রাখে হরি মারে কে? পৃথিবীকে ধাক্কা মারার আগেই নিখোঁজ সেই গ্রহাণু, বলছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা

0
space
মহাকাশ

ওয়েবডেস্ক: ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি গ্রহাণুর পৃথিবীকে ধাক্কা মারার কথা ছিল। কিন্তু সেই গ্রহাণুটিকেই আর দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই গ্রাহাণুটির নাম দিয়েছিলেন, ২০০৬ কিউভি৮৯। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পৃথিবীতে ধাক্কা মারতে গেলে গ্রহাণুটিকে যেখানে থাকতে হতো, সেখানে সে নেই। ফলে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনাও নেই।

শুধু যে সেই স্থানেই নেই তা নয়, মহাকাশের ওই অঞ্চলের কোথাওই তাকে দেখা যাচ্ছে না।

মহাকাশবিজ্ঞানীরা যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রহাণুটির কক্ষপথ বা গতিপথ আবিষ্কার করতে পারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহাণুটি কোথায় তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। যদি কোথায় খুঁজতে হবে জানা না থাকে তা হলে মহাকাশে কোনো কিছুই খুঁজে বের করা খুবই কঠিন।

পড়ুন – চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের নতুন দিন ঘোষণা করল ইসরো

তাই জন্যই  ইএসএ এবং ইউরোপিয়ান সার্দান অবজারভেটরি (ইএসও) জুলাই মাসের ৪ ও ৫ তারিখে একটি ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ ব্যবহার করে গ্রহাণুটিকে খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু পৃথিবীকে ধাক্কা দিতে গেলে ঠিক যেখানে থাকা উচিত ছিল, সেখানে বা তার আশেপাশে কোথাওই দেখা যায়নি গ্রহাণুটিকে। সবটাই ফাঁকা।

ইএসএ

উল্লেখ্য, এই গ্রাহাণুটিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে। তখনই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, ১৩ বছর পরে অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে এই গ্রহাণুটি ধাক্কা মারবে পৃথিবীকে। এই সম্ভাবনা ছিল সাত হাজার ভাগের মধ্যে মাত্র এক ভাগ। এই সময়ে টানা ১০ দিন তাঁরা গ্রহাণুটিকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার পর আর তাকে মহাকাশে দেখা যায়নি। এই গ্রহাণুটির আয়তন ২০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে অর্থাৎ ৬৫ থেকে ১৬৪ ফুটের মতো চওড়া বলে মনে করেছিলেন তাঁরা। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি যদি জনবসতি পূর্ণ এলাকায় ধাক্কা মারত তা হলে কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি হতো। তবে এ ক্ষেত্রে তা খুব বেশি রকমের ক্ষতি নয়।

সেই সম্ভাবনা অনুযায়ীই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সময়ের আগেই মহাকাশে নজর রাখছিলেন, যদি আবার দেখা যায় গ্রহাণুটিকে। কিন্তু তাকে কোথাওই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here