এক ওষুধে একাধিক ভাইরাস দমন, গবেষণায় সাফল্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর

একটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি প্রোটিনের সন্ধান পান যা একাধিক ভাইরাসকে নিধন করতে সক্ষম। তাঁর এই গবেষণা একটি জার্নালে প্রকাশের পর থেকে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানী মহলে।

0
HEMAYET-ULLAH

ওয়েবডেস্ক : ডেঙ্গুর মতো মারণ রোগ-সহ একাধিক ক্ষতিকর ভাইরাস খতমে সক্ষম ওষুধ আবিষ্কারের পথে সাফল্য পেলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হেমায়েত উল্লাহ বর্তমানে আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। সেখানেই তিনি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নিয়ে গবেষণা করছেন।

একটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি প্রোটিনের সন্ধান পান যা একাধিক ভাইরাসকে নিধন করতে সক্ষম। তাঁর এই গবেষণা একটি জার্নালে প্রকাশের পর থেকে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানী মহলে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানী হেমায়েত উল্লাহর সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা একটা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নিয়ে কাজ করছিলাম। আমরা দেখতে পাই এই একই প্রোটিন বহু ক্ষতিকর ভাইরাস নিজের বিস্তৃতির জন্য ব্যবহার করে। মানুষের দেহেও ওই একই প্রোটিন করেছে, যাকে ব্যবহার করে বহু ভাইরাস। এটা বোঝার পর আমরা ওই প্রোটিনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে ওষুধ তৈরি করি, যাতে সংশ্লিষ্ট ভাইরাসটি আর বংশবিস্তার করতে না পারে।’’ গবেষণার প্রথম ধাপে তাঁরা সফল হয়েছেন বলে বিজ্ঞানী ড. হেমায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন।

প্রচলিত ভাইরাসঘটিত রোগের ওষুধগুলি অনেক সময় মানুষের দেহে অকার্যকর হয়ে যায়। ভাইরাস প্রতিরোধের কোনো ওষুধ তৈরির জন্য মানুষ যেমন ভাইরাসটি পর্যবেক্ষণ করে। তেমনি ভাইরাসটিও ওষুধের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে।  ফলে নিজেকে অভিযোজিত করে ভাইরাসটি ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।

Shyamsundar

ফলে অনেক সময় দেখা যায়, এক সময় কার্যকরী হলেও পরে ভাইরাস দমনে ওষুধটি আর কাজ করছে না। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী হেমায়েত উল্লাহর গবেষণা। তাঁর ওষুধ ভাইরাসকে নিয়ে নিয়ে নয়, তাকে পুষ্টি জোগায় যে প্রোটিন তাকে নিয়ে। ফলে ওষুধটি অকার্যকরী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব কম থেকে যাচ্ছে।

ড. হেমায়েত উল্লাহর সঙ্গে এই গবেষণায় কাজ করেছেন, হাবার্ড স্কুল অফ মেডিসিনের দুই গবেষক কি চ্যাং এবং সার্গেই নেখাই। তাঁরা যে প্রোটিনটির সন্ধান পেয়েছেন তার নাম রিসেপ্টর ফর অ্যাকটিভেটেড সি কিন্যাজ (রাক ১) গবেষণার পর্বটি প্রাথমিক ধাপে রয়েছে বলে বিজ্ঞানী জানিয়েছেন। কোনো প্রাণীর দেহে প্রয়োগের পরই এর কার্যকারিতা ভালো ভাবে বোঝা যাবে। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে ভাইরাসরোধী ওষুধ আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।  

[বিজ্ঞান সংক্রান্ত আরো খবরের জন্য ক্লিক করুন এখানে]

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন