সিডনি : ৫৮ কোটি নয় প্রাণের সৃষ্টি ৩৫০ কোটি বছর আগে। অস্ট্রেলিয়ার ৩৫০ কোটি বছরের প্রাচীন একটি পাথরের ওপর প্রাচীনতম প্রাণের সন্ধান মিলল।

১৮৭১ সালে বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, প্রথম প্রাণের জন্ম হয়েছিল ছোট্ট গরম জলাশয়ে। এ বার নতুন এই আবিষ্কার তাঁর এই তথ্যকে ঠিক প্রমাণ করল। কারণ প্রাচীনতম এই প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা ক্রাটনে প্রাচীন একটি গরম জলের প্রস্রবণের সঞ্চয় কার্যের ফলে তৈরি হওয়া এলাকা থেকে।

সেখানে এই প্রাচীনতম জীবাশ্ম পাথরের স্তরে স্তরে খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় মিলেছে। এই স্তরগুলো তৈরি হয়েছে এক প্রকার মাইক্রোব বা জীবাণুর দ্বারা। এরা যেমন পাথরে স্তর তৈরি করেছে তেমনই এক প্রকারের সাদা বুদবুদেরও সৃষ্টি করেছে। সেই বুদবুদগুলো পাথরের ওপর আস্তরণের সৃষ্টি করেছিল।

নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তারা ডিজোকিক বলেছেন, এই আবিষ্কার নতুন করে এটাই বলল যে প্রাণের জন্ম সময় নিয়ে এত দিন যে ধারণা ছিল, আসলে তার থেকেও বহু কোটি বছর আগে প্রাণের জন্ম হয়েছে। এই আবিষ্কার এটাই প্রমাণ করল যে আসলে স্থলভাগের ওপর পরিষ্কার গরম জলে প্রাণের সৃষ্টি। সমুদ্রে নয়। আগে ভাবা হত প্রথমে জলে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তা স্থলে আসে।

ডিজোকিক বলেন, এত দিন বৈজ্ঞানিকরা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন। এক দল ভাবতেন প্রাণের সৃষ্টি জলে, আর এক দল ভাবতেন প্রাণ সৃষ্টি হয় স্থলে। এই আবিষ্কার স্থলকেই প্রমাণ করল।

এই আবিষ্কার পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান করার ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, মঙ্গলেও একই ভাবে গরম জলের সঞ্চয় কার্যের ফলে স্থল ভাগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানেও তাপমাত্রা এমন একটি অবস্থায় রয়েছে যেখানে প্রাণের সঞ্চার হওয়ার এই তত্ত্বটি কাজে লাগিয়ে প্রাণের সন্ধান করা যেতে পারে।

এই আবিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে, ‘নেচার কমিউনিকেশন’ পত্রিকায়।

ছবি সৌজন্যে : নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here