breathing

ওয়েবডেস্ক: হাজার বছরের কথা- মুখ দিয়ে নয়, শ্বাস নিন নাক দিয়ে। তাতে স্মৃতি শক্তি দৃঢ় হবে। বাড়বে মেধাও। নিউরোসায়েন্স পত্রিকায় তেমনই বলেছেন এক দল গবেষক। সুইডেনের ক্যারলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা গবেষণায় দেখেছেন, নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে তা অনেক বেশি উপকার করে মানব দেহের। যোগাভ্যাসের পুরোনো পথই নতুন করে মান্যতা পেল আধুকিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে।

বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। তার মধ্যে মস্তিষ্ক আর স্মৃতি শক্তির ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তার থেকেই বার বার এটি প্রমাণিত হয়েছে স্মৃতিশক্তি দৃঢ় করার পেছনে নাক দিয়ে নিশ্বাস নেওয়ার একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছে। সংস্থার ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্সের গবেষক আর্টিন আর্শামিয়ান বলছেন, সমীক্ষায় উঠে এসেছে কোনো গন্ধ খুব ভালো করে মনে রাখা যায়, তা যদি শ্বাস নাক দিয়ে নেওয়া যায়। এতে শেখা আর মনে করার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মস্তিষ্ক অনেকটা দৃঢ় হয়। মনে করার ক্ষমতা বাড়ে। গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে নতুন আবিষ্কৃত একটি যন্ত্রও।

গবেষণাটি করার সময় বারোটি আলাদা আলাদা গন্ধ দু’টি আলাদা পরিস্থিতিতে উপস্থিত করেন তাঁরা। তার পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের হয় নাক দিয়ে অথবা মুখ দিয়ে কোনো একটি ভাবে টানা এক ঘণ্টা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে বলেন। তার পর নতুন পুরোনো মিলিয়ে আবার বারোটি গন্ধ উপস্থিত করেন। আর কোনো গন্ধ তাঁরা চিনতে পারছেন কি না জানতে চান। তাতে দেখা গিয়েছে যাঁরা নাক দিয়ে শ্বাস নিয়েছিলেন, তাঁরা অনেক ভালো ভাবে গন্ধ চিনতে পেরেছেন।

এটি ছিল প্রথম ধাপ। পরের ধাপে দেখা হয়েছিল এটি কী ভাবে স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত, সেই বিষয়টি। আর্টিন বলেন, আগে মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার মতো কোনো ব্যবস্থা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা তার এত দিন ছিল না। এখন ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। এখন একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমেই বিষয়টি ধরা যায়। যাকে বলা যায় ‘ঘ্রাণ সংক্রান্ত বাল্ব’। এর সাহায্যে শুধু গন্ধ নয়, মস্তিষ্কে বায়ুর আনাগোনা, পরিস্থিতি অনুযায়ী শ্বাসপ্রশ্বাসের নানান ওঠানামা ইত্যাদিও বোঝা যায়।

আর্টিন আরও বলেন, এই বিষয়টি নতুন নয়। বরং হাজার বছরের পুরোনো। সেই সময়ের যোগাভ্যাসের মূল বিষয়ই ছিল এটাই। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে, প্রত্যক্ষ ভাবে কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। বোঝানো যায়নি আসলে কী কী ঘটনা ঘটে মস্তিষ্কের ভেতরে। এই নতুন যন্ত্রের সাহায্যে সেটাই সামনে আসছে।

উল্লেখ্য, গবেষণাটি করা হয়েছে কেনাট অ্যান্ড অ্যালিস ওয়েলনবার্গ ফাউন্ডেশন, সুইডিশ রিসার্চ কাউন্সিল, নেদারল্যান্ড অর্গানাইজেশন অব সাইন্টিফিক রিসার্চ ইত্যাদির অর্থানুকুল্যে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here