মানবহৃদয়ের পেশিকোষগুলি মহাকাশে অন্য রকম আচরণ করে: গবেষণা

0
space
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: মানবহৃদয়ের পেশিকোষগুলি নাকি মহাকাশে অন্য রকম আচরণ করে। কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে এসে আবার ঠিক হয়ে যায়, সাধারণ ধর্মে ফিরে আসে – এমনটাই বলছেন এক দল বিজ্ঞানী। তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেসস্টেশন অর্থাৎ আইএসএস-এ কয়েক সপ্তাহ ধরে মানুষের হৃদয়কোষের নমুনা রেখে তা পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেই অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্তে পৌঁচেছেন তাঁরা। সেখানে তাঁরা সেল লেভেল কার্ডিয়াক ফাংশন ও জিনের অভিব্যক্তি পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাঁদের এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘স্টেম সেল রিপোর্ট’ পত্রিকায়।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র স্টাডি অথার জোসেফ সি ওয়ু বলেন, অন্য পরিবেশের সঙ্গে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারছে এই মানবহৃদয়ের পেশিকোষগুলি। এই ঘটনা দেখে তাঁরা খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

এই গবেষণা থেকে কী উপকার হতে পারে?

এই গবেষণা কোষীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত পড়াশোনা ও মহাকাশে স্পেস ফ্লাইটে মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক খুলে দিতে পারে। পাশাপাশি পৃথিবীতে হৃদয় নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও নব দিগন্তের দ্যোতক হয়ে উঠতে পারে, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী কী পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল?

সি ওয়ু ও তাঁর সহযোগীরা তিন জন ব্যক্তির কাছ থেকে রক্তকণিকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই রক্তকণিকাকে রিপ্রোগ্রাম করেন। তার পরে হাইপিএসসি-সিএমএস-এ আলাদা ভাবে স্থাপন করেন। হাইপিএসসি-সিএমএস হল হিউম্যান ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল ডাইরাইভড কার্ডিওমিওসাইট। অর্থাৎ কার্ডিয়াক রোগ নিয়ে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভিট্রো প্ল্যাটফর্ম।

এর পর তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্পেস স্টেশনে। সে ক্ষেত্রে মহাকাশযানের সাহায্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি পৃথিবীতেও তা এক সেট রাখা হয়। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে। কারণ তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে তা সাহায্য করবে।

এর পর কয়েক সপ্তাহ পরে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয় ওই কোষগুলিকে। দেখা যায় একই গঠন ও অঙ্গ সংস্থানগত দিক থেকে এইগুলি এক্কেবারে স্বাভাবিক আছে।

তা ছাড়াও তাঁরা আরএনএ-ও পরীক্ষা করেছেন এই একই পদ্ধতিতে। ৪.৫ সপ্তাহ এই পরীক্ষা করতে সময় লেগেছিল।

পৃথিবীতে ফিরে আসার ১০ দিন পরে কোষগুলি স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন – ডায়নোসার প্রসঙ্গে এ কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

এই পরীক্ষা থেকে কী পেলেন গবেষকরা?

তাঁরা দেখেছেন, বিভিন্ন অবস্থানে অর্থাৎ পৃথিবী মহাকাশযান ও তার পরের অবস্থানে ২৬৩৫টি জিনকে আলাদা ভাবে পাওয়া গিয়েছে।

এই পরীক্ষায় নতুন ধরনের জিনের প্রকাশ দেখা গিয়েছে।

এর থেকে মাইটোকনড্রিয়ার ক্রিয়া নিয়ে বিশেষ ভাবে আলোকপাত করা যাবে।

সব থেকে বড়ো কথা পরিবর্তিত পরিবেশে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাটি গবেষকদের খুবই উৎসাহিত ও অবাক করেছে।

উল্লেখ্য, আগের গবেষণাগুলিতে দেখা গিয়েছে স্পেস ফ্লাইটে হৃদয়ের কার্যকারিতার কিছু পরিবর্তন হয়। যেমন – হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া, কার্ডিয়াক ফাংশনের পরিবর্তন হওয়া, ধমনীর চাপ কমে যাওয়া, হৃদপিণ্ডের কাজের সামগ্রিক পরিবর্তন হওয়া। তবে এই পর্যন্ত বেশির ভাগ কার্ডিওভাসকুলার মাইক্রোগ্রাভিটি ফিজিওলজির গবেষণা মানববিহীন মডেল বা কোষ বা অঙ্গে করা হয়েছে অথবা সিস্টেমিক স্তরেই পরিচালিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.