ওয়াশিংটন : একটি ‘লেজার লাইট’ বিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো উৎপন্ন করল। গবেষকরা বলছেন, এই আলোর উজ্জ্বলতা সূর্যপৃষ্ঠের উজ্জ্বলতা থেকে ১০০ কোটি গুণ বেশি। এই আলোটি চিকিৎসার জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চিকিৎসার অতি সংবেদনশীল নানা কাজে যেমন এক্স-রে, স্ক্যান ইত্যাদির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজেও একে ব্যবহার করা যাবে। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার ফোটনিক’ পত্রিকায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রন বর্জিত হিলিয়ামের মধ্যে অতি উচ্চ তীব্রতা সম্পন্ন লেজার জ্বালিয়ে ছিলেন। একে ‘ডিওক্লেস’ বলা হয়।

এই পরীক্ষাটি করার উদ্দেশ্য ছিল, একক ইলেকট্রন থেকে বিক্ষিপ্ত লেজারের ফোটনগুলো কী আচরণ করে তা দেখা। দেখা গেছে এটা অতি উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ তৈরি করছে, যা বস্তুকে দৃশ্যমান করে তুলছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও একটু আলাদা। অনেক বেশি সংখ্যার ফোটন এক সঙ্গে তৈরি হয়েছে। সংখ্যাটা এক এক বারে প্রায় ১০০০ ফোটন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক্সট্রিম লাইট ল্যাবটারি’-র গবেষক ডোনাল্ড আমস্টাডটের জানান, গবেষণাগারে এই অকল্পনীয় উজ্জ্বল আলোকছটা বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সব কিছুকে দেখতে সাহায্য করে। ফোটনের মৌলিক প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে। একটা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর থেকেই এই ছটা তার দিক, গতি, দৈর্ঘ্য, রঙ, আকৃতি, কৌণিক অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। দেখে মনে হবে ঠিক যেন কোনো বস্তুকে বেশি আলোয় নিয়ে এসে দেখা হচ্ছে এমন। কিন্তু ব্যাপারটা আবার ঠিক তাও না। যেন আলোর মাত্রা কম থেকে বেশি করা হয়েছে এমন। তবে এখানে আলোটি বস্তুর অবস্থান আর উপস্থিতিকে বদলে দেয়।

তিনি বলেন, এ ছাড়া এই আবিষ্কারের আর একটা উপকারী বিষয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে। এক্স-রে হল খুব উচ্চ তরঙ্গের আলোকপ্রবাহ। এটি লেজার বিম থেকে তৈরি হয়ে ইলেকট্রনের মধ্যে দিয়ে যায় আর খুব স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। এই রে ব্যবহার করা হয় সাধারণ এক্স-রে করার জন্য। কিন্তু থ্রিডি এক্স-রে ব্যবহার করা হয়, শরীরের ভেতরে গজিয়ে ওঠা টিউমার বা খুব সূক্ষ্ম ভাবে কোনো কিছুর স্থান নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে। এই আবিষ্কার সেই কাজেও যুগান্তকারী সাহায্য করতে পারে।

এ ছাড়া নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আলোকরশ্মি ব্যবহার করা যেতে পারে। ‘সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট’গুলোতে এর ব্যবহার দারুণ উপকার করতে পারে।

গবেষক আমস্টাডটের বলেন, বিজ্ঞানের এমন অনেক তত্ত্ব আছে যেগুলো কখনও গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। কারণ ওই সব পরীক্ষানিরীক্ষা করতে খুব জোরালো আলোর দরকার হয়। কিন্তু যথেষ্ট আলোর অভাবে তা হয়ে ওঠেনি। এ বার হয়ত সেগুলো করা সম্ভব হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here