প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine) নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এটা এমন কোনো বিস্ময়কর ওষুধই নয়, উল্টে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিণতি মারাত্মকও হতে পারে।

করোনাভাইরাস (Coronavirus) প্রতিরোধে গোটা বিশ্ব জুড়েই ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকেরা এই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও তেমন কোনো নিরাময়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আসেনি। এরই মধ্যে আবির্ভূত হয়েছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (HCQ)। যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারতের একপ্রস্থ ‘নাটকীয় বাক্য বিনিময়‘ও হয়ে গিয়েছে।

Loading videos...

এমন পরিস্থিতিতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের উপর নির্ভরতা অবিলম্বে গুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা দাবি করছেন, এই ওষুধ যে কোভিড-১৯ (Covid-19) চিকিৎসায় কার্যকরী তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি।

এ ব্যাপারে দিল্লি এইমস (AIIMS)-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর তথা ভারতের শীর্ষ সার্জেন এমসি মিশ্র বলেছেন,
“কোনো প্রমাণ ছাড়াই কোভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এইচআইভি বা অন্য কোনো ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য ঠিক যেমন ভাবে অনুশীলন মূলক থেরাপি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এর কারণ একটাই যে, কোভিডের চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই”।

“তবে, কিছু রোগীকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়ার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়াস বিকাশের খবর পাওয়া গিয়েছে। যা হঠাৎ করে কার্ডিয়াক মৃত্যুর কারণ হতে পারে”, স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মিশ্র।

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনালেন হু বিশেষজ্ঞ

আরও বিশদ ভাবে এইমস-এর চিকিৎসক যুদ্ধবীর সিং বলেছেন, “একক ভাবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন অথবা অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে দেওয়ার ফলে বিশ্বে কয়েক জন রোগীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। এই ওষুধ পটাসিয়াম চ্যানেলকে ব্লক করে দেয়। হৃদস্পন্দনকে দীর্ঘায়িত করে। একাধিক গবেষণায় বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.