ওয়েবডেস্ক :  তখন রাত প্রায় ৩টে বেজে ৯ মিনিট। রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে হঠাৎই আকাশে একটা আগুনের গোলা দেখতে পেলেন এক জন। দ্রুত ছুটে গেল সেই গোলা। আরে আরে এটা কী? গোলা বর্ষণ নাকি? না না তেমন কোনো শব্দ তো কানে আসেনি। তা হলে? ঘটনাটা নিউ জার্সির হ্যামিলটনের।

ঘটনাটা ধরা পড়েছিল একটা গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায়।

আবার সেই একই ঘটনার সাক্ষী আরও ১২টা প্রদেশও। নিউ ইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওহিও ডেলাওয়ার, কানেক্টিকাট, রড আইল্যান্ড, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেট, ওয়াশিংটন, নিউ হ্যামস্পায়ারও।

এই বিশাল আগুনের গোলাটা ছিল একটা বিরাট উল্কা। আর এই ঘটনাটা ধরা পড়েছিল নিউজার্সির হ্যামিলটনের পুলিশ বিভাগের আধিকারিক মাইকেল ভিরগা-র টহলদারি ভ্যানের ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায়। সেই ভিডিও ফুটেজ পুলিশ বিভাগ শেয়ার করেছে বিভিন্ন মাধ্যমে। তাতে দেখা গেছে চোখের নিমেষে পুরো ঘটনাটা শেষ।

তিনি জানান, আকস্মিক ভাবে এই ঘটনা তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। তিনি অবাক হয়ে যান। মুহূর্তের জন্যে একটা লাইম গ্রিন রঙের আলো গোটা আকাশ ঢেকে দেয়।

আমেরিকান মেটিওর সোসাইটি (এএমএস) হিসেব করে দেখেছে, এই বিশাল উল্কা উত্তরপূর্ব দিক থেকে দক্ষিণপশ্চিম দিকে ছুটে গেছে। প্রথম দেখা গিয়েছিল পেনসিলভানিয়া থেকে। আর শেষ দেখতে পাওয়া গেছে নিউ বাফালো অবধি।

এএমএসের মাইক হেনকি বলেন, উল্কা সাধারণত উজ্জ্বল আর দ্রুতগতির হয়। আর এই সময়টা জেমিনিড মেটিওর সাওয়ারের। ডিসেম্বর মানেই তাই। এটা একটা দারুণ ‘স্কাই শো’।

সারা রাত ধরে উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। অন্যান্য উল্কাবর্ষণের জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু জেমিনির ক্ষেত্রে তা না। রাত নামলেই তার এক দু’ ঘণ্টা পর থেকে ভোর পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। জেমিনি মেটিওর সাওয়ার তাই অন্যগুলোর থেকে আলাদা। ঘণ্টায় অগুণতি উল্কা দেখা যায় এই সময়।

আসলে জেমিনি নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানটা পৃথিবী থেকে কৌণিক দূরত্বে উঁচুর দিকে এমন একটা জায়গায় যেটা খুব তাড়াতাড়ি আর স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। তা ছাড়া ডিসেম্বরে সূর্যও তাড়াতাড়ি অস্ত যায়। ফলে দেখার জন্য একটা সুবিধেজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ বছর এই উল্কাবৃষ্টি দেখার সময় শুরু হয়ে গিয়েছে ৪ ডিসেম্বর থেকেই। চলবে ১৬ ডিসেম্বর। আর নাসা জানিয়েছে সর্বাধিক উল্কাবর্ষণ হবে ১৩ তারিখ রাত থেকে ১৪ তারিখ ভোর পর্যন্ত। সংস্থা জানিয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ৬০টা উল্কা দেখা যাবে এ দিন।

 

গত ২০০ বছর ধরে জেমিনি মেটিওর সাওয়ার দেখা যাচ্ছে। ক্রমশ এটা উজ্জ্বল আর শক্তিশালী হচ্ছে। তবে গত বছরে একই দিনে ছিল জেমিনি মেটিওর সাওয়ার আর সুপারমুন দেখার সুযোগ। তাই সুপারমুনের আলোয় জেমিনি মেটিওর সাওয়ার কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল।

তবে এ বছরে চিন্তা নেই। এ দিন চাঁদ থাকবে চন্দ্রকলায়। ফলে তার আলোয় আর ম্লান হবে না জেমিনি মেটিওর সাওয়ার।