নাইরোবি : “আমিই এক মাত্র ভারতীয় যে মহাকাশে গেছি। তাও ৩৩ বছর আগে। তার পর থেকে আর কোনো ভারতীয় মহাকাশে যাননি। আমার খুব খারাপ লাগে। আমি একাকীত্ববোধ করি।”। সাংবাদিকদের কাছে নিজের দুঃখ প্রকাশ করেছেন মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা। নাইরোবিতে আয়োজিত জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, তাঁর দুই সঙ্গী আর বেঁচে নেই। এতে তিনি খুবই দুঃখিত। “এই অভিযান আমার জীবন একদম বদলে দিয়েছে”, বলেন ভারতীয় সেনার এই প্রাক্তন বিমান চালক। দেশের মহাকাশ অভিযান কি রাজনৈতিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে? এর উত্তরে বলেন, তিনি মনে করেন না এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ আছে।

১৯৮৪ সালে তিনি মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন।

বর্তমান ভারতের মহাকাশ গবেষণা নিয়ে তাঁর মন্তব্য কী?

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। অল্পদিনেই ভারত মহাকাশ গবেষোণার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। ভারত কোনো প্রতিযোগিতায় নামেনি। তাই তার উন্নতি হয়েছে দ্রুত। দেশ নিজের মতো করে পথ বেছে নিয়েছে। সেটা এক দম ঠিক পথ। সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

নিজের অভিযানে কোনো মহাকাশচারী পাঠাতে পারেনি ভারত। এই নিয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কী করতে চাওয়া হচ্ছে? কী ভাবে সেটা করতে চাওয়া হচ্ছে? একাই সেটা করা সম্ভব নাকি অন্যদের সঙ্গে মিলে যৌথ ভাবে সেটা করা উচিত? তার ওপর সবটা নির্ভর করে। যদি মহাকাশচারী পাঠানোর কথা ভাবা হয় তা হলে দরকার অন্যদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করা। তা ছাড়া মহাকাশে মানুষ পাঠাতে গেলে দরকার মানুষবাহী মহাকাশ যানের। তা না হলে ব্যাপারটা হবে ঘোড়া আছে কিন্তু গাড়ি নেই এমন একটা ঘোড়ার গাড়ি।

অনেকেই বলেন ভারতের মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ কমানো উচিত। সে বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা তো নির্ভর করে কী ধরনের কাজ করা হবে তার ওপর। বিভিন্ন ধরনের কাজের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন বিভিন্ন রকম হয়।

রাকেশ শর্মা বলেন, দেশ এখন মহাকাশ গবেষণা শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের অভিযান দিয়ে শুরু করেছে। সফল হয়েছে। তার পর মঙ্গল অভিযান। তাতেও সফল। তিনি চান, দেশ যেন একা একা কিছু করার চেষ্টা না করে। এ ধরনের কাজ করতে গেলে প্রচুর সাহায্যের প্রয়োজন হয়। আর সেই সাহায্যের প্রয়োজন সর্বতো ভাবে। তাই তিনি মনে করেন না, জোর করে একা সবটা করা উচিত। তিনি বলেন, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটা সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে দেশ। ভাবিষ্যতে অন্য অভিযানের হাত ধরে তা আরও বাড়বে। তিনি মহাকাশ গবেষণায় দেশের এই দ্রুত উন্নতিতে খুবই গর্বিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here