InSight
মঙ্গলে নামার ঠিক আগে 'ইনসাইট'।

ওয়েবডেস্ক: সেই ছ’ বছর আগে ২০১২ সালে মঙ্গলের মাটিতে নেমেছিল ‘কিউরিওসিটি রোভার’। ছ’ বছর পর নামল নাসার আরেক মঙ্গলযান ‘ইনসাইট’। সোমবার ভারতীয় সময় রাত ১টা ২৭ মিনিটে লাল গ্রহে পদার্পণ করে ‘ইনসাইট’।

লাল গ্রহে পৌঁছেই একটা টুইট করেছে ‘ইনসাইট’। বলেছে, “বেশ সুন্দর জায়গা। আমার নতুন বাড়িকে জানার জন্য অপেক্ষা করছি।”

ছ’ মাসের বেশি সময় ধরে মহাকাশে ৩০ কোটি মাইলেরও বেশি যাত্রা করে মঙ্গলের মাটি ছুঁল ‘ইনসাইট’। নাসা থেকে এই মঙ্গলযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ৫ মে।

সংক্ষিপ্ত নাম ‘ইনসাইট’, পুরো নাম ইন্টেরিওর এক্সপ্লোরেশন ইউজিং সিসমিক ইনভেস্টিগেশনস, জিওডিসি অ্যান্ড হিট ট্রান্সপোর্ট। ‘ইনসাইট’ হল মার্কিন গবেষণাকেন্দ্রের ২১তম মঙ্গল অভিযান। ৮৮০ পাউন্ড তথা ৩০০ কেজি ওজনের ‘ইনসাইট’ দু’ বছর ধরে লাল গ্রহ নিয়ে গবেষণা করবে।

কী করবে ‘ইনসাইট’

৪৫০ কোটি বছর আগে একই সঙ্গে জন্ম হয়েছিল মঙ্গল আর পৃথিবীর। একই রকম ছিল তারা – অল্প গরম, ভিজে ভিজেম ঘন আবহমণ্ডলে আচ্ছাদিত। তার পর একশো- দেড়শো কোটি বছর পরে দু’ জনে দু’ পথে চলে যায়। মঙ্গল অপরিবর্তিত থাকে আর পৃথিবীতে পরিবর্তন ঘটতেই থাকে। ‘ইনসাইট’-এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দু’টি গ্রহের তুলনামূলক সমীক্ষা করার আশা করেন। মঙ্গল গ্রহ তৈরি হওয়ার পর এই প্রথম ওই গ্রহের সার্বিক পরীক্ষা করা হবে। এর জন্য ‘ইনসাইট’ একটা সিসমোমিটার বসাবে। ‘ইনসাইট’ জানতে চাইবে কী দিয়ে মঙ্গল তৈরি, কী ভাবে স্তরে স্তরে সেই সব উপকরণ মঙ্গলে আছে এবং এর থেকে কত উত্তাপ বেরিয়ে আসে।

মঙ্গলে নেমে লাল গ্রহের ছবিও পাঠিয়ে দিয়েছে ‘ইনসাইট’। বলেছে, “মঙ্গলের প্রথম ছবি। আমার লেন্স কভারটা এখনও খোলা হয়নি। তবুও আমার নতুন বাড়িটা কেমন তার একটা আভাস দিলাম।”

মঙ্গলে প্রাণ আছে কিনা এই নিয়ে কোনো অনুসন্ধান চালাবে না ‘ইনসাইট’। ওই কাজ ভবিষ্যতের ‘রোভার’রাই করবে। ২০২০ সালে নাসা যে মঙ্গল অভিযান চালাবে তাতেই রোভার পাঠানোর কথা। সে মঙ্গল থেকে পাথর সংগ্রহ করবে, পৃথিবীতে নিয়ে আসবে এবং প্রাচীন প্রাণের অনুসন্ধান করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here