শঙ্খ, চক্র, হল, মুষল, শূল ও ঘণ্টা ছিল তাঁর অস্ত্র। তাঁর এই সংহারলীলাতেও কিন্তু জ্ঞানের ভাবনাটি নষ্ট হয়নি।

আরও পড়ুন – সরস্বতী পুজোতেও থিমের আবির্ভাব, চমক বাঁকুড়ার একটি ক্লাবের

স্কন্দ পুরাণে প্রভাসখণ্ডে দেবী সরস্বতীর নদীরূপে অবতরণের কাহিনি বর্ণিত আছে।

বায়ু পুরাণ অনুযায়ী পুনর্বার প্রজাসৃষ্টির জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা নিজ অন্তর থেকেই দেবী সরস্বতীকে সৃষ্টি করেন। 

গরুড় পুরাণে সরস্বতী শক্তি আট রকমের। তুষ্টি, পুষ্টি, শ্রদ্ধা, ঋদ্ধি, প্রভা, কলা, মেধা ও স্মৃতি। তন্ত্র শাস্ত্রমতে সরস্বতী বাগীশ্বরী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.