Connect with us

বিজ্ঞান

এক লক্ষ কোটি বছর আগে চাঁদেও ছিল চৌম্বকীয় শক্তি, বলছে গবেষণা

moon

ওয়েবডেস্ক: প্রায় এক লক্ষ কোটি বছর আগে অভ্যন্তরীণ ডায়নামো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে চাঁদ তার চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি হারিয়ে ফেলে ছিল, এমনটিই পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। চাঁদ থেকে সংগ্রহ করা পাথর বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, কী ভাবে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মতে, সম্ভবত চাঁদের কেন্দ্রটি পুরোপুরি ভাবে স্ফটিকে আকার ধারণ করার পরে এই বিশেষ শক্তিটি হারিয়ে গিয়েছে।

এমআইটির ডিপার্টমেন্ট অব আর্থ, অ্যাটমোস্ফিয়ারিক এবং প্ল্যানেটারি সায়েন্সের সৈয়দ মিঘানির নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের একটি দল এবং চিনের ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সের হুয়াপেই ওয়াং এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা বেশ কয়েক বছর ধরে চাঁদের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণারত ছিলেন।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীর একটি চৌম্বকীয় ক্ষেত্র রয়েছে। এই ক্ষেত্রটি পৃথিবীকে সূর্য থেকে আগত চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ থেকে রক্ষা করে। মনে করা হয়, পৃথিবীর কেন্দ্রে বিভিন্ন ধাতুর তরল স্রোত একটি বৈদ্যুতিক স্রোত উৎপন্ন করে, যা এই ম্যাগনেটিক বা চৌম্বকীয় শক্তির উৎস।

মনে করা হয়, চার লক্ষ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের আকারের একটি মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে চাঁদ সৃষ্টি হয়েছিল। তার পর সেই বিচ্ছিন্ন অংশই মাধ্যাকর্ষণের ফলে পৃথিবীর উপগ্রহ রূপে তার চার পাশে ঘুরে চলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে ছিল। কিন্তু ক্রমশ সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে সরে গিয়েছে। শুধু তাই নয় এখনও দূরে সরে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া চলছে। সরে যাওয়ার এই মাত্রা হল বছরে এক ইঞ্চি করে।

গবেষক লেখক বেঞ্জামিন ওয়েইস নিউজউইককে বলেছেন, সূর্য থেকে এক সুপারসোনিক প্লাজমা নির্গত হয়। চাঁদের একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র তার ভূপৃষ্ঠকে সূর্যের এই সুপারনোনিক প্লাজমা থেকে রক্ষা করত। তার ফলেই চাঁদের পৃষ্ঠ, বায়ুমণ্ডল ও আবহাওয়া সৌর গ্যাসে পরিপূর্ণ হতে পারেনি। কিন্তু এখন সেই শক্তিশালী ক্ষেত্রটি আর নেই। তাই এখন এর পৃষ্ঠ বায়ুমণ্ডল ও আবহাওয়া সৌর গ্যাসে পূর্ণ। তবে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি কী তৈরি করেছিল এবং ডায়নামো কখন বন্ধ হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি।

একটি গবেষণায় গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন, চার লক্ষ কোটি বছর আগে চাঁদের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ছিল ১০০ মাইক্রোটেসলা। এই পরিমাণ বর্তমানে পৃথিবীর শক্তির দ্বিগুণ।

এমআইটি প্রযুক্তি পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়েছে, চাঁদের পাথরগুলির নমুনা দেখে বোঝা গিয়েছে, বেশিরভাগই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে শিলাগুলি ঠাণ্ডা ও শক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোটো ছোটো পদার্থগুলি চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের দিকে একত্রিত হতে থাকে।

যদিও অগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা তিন লক্ষ কোটি বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই তিন লক্ষ কোটি বছরের চাঁদের ইতিহাস কিছুই জানা যায় না, প্রায় রহস্যঘন। কারণ সেখানে কোনো পাথরের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ২০১৭ সালে ওয়েইস এবং তাঁর সহকর্মীরা কিছু প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। এই প্রমাণ বলছে সাড়ে দুই লক্ষ কোটি বছর আগে চৌম্বকীয় শক্তি কমে ১০ মাইক্রোটেলসা হয়ে গিয়েছিল।   

পড়ুন – মানবহৃদয়ের পেশিকোষগুলি মহাকাশে অন্য রকম আচরণ করে: গবেষণা

আরও একটি পাথরে তাঁরা দেখতে পেয়েছেন, এক লক্ষ কোটি বছর আগের প্রমাণ। দেখা গিয়েছে, এই সময়ে চাঁদের ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ক্ষমতা কমে সর্বাধিক ০.১ মাইক্রোটেসলায় এসে পৌঁছেছে। এর থেকেই তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে, দেড় লক্ষ কোটি থেকে এক লক্ষ কোটি বছর আগে চাঁদের কেন্দ্রের ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকীয় শক্তি উৎপাদনকারী ডায়নামো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ওয়েইস বলেছেন, চাঁদের এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরির ডায়নামোটি কম পক্ষে দুই লক্ষ কোটি বছর সক্রিয় ছিল। তিনি বলেন, চাঁদও একটি মহাজাগতিক বস্তু। আর পাঁচটি মহাজাগতিক বস্তুর ঠাণ্ডা হওয়ার পদ্ধতি মেনে চাঁদও ঠাণ্ডা হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গল চাঁদের দ্বিগুণ। অনুমান করা যায় মঙ্গলের ডায়নামো প্রায় চার লক্ষ কোটি বছর আগেই থেমে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে চাঁদের ডায়নামো অস্বাভাবিক ভাবে দীর্ঘস্থায়ী ডায়নামো বা শক্তি উৎস সক্রিয় ছিল।

পড়ুন – নয়ের দশকের থেকে ৭ গুণ দ্রুত বরফ গলছে গ্রিনল্যান্ডে: গবেষণা

এই গবেষণা থেকে উঠে আসছে, মোট দুই রকমের শক্তির উৎস ছিল চাঁদে। এক ছিল পৃথিবীর অনেক কাছে অবস্থানের জন্য পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চাঁদের কেন্দ্রের ডায়নামোকে উজ্জীবিত করে রেখেছিল। দুই পরবর্তী ক্ষেত্রে পৃথিবীর মাধ্যকর্ষণের প্রভাব কাটিয়ে দূরে সরে গেলেও চাঁদের কেন্দ্রে তরল ধাতু কঠিন হওয়ার পদ্ধতি সক্রিয় ছিল। সেই স্ফটিকীকরণ পদ্ধতির কারণে ডায়নামো সক্রিয় ছিল। পরে ক্রমশ তরল ধাতু কঠিন হতে হতে এক সময় সম্পূর্ণ কঠিনে পরিণত হয়েছে ও ডায়নামো তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে  

তবে তিনি বলেছেন, এই ডায়নামোর কাজটি সম্পর্কে অর্থাৎ ডায়নামো যদি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় বা তার আগের পর্যায়ে ‘স্টপ স্টার্ট রেজিমে’ থাকে তা হলে সে সম্পর্কে আরও ভালো করে জানতে হবে। তার জন্য ছোটো ছোটো ও কম প্রাচীন পাথর নিয়ে আরও ভালো করে আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন। এই বিষয়ে ও তার বাইরে জানতে পারার ব্যাপারে গবেষকরা আশাবাদী। তাঁরা অ্যাপোলো স্যাম্পেলগুলিকে কাজে লাগিয়ে এই বিষয়ে ও প্রাচীন চাঁদের বিষয়ে জানার চেষ্টা করবেন।  

পড়ুন – ফিরে দেখা ২০১৯ : মহাকাশ

বিজ্ঞান

করোনা বাদে আর যে ৪টি সংক্রমণের ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত নেই

শুধু করোনা নয়, কয়েক বছর অথবা দশকের গবেষণার পরেও আরও বেশ কিছু সংক্রমণের ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি।

ওয়েবডেস্ক: ২০১৯ সালের শেষের দিকে চিনের উহানপ্রদেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কথা শোনা যায়। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকমাস। সারা বিশ্বের চাহিদা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারি রুখতে এখনও পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন বাজারে আসেনি। তবে শুধু করোনা নয়, কয়েক বছর অথবা দশকের গবেষণার পরেও আরও বেশ কিছু সংক্রমণের ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি।

দেখে নেওয়া যাক, তেমনই চারটি সংক্রমণ-

১. এইচআইভি

ভাইরাসটির সম্পূর্ণ নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচআইবি (HIV)। এই ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্টি হওয়ার রোগটির নাম এডস (AIDS) বা অ্যাকিউয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম।

১৯৮০ সালের পর থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩.৬৯ কোটি মানুষ। ভারতের মতো দেশেও এই রোগের ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগের সৃষ্টি করে। তবে এডস প্রতিরোধে নিরন্তর প্রয়াস কিছুটা হলেও লাগাম টানতে সফল হয়। কিন্তু ভ্যাকসিন এখনও অধরা।

২. মার্স

মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (MERS)। ২০১২ সালে এই রোগটি কতকটা কোভিড-১৯-এর মতোই ছড়িয়ে পড়েছিল।

তবে এটি বেশিরভাগ সংক্রমণ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিতে দেখা গিয়েছিল। এই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের এটাই ছিল অন্যতম কারণ। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে এতটা সহজে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। এখনও কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে সংক্রমণ দেখা যায়।

মজার বিষয় হল, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই এই রোগের একটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

৩. এনসেফালাইটিস

বক, শূকর আর বিশেষ ধরনের কিউলেক্স মশার উপস্থিতিই ছড়িয়ে যেতে পারে মারণ রোগ এনসেফেলাইটিস (Encephalitis)। প্রাথমিক ভাবে আর পাঁচটা সাধারণ জ্বরের উপসর্গ নিয়ে এলেও দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মস্তিস্কে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এনসেফালাইটিসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের।

এনসেফালাইটিসে মৃত্যু হার প্রায় ৬ শতাংশ। জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাস (Japanese encephalitis virus) প্রতিরোধে ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত মেলেনি। ভারতের বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে এনসেফালাইটিসের প্রাদুর্ভাব বেশি। শিশু-কিশোরদের সহজেই কাবু করে দেয় এই ভাইরাস।

৪. সার্স

২০০৩ সালে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল সার্স (SARS) নামের এক সংক্রামক ভাইরাস। যাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ১৭টি দেশে মৃত্যু হয়েছিল আটশোর বেশি।

সার্সের লক্ষণগুলিও কোভিডের মতোই। এবং এদের উৎপত্তি একই পরিবার থেকে। সংক্রমণটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ভ্যাকসিন তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছিলেন, গবেষণা চালিয়েছিলেন। যাইহোক, প্রাদুর্ভাবটি নিজে থেকে দূরে চলে যায় এবং কখনও ফিরে আসেনি। ফলে ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণাও স্থগিত হয়ে যায়।

Continue Reading

বিজ্ঞান

করোনাভাইরাস সুপার স্প্রেডার কী?

গত মে মাসে ঘানার একটি মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে এক কর্মী ৫০০ জনকে সংক্রামিত করেন।

ওয়েবডেস্ক: বিয়ের ঠিক দু’দিন পর মারা গিয়েছেন বিহারের পটনা থেকে ৫০ কিমি দূরে পালিগঞ্জের দেহপলিগ্রামের এক বাসিন্দা। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ‘বর’ করোনাভাইরাসে (Coronavirus) সংক্রামিত হওয়ার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন বলে ধারণা।

গুজরাত থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন ওই ব্যক্তি। তার পর বিয়ে। চলতি মাসের ই তিনি মারা যান। বিহারের এই বিয়েবাড়ির ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। বিয়েবাড়িতে অংশ নিয়েছিলেন ৩৬৯ জন আমন্ত্রিত। সরকারি হিসেবে, সোমবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ জন। আবার তাঁদের সংস্পর্শে আসা আরও ২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

বিহারে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাটিই সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক ‘সুপার স্প্রেডার’কে সামনে এনে দিয়েছে।

সুপার স্প্রেডার কী?

সুপার স্প্রেডার হলেন এমন ব্যক্তি, সাধারণত অন্য কোনো সংক্রামিত ব্যক্তির তুলনায় একাধিক ব্যক্তিকে সংক্রামিত করার সম্ভাবনা যাঁর মধ্যে বেশি।

সচরাচর কোনো কোভিড-১৯ (Covid-19) আক্রান্তের থেকে গড়ে ২-৩ জনের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও কোনো কোনো ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর হার অনেক বেশি। মহামারি বিশেষজ্ঞরা তাদেরই সুপার স্প্রেডার হিসাবে চিহ্নিত করেন।

অঙ্কটা কী রকম?

এক জন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসে সর্বাধিক কতজন সংক্রামিত হলে, তাঁকে সুপার স্প্রেডার বলা চলে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে পারেননি।

তবে মহামারি বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে তুলনামূলক ‘আরও’ (RO) মাপকাঠিকে ব্যবহার করেন। একজন আক্রান্তের কাছ থেকে কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সেটারই একটি আনুমানিক সূচক ধরা যেতে পারে। এই আরও-র গড় ২.৫, অর্থাৎ, এক জন আক্রান্তের থেকে গড়ে আড়াই জন পর্যন্ত সংক্রামিত হতে পারেন। কিন্তু এর কোনো স্থির মাপকাঠি এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

একই ভাবে কোনো ব্যক্তির সুপার স্প্রেডার হয়ে ওঠার নেপথ্য নির্দিষ্ট কোনো কারণকেও চিহ্নিত করা হয়নি। কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ, আইসোলেশনে পাঠানো, চিকিৎসা ইত্যাদির মাধ্যমে সুপার স্প্রেডারের (super spreader) সংখ্যা কমানো সম্ভব।

আরও কয়েকটি নমুনা

এর আগে ইতালি এবং জার্মানি থেকে ফেরত আসা বলদেব সিং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে ঢুকে পড়েন। ফলস্বরূপ তাঁর পরিবারের ১৯ জন সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। সরকার সংলগ্ন ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে কোয়রান্টিনে পাঠায়।

গত মে মাসে ঘানার একটি মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে এক কর্মী ৫০০ জনকে সংক্রামিত করেন।

Continue Reading

বিজ্ঞান

কোভাক্সিন কী? জেনে নিন বিস্তারিত

ওয়েবডেস্ক: কোভিড-১৯ প্রতিরোধে এখনও পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিনই (Vaccine) অনুমোদন পায়নি। তবে একশোর উপর সংস্থার তৈরি কয়েক ডজন ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে মানুষের শরীরে। ভারতে তৈরি একটি ভ্যাকসিনও যথেষ্ট আশার সঞ্চার করেছে। মানুষের শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল নিয়েও আশাবাদী প্রস্তুতকারক সংস্থাটি।

কী এই কোভাক্সিন?

ভারতে মানুষের শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেতে চলা প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কোভাক্সিন (Covaxin)। যেটি তৈরি করছে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech)।

কোন পর্যায়ে রয়েছে কোভাক্সিন?

সংস্থা দাবি করেছে, মানুষের শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে কোভাক্সিনের প্রয়োগ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (DCGI) অনুমোদন পেয়েছে।

পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভায়রোলজি থেকে সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2) ভাইরাসের একটি স্ট্রেন ভারত বায়োটেকে স্থানান্তরিত হয়। সেটি থেকেই ভ্যাকসিনটি তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, প্রাথমিক ভাবে প্রিক্লিনিকাল গবেষণায় ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে।। এরপর মানুষের শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বাকিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সংস্থা দাবি করেছে, ডিসিজিআই, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণমন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটির প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুমোদন করেছে। প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণার সুরক্ষা এবং প্রতিরোধের ভ্যাকসিনটির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উঠে আসার পরই এই ছাড়পত্র মিলেছে।

চলতি জুলাই মাসেই ভারতে কোভাক্সিনের হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (Human clinical trial) নির্ধারিত হয়েছে।

কেন্দ্রের ইঙ্গিত

গত মঙ্গলবার  কোভিড-১৯ (Covid-19) টিকাকরণের (vaccination) প্রস্তুতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কবে কার্যকরী ভ্যাকসিন (Vaccine) আসতে পারে, সেই টিকা কী ভাবে দেওয়া যেতে পারে, ইত্যাদি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, সমস্ত ধরনের উন্নত প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে কার্যকরী টিকাকরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টিকাকরণের বিষয়টি নিয়েও সময় থাকতেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। ইতিমধ্যেই কোভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দিতে পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM-CARES Fund) থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

Continue Reading
Advertisement
ক্রিকেট7 hours ago

ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনে ঐতিহাসিক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বাংলাদেশ9 hours ago

জাল করোনা-শংসাপত্র চক্রের অন্যতম পাণ্ডা ধৃত ও চাকরি থেকে বরখাস্ত

রাজ্য10 hours ago

রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার পার, কমছে মৃত্যুহার

রাজ্য10 hours ago

রাজ্যের লক্ষ্য দৈনিক ১ লক্ষ করোনা নমুনা পরীক্ষা করা, আসছে নতুন যন্ত্র

পরিবেশ11 hours ago

একুশ শতকে প্রথম মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল সোনালি বাঘকে

দেশ11 hours ago

কেরল সোনা পাচারকাণ্ড: এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার স্বপ্না সুরেশ, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

indian post
শিল্প-বাণিজ্য12 hours ago

দেখে নিন পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সর্বশেষ সুদের হার

দেশ13 hours ago

ঘোড়া আস্তাবল থেকে পালালে তবেই কংগ্রেসের ঘুম ভাঙবে? সচিন পায়লট প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য কপিল সিবালের

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা6 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা7 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা1 week ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

নজরে