লালগ্রহের ভেজা অবস্থা জীবাণুদের জন্য আদর্শ ছিল

0

লালগ্রহকে ঘিরে জল্পনার আর শেষ নেই। প্রায় রোজই তাকে নিয়ে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। আর বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। সেখানে জল আছে কি না? জল থাকলে জীবনের কোনো সম্ভবনা আছে কি না? জাগছে এমন বহু প্রশ্ন। আর গবেষকরাও এই সবের উত্তর খোঁজার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হালে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, প্রাচীন যুগে মঙ্গল সিক্ত অবস্থায় ছিল।  তার সৃষ্টির প্রায় ১০০ কোটি বছর পরে সেখানে হ্রদ ও নদীর সৃষ্টি হয়। গ্রহটির এই পট পরিবর্তন তার জলবায়ু সম্বন্ধে জানতে সাহায্য করছে। এই পরিবর্তিত জলবায়ুর রূপরেখা দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন সেই সময়ে মঙ্গলের আবহাওয়া জীবাণুর জন্ম ও বাঁচার পক্ষে আদর্শ ছিল।

ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ইস্টিটিউশন ও ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শারন উইলসন জানান, লালগ্রহে বেশ কিছু উপত্যকা আবিষ্কার হয়েছে। যেখানে অনেকগুলি হ্রদ ও নদীখাত রয়েছে। সেইগুলিতে এক সময়ে জল বয়ে যেত। এমনকি নদীপাড় ও উপত্যকার ভূমিরূপ দেখে সেখানে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা হত বলেও মনে করছেন তিনি। 

ঠিক কোন্‌ সময়ে মঙ্গলে অগভীর উপত্যকার সৃষ্টি হয় তা নির্ণয় করার জন্য গবেষকরা সেখানকার আগ্নেয়গিরিগুলিকে কাজে লাগাচ্ছেন। ও-ই সব আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা এই এলাকার মাটিকে ঢেকে ফেলেছে কি না, তার থেকেই বোঝা যাবে এই উপত্যকা আগ্নেয়গিরির থেকে প্রাচীন না নবীন। আর তার থেকেই সামনে আসবে তার বয়স।

ক্যলিফোর্নিয়ায় পাসাদেনার নাসার প্রোপালসন ল্যাবরেটরির মার্স রেকনাইজেন্স অর্বিটার প্রোজেক্টের গবেষক রিচ জুরেক জানাচ্ছেন, মোটামুটি ২০০ থেকে ৩০০ কোটি বছরের মধ্যে মঙ্গলে এই জলীয় পরিবেশ বিরাজ করত। যার বেশির ভাগটাই বর্তমানে উধাও। আর বাকিটা জমাট বরফে পরিণত হয়েছে। তবে যা আছে তা-ও মঙ্গলের উপরিভাগের পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য ও প্রাণ ধারণের জন্য যথেষ্ট।     

মঙ্গল সম্বন্ধীয় এই সমস্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ, প্ল্যানেট পত্রিকাটিতে।

 

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন