সমুদ্র

ওয়েবডেস্ক : ২০১৯ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা ছিল সব থেকে বেশি। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রার তুলনায় অনেকটাই বেশি গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে। গত বছর এই তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল ০.০৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। এমনটাই জানা গিয়েছে একটি নতুন গবেষণার মাধ্যমে।

এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে, ‘চাইনিজ জার্নাল অ্যাডভান্স ইন অ্যাটমোস্ফিয়ারিক সায়েন্স’ নাম একটি পত্রিকায়। চিনের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের ‘ইনস্টিটিউট অব অ্যটমোস্ফিয়ারিক ফিজিক্স’ পেপারের প্রধান লেখক এবং সহযোগী অধ্যাপক চেং লিজিং। তিনি বলেছেন, উষ্ণতার এই পরিমাপ সমুদ্রের উষ্ণায়ণের ব্যাপারটি যেমন প্রমাণ করল, পাশাপাশি এটি কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়ণের আরও একটি বড়ো প্রমাণও।

চেং বলেন, এই পরিস্থিতি সামনালোর জন্য তাপমাত্রা শোষক গ্যাস নির্গত করা ছাড়া আর কোনো কার্যকর পন্থা নেই।

এই গবেষণা এ-ও দেখেছে যে, সমুদ্রের তাপমাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চেং বলেছেন, ১৯৫৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে যে তাপমাত্রা ছিল তার থেকে ১৯৮৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাপমাত্রা সাড়ে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাসের আচ্ছাদন ইত্যাদি। তা ছাড়াও সমুদ্র ও আবহাওয়া একে অপরের সঙ্গে খুব দৃঢ় ভাবে সম্পর্ক যুক্ত। তাই জন্যই মহাসাগর গরম হয়ে গেলে পরিবেশের আবহাওয়াও বদলে যায়। কখনও তা খরা সৃষ্টি করে কখনও তা আবার অতিবৃষ্টি সৃষ্টি করে।

পড়ুন – নির্বাচনে প্লাস্টিক ব্যবহার করে আইনি গেরোয় কেন্দ্র এবং কমিশন

গবেষকদের কথা অনুযায়ী, মানুষ নিজেদের কার্যের প্রতিক্রিয়া বিপরীত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও বায়ুমণ্ডল ও স্থলভাগের আবহাওয়ার তুলনায় সমুদ্রের আবহাওয়ার সেই ভাবে সাড়া দিতে একটু সময় বেশি লাগবে। 

চেং বলেছেন, যদি বিশ্ব পরিবেশের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে দাঁড়িয়েও যায়, তা হলেও সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে। সুতরাং প্রশমন ও অভিযোজন দুই দরকার। ১৯৭০ সাল থেকে উষ্ণায়ণের ৯৭% তাপমাত্রাই সমুদ্রের দিকে গিয়েছে। মাত্র ৪%-এরও কম তাপমাত্রা স্থলভাগ ও বায়ুমণ্ডলের দিকে প্রসারিত হয়েছে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন