বিগত ২০ বছরে মহাকাশবিজ্ঞানীরা প্রায় একশোটি গ্রহ মহাকাশের ইতিউতি আবিষ্কার করেছেন। ইউরোপিয়ান সার্দান অবজারভেটরি (ইএসও) ঘোষণা করেছে, পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য আরও একটি গ্রহের সন্ধান তাঁরা পেয়েছেন। এই গ্রহটির যা উষ্ণতা, সেই কারণে এখানে জল থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। জল জীবনধারণের জন্য সব চেয়ে জরুরি বিশেষ উপাদান। এর থেকেই বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, গ্রহটিতে প্রাণের উপস্থিতিও থাকতে পারে। এই গ্রহটির তাঁরা নাম দিয়েছেন প্রক্সিমা-বি। ‘প্রক্সিমা-বি’–র অস্তিত্ব আবিষ্কারের কথা ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রক্সিমা-বি-এর আয়তন পৃথিবীর আয়তনের সামান্য বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পৃথিবীর চেয়ে মাত্র ১.৩ গুণ বড়।  এই নবাবিষ্কৃত গ্রহটি যে নক্ষত্রটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তার নাম প্রক্সিমা সেন্টাউরি। এই নক্ষত্রটি সৌরমণ্ডলের সব থেকে নিকটতম নক্ষত্র। নতুন গ্রহটির কক্ষপথ প্রক্সিমা সেন্টাউরি থেকে ৭ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ইএসও-এর গবেষকরা জানাচ্ছেন, শুধু জল নয়, জীবনের জন্য একটা বায়ুমণ্ডলও দরকার হয়। কিন্তু এই গ্রহটিতে আদৌ জীবনধারণের উপযোগী বায়ুমণ্ডল আছে কিনা সে ব্যাপারে তাঁরা এখনও অন্ধকারে। তবে গ্রহটির কী ভাবে উৎপত্তি হয়েছে তা জানতে পারা গেলে এর বায়ুমণ্ডলের চরিত্রটিও বোঝা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা  জানান।

বিজ্ঞানীরা জানান, প্রক্সিমা সেন্টাউরি সূর্যের থেকে আয়তনে ছোট ও অনেকটাই ঠান্ডা। কিন্তু সূর্য থেকে বুধের দুরত্ব যতটা, প্রক্সিমা সেন্টাউরি থেকে গ্রহটির দুরত্ব তার আট ভাগের এক ভাগ মাত্র। যার ফলে আপাত ঠান্ডা সৌরমণ্ডলেও গ্রহটি বেশ গরম থাকে। এটি কক্ষপথে ঘোরার সময় নিজের কেন্দ্রকে ঘিরে ঘোরে না। তাই এই গ্রহের এক দিকে সব সময় আলো থাকে। অন্য দিক থাকে অন্ধকারে।  ব্যাপারটা ঠিক চাঁদের মতো। এই নতুন গ্রহের এক বছরকাল পূর্ণ হয় মাত্র ১১.২ দিনে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে গ্রহটি তার কক্ষপথে তার সূর্যকে এক বার ঘুরে আসে। এই গ্রহ লাল আলোয় ভরপুর।

মহাকাশ গবেষকরা জানান,  এর আগে অবিষ্কার হওয়া কেপলার-৪৫২ বি গ্রহটিতেও পৃথিবীর মতো কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে,  যেখানে প্রাণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। কিন্তু ওই গ্রহটিতে আলোর পৌঁছতেই সময় লাগে ১৪০০ বছর। মানুষ পৌছনো তো অসম্ভব। তবে প্রক্সিমা-বি তার তুলনায় অনেক কাছে অবস্থিত হলেও, সেখানেও পৌঁছনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। কারণ মহাকাশযানের গতি ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৫০০ মাইল হলেও সেখানে যেতে সময় লেগে যাবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার বছর। মানুষ কি এত বছর বাঁচে?

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here