পৃথিবীর এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ১১ হাজার বিজ্ঞানী

0
thelasticearea
দ্য লাস্ট আইস এরিয়া

ওয়েবডেস্ক: পৃথিবীর উপর সাংঘাতিক বিপদ ঘনিয়ে আসছে। স্বভাবতই প্রাকৃতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এমন প্রাকৃতিক জরুরি অবস্থার কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্বের প্রায় এগারো হাজার বিজ্ঞানী। মনে হতেই পারে, এমন কী ঘটনা ঘটল যে বিজ্ঞানীরা এক্কেবারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন।

পৃথিবীর সব থেকে প্রাচীন ও সব থেকে শক্ত এবং স্থায়ী হিমশৈলের বরফ অতিদ্রুত গলে যেতে শুরু করেছে। এই প্রাচীন হিমশৈলটি অবস্থিত উত্তর মহাসাগর বা সুমেরু মহাসাগরে। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন, ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’। তাঁদের মতে, এই বরফ এত দ্রুত গলে যাওয়ার কারণ হল জলবায়ু পরিবর্তন।  

এই ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’ গ্রিনল্যান্ডের উত্তর উপকূল অঞ্চল থেকে কানাডিয়ান সুমেরু দ্বীপপুজ্ঞের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। সব মিলিয়ে এটি এক হাজার ২০০ মাইল দীর্ঘ এলাকা জুড়ে রয়েছে। অর্থাৎ দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা। এখানকার বরফ চার মিটার অর্থাৎ ১৩ ফুট পুরু।

আরও পড়ুন – মানবহৃদয়ের পেশিকোষগুলি মহাকাশে অন্য রকম আচরণ করে: গবেষণা

১৩০টি দেশের ১১ হাজার বিজ্ঞানী মিলে একটি গবেষণা করেছেন। তাঁরা লক্ষ্য করে দেখেছেন, ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’র বরফ অতিদ্রুত গতিতে গলে যাচ্ছে।  ২০১৬ সালে এই বরফাবৃত এলাকার পরিসর ছিল ৪১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৮০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে এর পরিসর দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে গতিতে বরফ গলছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বরফ গলে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’র এই বদলের ফলে গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার প্রকৃতির ওপর বিশেষ প্রভাব পড়বে। পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার বরফ গলার গতির তুলনায় এই এলাকার বরফ গলার গতি প্রায় দ্বিগুণ।

এই অঞ্চলের প্রাণী জগৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই বরফ যদি সম্পূর্ণরূপে গলে যায় তা হলে বহু প্রজাতির প্রাণী মারা যাবে। শুধু মারা যাবে তাই নয়, পৃথিবী থেকেই তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে তিমি, মেরু প্রদেশীয় ভাল্লুক, পেঙ্গুইন, শীল ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.