ওয়েবডেস্ক: পরিবেশে উপস্থিত কার্বন ডাই অক্সাইড কে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করার সব শর্তই নাকি মজুত আছে মঙ্গলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে তেমনটাই। প্লাজমা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামী দিনে নাকি অনায়াসেই প্রয়জন মতো অক্সিজেন উৎপন্ন করা যাবে লাল গ্রহে। তাহলে নিশ্চয়ই খুব শিগগির সে গ্রহের মাটিতে পা রাখবে মহাকাশচারীরা। পৃথিবীতে তো বসবাসের জায়গা কমছে ক্রমশ। চাঁদের মাটিতে বসতি গড়ে তোলা যায় কিনা, সে নিয়ে রীতিমতো ভাবছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এবার কি তাহলে মঙ্গলেও ‘প্লট’ খুঁজবেন প্রোমোটারেরা? গবেষণা তো বলছে সে দিন আর বিশেষ দেরি নেই।

‘প্লাজমা সোর্স সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হওয়া গবেষণায় বলা হচ্ছে মঙ্গলের বাতাসে নাকি ৯৬ শতাংশই কার্বন ডাই অক্সাইড। পর্তুগালের পোর্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্যারিসের একোল পলিটেকনিকের একদল গবেষক বলছেন নন-থার্মাল প্লাজমা ব্যবহার করে এই কার্বন ডাই অক্সাইডকে সহজেই অক্সিজেনে রূপান্তর করা সম্ভব। মঙ্গলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ভাবেই পৃথিবীর থেকে বেশ খানিকটা কম। আর কম তাপমাত্রার প্লাজমার উপস্থিতিতেই কার্বন ডাই অক্সাইডের অণু ভেঙ্গে কার্বন এবং অক্সিজেন আলাদা হওয়া সম্ভব। একই কারণে পৃথিবীর চেয়ে এখানে কম্পনের প্রভাবও বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তাপমাত্রা কম থাকায় কার্বন ডাই অক্সাইডের অণুগুলো বিভাজিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও পৃথিবীর চেয়ে মঙ্গলেই তুলনামূলক ভাবে বেশি পাবে।

গবেষকরা আশাবাদী, গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গলে মহাকাশচারীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে খুব সাহায্য করবে। সহযোগী অক্সিজেনের বিকল্প হিসেবে লাল গ্রহ থেকেই যদি তৈরি করে নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, তা হবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী মাইলস্টোন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here