গিজার পিরামিডের দ্বিগুণ আয়তনের গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকছে রবিবার

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: গিজার পিরামিডের দ্বিগুণ আয়তনের একটি গ্রহাণু ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকে পড়তে পারে। এ কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা নাসা। জানা গিয়েছে, এই গ্রহাণুটি ৮৮৬ ফুট লম্বা এবং ২০০ মিটার চওড়া।

এই গ্রহাণূ পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করে, তাই নাসা এই গ্রহাণুকে অ্যাপেলো গ্রহাণুর তালিকায় রেখেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দশ বছর আগেই এই গ্রহাণুর সন্ধান পান। আর সেই সময়ে এই গ্রহাণুর নামকরণ করা হয় ৪৬৫৮২৪ (২০১০ এফআর) (465824 2010FR)।

তবে সেন্টার ফর নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ-এর (সিএনইওএস, CNEOS) বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ভাবে বলেছেন, অতি সম্প্রতি অনেক গ্রহাণুকেই আমাদের গ্রহের আশপাশ দিয়ে উড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। সেই সব গ্রহাণুর মতো এর থেকেও      ভয় পাওয়ার বিশেষ কারণ নেই।

amazon

যে সব “ধূমকেতু আর গ্রহাণু আশেপাশের গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জোরে তাদের কক্ষপথে ঢুকে পৃথিবীর কাছে চলে আসে”, নাসাই তাদেরই নাম দিয়েছে ‘নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট’ (এনইও)।   

যে গ্রহাণুর কথা এখানে বলা হচ্ছে, সেটিও এ রকম একটি ‘নিও’ এবং সূর্য থেকে তা ১.৩ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (এইউ) দূরে (১ এইউ = ১৪,৯৫,৯৭,৮৭১ কিলোমিটার)

পৃথিবী থেকে দূরত্বের কারণে এ ধরনের গ্রহাণুগুলো ক্ষতিকর নয় বটে, তবে অন্যান্য গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কাছে চলে আসতে পারে এরা। যার ফলে এদের কক্ষপথের পরিবর্তন হতে পারে।

শুধু তা-ই নয়, ইয়ারকোভস্কি প্রভাবের (Yarkovsky effect) জন্যও গ্রহাণুর কক্ষপথ পালটে যেতে পারে। কক্ষপথের পরিবর্তন ঘটে যখন একটি গ্রহাণু সূর্যের আলো শোষণ করে এবং সেই শক্তিটি তাপ বা বিকিরণ হিসাবে পুনরায় নির্গত করে।

এ বিষয়ে নাসা জানায়, “মাঝেমধ্যে গ্রহাণুর কক্ষপথ গ্রহগুলির মহাকর্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়, যার ফলে প্রায়শই গ্রহাণুর পথ পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পথহারা গ্রহাণু বা আগেকার সংঘর্ষ থেকে জাত কোনো টুকরো অতীতে পৃথিবীতে ঢুকে গিয়ে আমাদের গ্রহের বিবর্তনের ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা পালন করে।”

পয়লা সেপ্টেম্বর গ্রহাণু ২০১১ ইএস৪ (2011 ES4) পৃথিবী থেকে ২.২ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। পৃথিবী থেকে চাঁদ যত দূরে, এই দূরত্ব তার চেয়েও কম। এমনকি একই দিনে ষোলো বছর পরে ২০২০ কিউজি৫ (2020 QG5) নামে একটি গ্রহাণু পৃথিবীর কাছে চলে আসে।

তবে এই দুই গ্রহাণু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে ধ্বংস হয়ে যাবে, কারণ এই দুই গ্রহাণু ছোটো আকৃতির। ফলত এই দুই গ্রহাণু থেকে পৃথিবীর ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

পৃথিবীর কান ঘেঁষে চলে গেল গাড়ির সাইজের গ্রহাণু, আছড়ে পড়লে কী কী হতো?

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন