ওয়েবডেস্ক: বড়ো বড়ো চোখ, ছোটো কান, সারা শরীরের তুলনায় ধূসর রঙের মাথাটা হবে অনেক বড়ো। শক্তি মানুষের চেয়ে অবশ্যই অনেক বেশি, ভুল করে হঠাৎই খসে পড়বে অন্য কোনো গ্রহ থেকে। আমরা ওদের ভাষা বুঝব না, কিন্তু ওরা বুঝবে আমাদের সব ভাষা, সব অনুভূতি। ভিন গ্রহের প্রাণী নিয়ে এ রকম কত কল্পনাই যে রয়েছে আমাদের মনে। সিনেমার পর্দাতেও সে সব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একাধিক বার। আমাদের যাবতীয় কল্পনাবিলাসকে নস্যাৎ করে সম্প্রতি এক গবেষণার ফলাফল বলছে, ভিন গ্রহের প্রাণী, যাকে বলি এলিয়্যান, তারা নাকি আমাদেরই মতো।

হতে পারে ভাষা আলাদা, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিটাও। তবে ‘ইন্টারন্যাশানাল জার্নাল অব অ্যাস্ট্রোবায়োলজি’-তে প্রকাশিত হওয়া গবেষণাপত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কী ভাবে বিবর্তনের প্রত্যেকটা ধাপ পেরোতে হয়েছে ভিনগ্রহের ‘ইটি’ কিংবা ‘জাদু’দের। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তাই দাবি করছেন, সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সঙ্গে অন্য গ্রহের অল্পবিস্তর ফারাক থাকলেও বিবর্তনের ইতিহাসটা একই রকম, এবং তা ডারউইনের তত্ত্ব মেনেই। অতএব দুই গ্রহের প্রাণীদের মধ্যে চেহারাগত বৈসাদৃশ্য থাকলেও এলিয়্যানরা আসলে আমাদেরই মতো।

লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে যেমন প্রাণের বিকাশ হয়েছে, লড়াই করে টিকে গিয়েছে কেউ, কেউ হারিয়েছে কালের নিয়মে। অন্য গ্রহেও বিজ্ঞানটা ঠিক একই রকম। চার্লস ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ মেনেই বিবর্তন হয়েছে ভিন গ্রহেও।

এ বার আসি আসল কথায়। এত বছর ধরে এত গবেষণা, এ বার কি তা হলে সত্যিই মেনে নিলেন বিজ্ঞানীরা, ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে? জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে এমন একটা বৈপ্লবিক আবিষ্কার হয়ে গেল নিঃশব্দে? কী বলছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লেভিন? “মহাবিশ্বে কয়েক হাজার গ্রহ রয়েছে, যেখানে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও হলফ করে বলতে পারি না, এক মাত্র পৃথিবীতেই প্রাণ রয়েছে কি না। তবে আমাদের গবেষণা তা নিয়ে নয়, বরং পৃথিবী ছাড়া আর কোথাও প্রাণের বিকাশ ঘটলে তা কেমন হতে পারে, এই নিয়েই।”