ব্রাত্য নয় প্লুটো, তাকেও গ্রহের মর্যাদা দেওয়া উচিত বলছে গবেষণা

0
161

ওয়াশিংটন : ‘একে চন্দ্র, দু’য়ে পক্ষ’ – এই পাঠের লাইন ভেঙে ছিল কয়েক বছর আগেই। নির্দ্বিধায় বলা যেত না ‘নয়ে নবগ্রহ’। ২০০৬ সালে এক দল মহাকাশবিজ্ঞানী ঘোষণা করেন প্লুটো নাকি গ্রহ নয়।

কিন্তু সৌরজগতের অন্য গ্রহদের মতো প্লুটোকেও গ্রহের মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে ভুল করে। এমনই বললেন আমেরিকার জন্স‌ হপকিনস বিশ্ববদ্যালয়ের মহাকাশবিজ্ঞানী কিরবি রুনিয়ন। তাঁর মতে, পাথুরে বরফাবৃত প্লুটোও গ্রহ। সৌরজগতে গ্রহ পরিবারের সব থেকে ছোটো সদস্য সে। প্লুটোর পরিসর চাঁদের চার ভাগের তিন ভাগ। আর পৃথিবীর ৫ ভাগের এক ভাগ। এর ভূপৃষ্ঠে যা কিছু ঘটে চলেছে তার সবটাই গ্রহের মতোই। সেখানে অ-গ্রহ জাতীয় কোনো কিছু ঘটেনি।

গ্রহের সংজ্ঞা নিয়ে একটা বিতর্ক কয়েক বছর ধরেই চলছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে। এক দল জোর দিচ্ছেন, গ্রহের গঠন, তার কক্ষপথ, গুণাবলি, তাকে ঘিরে বাহ্যিক ব্যাপারস্যাপারের ওপর। তাঁদের মতে, গ্রহ এমন একটি উপ-নাক্ষত্রিক বস্তু যাতে কোনো দিন পরমাণু বিস্ফোরণ হয়নি। যাতে যথেষ্ট মাধ্যাকর্ষীয় টান আছে, যার ফলে একটা নির্দিষ্ট গোলাকৃতি বজায় থাকে। এমনকি তিনটি আকর্ষণে যার মাঝ বরাবর ফুলে ওঠে। এই তিন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে  সূর্য ও নিকটবর্তী কোনো বড়ো গ্রহের টানে আর গ্রহটির নিজের কেন্দ্রাতিগ টান। 

কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (আইএইউ)-র দেওয়া সংজ্ঞার সঙ্গে তিনটি অংশ রয়েছে। যার একটি অংশের সঙ্গে প্লুটোর মিল নেই। তাতে মহাজাগতিক এই বস্তুর শরীরকে ঘিরে কোনো কথা বলা হয়নি। সেই সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, গ্রহরা আর তাদের উপগ্রহরা নিজেদের কক্ষপথে আবর্তন করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখানেই নাকি প্লুটো আইএইউ-র দেওয়া সংজ্ঞার থেকে আলাদা। তা ছাড়া আইসিএসের বাকি বিবরণের সঙ্গে প্লুটোর মিল রয়েছে। এর সূর্যকে ঘিরে কক্ষপথও আছে, আর প্লুটোর একটা গোলাকার চেহারাও আছে। আইএইউ-র বিবরণ অনুযায়ী এক সময় পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি আর নেপচুনেরও গ্রহ-মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল। কারণ এই গ্রহদের কক্ষপথে রয়েছে অসংখ্য গ্রহাণুর উপস্থিতি।

কিরবি রুনিয়ন জানান, নতুন সংজ্ঞায় অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে অনেক কিছুকে যেমন বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমন অনেক কিছুকে গ্রহণও করা হয়েছে। যার ফলে গ্রহের সংখ্যা বেড়ে ৮ থেকে ১১০ হয়ে গেছে। এই সংজ্ঞার মান্যতার জন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার অনুমতির ওপর নির্ভর করে না। আইএইউ-র সংজ্ঞার তুলনায় এই সংজ্ঞা ভূতত্ত্ব, ভূবিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক বেশি গ্রহণ যোগ্য। 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here