ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলের বুকে লবণেঁর অস্তিত্বের সম্ভাবনা উঠে এল নাসার কিউরিওসিটি রোভারের তোলা ছবির মাধ্যমে। ২০১২ সালের আগস্ট মাস থেকে কিউরিওসিটি মঙ্গল বুকে বিচরণ করছে। সেখানে নানান রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করছে। তারই তথ্য পাঠাচ্ছে পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা তার দ্বারা সমৃদ্ধ হচ্ছেন।

এ বার আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল মঙ্গলের নতুন ছবি থেকে। মঙ্গলের বুকে রোভার একটি শুকিয়ে যাওয়া প্রাচীন জলাশয়ের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এখন তাতে বিন্দুমাত্র জল না থাকলেও এক সময় সেখানে জল ভরা ছিল তা মনে করা হচ্ছে। সেখানেই লবণের সন্ধান পেয়েছে রোভার। সেখানে পাওয়া গিয়েছে সালফেট লবণ।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সাংঘাতিক শুষ্ক একটি সময়ের সম্মুখীন হয়েছিল মঙ্গল। যখন ওই জলাশয়ের সমস্ত জল বাস্প হয়ে গিয়েছিল। শুকিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জলে মিশ্রিত লবণ পড়ে রয়েছে। পৃথিবীতে একটি বায়ুমণ্ডল আছে, মাধ্যাকার্ষণ শক্তি আছে এই সব কিছু মিলিয়ে পৃথিবী আর্দ্র। তাই আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু মঙ্গলের পরিস্থিতিটি আরও জটিল কঠিন।

বহু কোটি বছর আগে মঙ্গলেরও একটি বায়ুমণ্ডল ছিল। কিন্তু এর মাধ্যাকার্ষণ শক্তি খুবই কম। ফলে সূর্যের থেকে আসা তাপপ্রবাহের ফলে মঙ্গলের চারপাশে থাকা বায়ুমণ্ডল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এবং মঙ্গল শুষ্ক গ্রহেতে পরিণত হয়েছে।

জল ভরা জল শুকিয়ে যাওয়া আবার জল ভরা আবার তা শুকিয়ে যাওয়া এমন ঘটনা বারবার ঘটতে ঘটতে এই পাথরের চেহারা এমন হয়েছে। এটি ৩ ফুট। কিন্তু এটি প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি বছরেরও আগের। একে বলা হয় ‘ওল্ড সোয়াকের’।
অনেকগুলি পাথর এক সঙ্গে একে ‘স্কুইড কোভ’ বলা হয়। এদেরও ‘ওল্ড সোয়াকে’র মতোই দেখতে। এখানেও একই প্রক্রিয়া ঘটেছে। এর থেকে ভূতাত্ত্বিকরা বাষ্পীভবনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে একটি ধারণা লাভের চেষ্টা করে চলেছন।
নীল পাহাড় মাটি টিলা ইত্যাদি ওই জলাশয়ের তলদেশ। তবে ছবিতে দেখতে পাওয়া এই নীল পাহাড় টিলা গঠিত হতে পারে খুবই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বালিকণা দিয়ে। তবে এই নীল রঙটি হয়তো বা হাইরাইজ ক্যামেরার কারণেও হতে পারে।

ছবি সৌজন্যে : নাসা

বিজ্ঞানের আরও খবর পড়ুন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন