বিনা ঝক্কিতে করোনা ধরবে ‘ফেলুদা’, বলল আইসিএমআর

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) ল্যাবরেটরিতে সারস-কোভ -২ (SARS-CoV-2) শনাক্তকরণের জন্য ফেলুদা (Feluda) পেপার স্ট্রিপ ব্যবহারে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সিআরআইএসপিআর-ক্যাস ৯ ( CRISPR-Cas9) প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই ফেলুদা পেপার স্ট্রিপ।

কোভিড-১৯ (Covid-19)-এর কারণ সার্স-কোভ-২ শনাক্তকরণে ফেলুদা পেপার স্ট্রিপের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করা যায়। এই পরীক্ষায় অনুমোদন দিয়েছে দেশের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)।

আইসিএমআর জানিয়েছে, দেশের যে ল্যাবরেটরিগুলিতে ইতিমধ্যেই করোনা নমুনা পরীক্ষা চলছে, সেখানে ফেলুদা ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষার জন্য নতুন করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আইসিএমআর অনুমোদিত সরকারি এবং বেসরকারি ল্যাবগুলি যদি সিআরআইএসপিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করতে চায়, তা হলে তাদের আর নতুন করে অনুমতি নিতে হবে না।

নির্দেশিকায় আইসিএমআর বলেছে, এই পদ্ধতিটি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের স্ট্রেন চিহ্নিতকরণের কাজ করে। পরীক্ষা পরিচালনার জন্য এখানে কিউপিসিআর (qPCR) মেশিনের পরিবর্তে একটি থার্মাল সাইকেলার (Thermal Cycler) ব্যবহার করা হয়। নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল মিলে যাওয়ার পর আর আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পদ্ধতিতে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই।

সঠিক ফলাফল

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সম্প্রতি জানান, ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (IGIB)-তে পরীক্ষা চলাকালীন দু’হাজারেরও বেশি রোগীর পরীক্ষার ভিত্তিতে এবং বেসরকারি ল্যাবগুলিতে পরীক্ষার ভিত্তিতে এই পরীক্ষাগুলিতে ৯৮ শতাংশ সঠিক ফলাফল দেখা গিয়েছে।

তিনি বলেন, আইটিএমআর-এর বর্তমান আরটি-পিসিআর কিটে পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানদণ্ড অনুযায়ী ৯৯ শতাংশ সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

কী এই ফেলুদা?

একটি বিশেষ ভাবে তৈরি‘পেপার স্ট্রিপ’এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি কোভিড আক্রান্ত কি না, তা কয়েক মিনিটেই চিহ্নিত করতে পারে এই টেস্ট কিট। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’র নামেই এটির নামকরণ করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এই টেস্ট কিটের বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিল ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)।

এটি তৈরি করেছেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী শৌভিক মাইতি ও দেবজ্যোতি চক্রবর্তী। দু’জনেই কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর ইনস্টিটিউট অব জেনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (CSIR-IGIB)-তে কর্মরত।

আইজিআইবি-র ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল আগেই জানান, এটার কাজ একটা সাধারণ রিয়েল টাইম রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমেরেজ চেন রিঅ্যাকশনের (RT-PCR) মতোই শুরু হয়, যা রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (RNA)-এর এক্সট্রাকশন এবং ডিওক্সাইরিবোনিউক্লিক অ্যাসিডে (DNA) রূপান্তরিত হয়।

কী ভাবে কাজ করে?

প্রযুক্তিটি জিনের মধ্যে ডিএনএর নির্দিষ্ট সিকোয়েন্সগুলি শনাক্ত করতে পারে। এতে এক ধরনের এনজাইম ব্যবহৃত হয়।

উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের দাবি, খুব কম সময়ের মধ্যে এটি ভাইরাসের জিনগত উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। এটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষার বিকল্প। অত্যন্ত কম সংখ্যক ভাইরাল নিউক্লিক অ্যাসিড (কম ভাইরাল আরএনএ) পাশাপাশি একক নিউক্লিয়োটাইড প্রকরণ শনাক্ত করতে সক্ষম।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন