ওয়েবডেস্ক: সারা বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনসংখ্যার প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন শিশু। অথচ তাদের কথা মাথায় রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না সরকার কিংবা বেসরকারি সংস্থা কেউই। এই নিয়েই সম্প্রতি সোচ্চার হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশু বিষয়ক শাখা ইউনিসেফ। ডিজিটাল জমানার ক্ষতিটুকু এড়িয়ে ইতিবাচক যা কিছু, তার সবটুকু নিংড়ে নিতে হবে, যা মোটেও সহজ কাজ নয়, জানিয়েছেন ইউনিসেফের কার্যনির্বাহী আধিকারিক অ্যান্টনি লেক।

ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের রোজকার জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই সহজ সত্যি স্বীকার করে নিয়েই ইউনিসেফ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা যেন শিশুদের ক্ষতি না করে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের। ডিজিটাল জগতে প্রবেশের অনুমতি যত সহজে পায় শিশুরা, ঠিক ততটাই যেন সহজে আসে সে জগতের নানা বিপদ থেকে সুরক্ষা। বাস্তবে এমন হয়না বলেই শিশুর অভিভাবক এবং শিশুজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে সে ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আর্জি জানিয়েছে ইউনিসেফ।

যেকোনো দেশের ডিজিটাল নীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হওয়া উচিত শিশু নিরাপত্তা। বলাই বাহুল্য, বেশির ভাগ দেশেই সেটা হয় না। অনলাইন দুনিয়ায় প্রবেশের সময় শিশুর পরিচয় গোপন থাকছে কি না, লক্ষ্য রাখা দরকার সে দিকেও। ডিজিটাল দুনিয়ার রকমারি হাতছানি কিন্তু শিশুদের মধ্যে বাড়িয়ে তুলছে অপরাধ মনস্কতা, হিংসা, বিচ্ছিন্নতাবাদ।

অ্যান্টনির মতে, “সমস্যা হল, ইন্টারনেটকে বানানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের কথা মাথায় রেখেই। অথচ দিন দিন সমাজের যে অংশে এটি ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি শিশু অথবা কিশোরদের। প্রাপ্তবয়স্কদের দুনিয়াটা দেখতে কিন্তু এরা প্রস্তুত নয়। আবার বেশির ভাগ (৫৬%) ওয়েবসাইট ইংরেজি ভাষায়। কাজেই ভিন্ন ভাষাভাসীরা সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতাবাদের শিকার হচ্ছে এই দুনিয়ায়।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here