অস্‌লো: নরওয়ের এসভালবার্ডর পাহাড় কেটে ২০০৮ সালে তৈরি হয়েছিল সংরক্ষণাগারটি। এত দিন দেশ বিদেশ থেকে উদ্ভিদ ও শস্যের বীজ এনে গচ্ছিত রাখা হত এই ভল্টে। সপ্তাহ খানেক আগে ওই একই জায়গায় উদ্বোধন করা হল আরও একটি ভল্ট। সারা পৃথিবীর নানা তথ্য সঞ্চিত থাকবে এই ভল্টে। সঞ্চিত থাকবে পাঁচশ থেকে হাজার বছর।  ভল্টে গচ্ছিত রাখার জন্য ইতিমধ্যে ব্রাজিল আর মেক্সিকো থেকে নরওয়েতে পাঠানো হয়েছে এই দু’টি দেশের বেশ কিছু ঐতিহাসিক তথ্য। তথ্য সঞ্চিত থাকবে ডুম্‌স ডে লাইব্রেরিতে। ডুম্‌স ডে অর্থাৎ শেষের সে দিন। বিজ্ঞানীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, পৃথিবী ধ্বংস হতে নাকি আর বেশি বাকি নেই। পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিলুপ্তি নিয়েও গবেষকদের মধ্যে রয়েছে নানা মতান্তর। এ সব নানা মত মাথায় রেখেই ডুম্‌স ডে লাইব্রেরি সম্প্রসারণের ভাবনা। পৃথিবীর কোনো অংশ ধ্বংস হয়ে গেলে পুনর্গঠনের সময় কাজে লাগবে ওই সব নথি। নিশীথ সূর্যের দেশই তবে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারবে সভ্যতার নিভে যাওয়া আলো।

উত্তর মেরু থেকে ৬২০ মাইল দূরে অবস্থিত এই এসভালবার্ডের অবস্থান বেশ সুবিধেজনক। মেরু অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনমূলক ক্রিয়াকলাপের প্রভাব এখানে নেই। ফলে ভূমিকম্প হওয়ায় সম্ভাবনা কম। আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড়শো মিটার উঁচুতে থাকায় মেরুপ্রদেশের বরফ গলে গেলেও ওই অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। এখানকার তাপমাত্রায় শস্যের বীজ পর্যন্ত সতেজ থাকে। অতএব তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। 

যে কোনো তথ্যই ডিজিটাল মাধ্যমে না রেখে অ্যানালগে সংরক্ষণ করা হবে এই লাইব্রেরিতে। ডিজিটাল  থেকে অ্যানালগে রূপান্তর করার দায়িত্ব নিয়েছে ‘পিক্ল্‌’ নামে নরওয়ের এক সংস্থা। ইতিমধ্যে ব্রাজিলের সংবিধান এবং মেক্সিকোর বহু প্রাচীন কিছু ঐতিহাসিক নথি জমা পড়েছে ডুম্‌স ডে লাইব্রেরিতে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here