ওয়েবডেস্ক : বহির্বিশ্বে প্রাণের খোঁজ করতে নেমে বিজ্ঞানীরা  অন্য এক নতুন বিস্ময়ের সন্ধান পেলেন। নাসার এক দল বিজ্ঞানী বলছেন, সৌরজগতের শেষ প্রান্তে যে সব গ্রহ আছে তাতে জলের অস্তিত্ব থাকার পুরো সম্ভাবনা আছে। এই সব গ্রহের দল থেকে বাদ পড়েনি প্লুটোও। বিজ্ঞানীদের এই দলটি মনে করছে, এই সব গ্রহ আর তাদের উপগ্রহের মধ্যে মহাকর্ষীয় টানের ফলে তাপমাত্রা এমন একটা উষ্ণতায় পৌঁছয় যেখানে বরফের নীচে জলের বিশাল সমুদ্রের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আর সেই অস্তিত্ব চিরস্থায়ী। এই বিষয়ে হাইপোথিসিস বা অনুমান নির্ভর একটা হিসেবনিকেশ করেও দেখিছেন তাঁরা। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইকারাস’ পত্রিকায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ট্রান্স নেপচুনিয়ান অবজেক্ট (টিএনও)-এর জলের অস্তিত্ব অসম্ভব। এদের উষ্ণতা ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও অনেক নীচে। যে সব ছোটোখাটো গ্রহ নেপচুনের থেকেও বেশি দূর দিয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে তাদের ট্রান্স নেপচুনিয়ান অবজেক্ট বলে।

আরও পড়ুন : মহাকাশের উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাড়ি, প্রযুক্তি এগিয়ে গেল আরও এক ধাপ

কিন্তু গ্রহ আর তার উপগ্রহের মধ্যে মহাকর্ষীয় টানের ফলে তৈরি হয় জোয়ারভাঁটা। জোয়ারভাঁটার কারণে গ্রহের উষ্ণতা বিশেষ পরিবর্তন হয়। এই উষ্ণতা এমন হয় যার ফলে বহু বছর বরফের ভিতরেও জলীয় অবস্থা বজায় থাকতে পারে। প্লুটোর উষ্ণতাও মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও অনেক কম। এই তাপমাত্রায় জলের অস্তিত্ব অকল্পনীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটাই একটি কারণ বরফাবৃত প্লুটোয় জলের বিশাল সমুদ্র লুকিয়ে থাকার। আর জলের অস্তিত্ব প্রমাণ করে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

নাসার গবেষক ওয়াদে হেননিং বলেন, শুধু প্লুটো নয় এরিসও রয়েছে এই তালিকায়, যেখানের বরফাবৃত ভূমিরূপের নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে জলের বিশাল সমুদ্র। এরিস হল ট্রান্স নেপচুনিয়ান অবজেক্ট (টিএনও)-এর অন্তর্গত দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। প্রথম স্থানে রয়েছে প্লুটো।

এই বিষয়ে নাসার প্রধান গবেষক প্রবাল সাক্সেনা বলেন, এই গবেষণার হাত ধরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার কাজ আরও কিছুটা প্রসারিত হয়ে গেল। তিনি বলেন, যদি এই গবেষণা ঠিক হয় তা হলে প্রমাণিত হবে, সৌর জগতে প্রাণের অধিকারী হতে পারে এমন মহাজাগতিক বস্তুর অভাব নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here