২০০৪ সালে অর্কুট বুয়ুককতেন এবং গিথিন জোসে তৈরি করেছিলেন অর্কুট। সেটা ছিল গুগলের মধ্যেই তাদের একটি স্বাধীন প্রোজেক্ট। এক দশক পর ২০১৪ সালে অর্কুট যখন বন্ধ হল, তখন এই গ্রহে তার সদস্য সংখ্যা ৩০ কোটি। তখন থেকেই বুয়ুককতেন এমন কিছু করার চেষ্টা করছিলেন, যা আরও বেশি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ হবে। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ওয়েব দুনিয়ায় নিয়ে এসেছেন হ্যালো ডট কম। তাঁর আশা এই মোবাইল অ্যাপটি দুনিয়া জুড়ে যেসব মানুষ একই প্যাশন নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের মধ্যে নিবিড় সংযোগ ঘটাবে।

বুয়ুককতেন-এর নাম থেকেই নাম দেওয়া হয়েছিল অর্কুটের। তিনি মনে করছেন হ্যালো অর্কুটেরই উত্তরসূরি। এই অ্যাপ ব্যক্তিকে নয়, তিনি যা করতে ভালবাসেন, সেটিকে নিয়েই সংযোগ রক্ষার কাজ করবে।

হ্যালো এমন একটা সময় বাজারে আসছে, যখন ফেসবুক সোশাল মিডিয়ার দুনিয়া শাসন করছে। কিন্তু এই অ্যাপ কোনও বাড়তি তথ্য চায় না। আপনি সাইন আপ করলেই সে আপনাকে আপনার পছন্দের পাঁচটি ‘পারসোনা’ বাছাই করতে বলবে। সেটা হতে পারে ফটোগ্রাফার, পশুপ্রেমী, অভিনেতা, খাদ্য রসিক, অভিভাবক, ভ্রমণপ্রেমী ইত্যদি। আপনি চাইলে কিছুদিন পর কোনও একটি পারসোনা বাদ দিয়ে অন্যটিও বেছে নিতে পারেন।

আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য তৈরি এই অ্যাপ এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে ইংরাজি, ফরাসি, স্প্যানিশ, তুর্কি ও পর্তুগিজ ভাষায়। এই অ্যাপে আপনি যাই পোস্ট করুন, সেটা হতে হবে আপনার বাছাই করা পারসোনা-গুলির মধ্যে একটির অন্তর্গত। অন্যদের পোস্ট-ও আপনি দেখতে পাবেন। তবে এখানে কিছু লিখে পোস্ট করার তেমন একটা সুযোগ নেই। পোস্ট হতে হবে মূলত ছবি নির্ভর। এখনও  ভিডিও পোস্টিং করার সুযোগ নেই। যেটা হ্যালোর জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই মুহূর্তে হ্যালো অ্যাপ ডাউনলোড করা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ব্রাজিলে। বুয়ুককতেন এবং তাঁর টিম এই মাসের শেষের দিকে জার্মানি, ভারত ও মেক্সিকোয় অ্যাপটি লঞ্চ করার পরিকল্পনা করেছেন।

এখনও যদিও এটি শুধুই মোবাইল অ্যাপ, তবে আগামী দিনে ব্রাউজারেও আপনি ব্যবহার করতে পারবেন হ্যালো। অন্তত সংস্থার তরফে ইঙ্গিত তেমনই।  

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here