মঙ্গল ও চাঁদের মাটিতে ফলল ১০ রকমের ফসল! উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা

0
nasa
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: এতদিন খোঁজ চলছিল জলের। সেখানকার যে খবর এ বার বিজ্ঞানীরা জানালেন, তা শুনে তাক লাগারই কথা। তা হল রীতি মতো শাক-সবজি ফলছে পৃথিবীর বাইরের দুই মাটিতে। এক হল পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ। দুই হল পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ লালগ্রহ মঙ্গল। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ওপেন এগ্রিকালচার’ নামের একটি জার্নালে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলের মাটির সংগৃহীত নমুনায় এই ফসল ফলিয়েছেন গবেষকরা। তার পরই এমন দাবি করতে পেরেছেন তাঁরা। শুধু ফসল ফলিয়েছেন এমন নয়। এক দুইটি নয়, দশ-দশটি রকমের ফসল ফলেছে সেই নমুনা মাটিতে। এর মধ্যে রয়েছে পালংশাক, মটরশুঁটি, টমেটো, পেঁয়াজ এবং মুলো ইত্যাদি।

গবেষক উইগার ওয়ামেলিংক বলেন, তাঁরা যখনই দেখেছেন মঙ্গলের মাটিতে ফলা টমেটো লাল হতে শুরু করেছে তখনই খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এর পর সেখানে বসবাস করতে পারা নিয়ে আর চিন্তা থাকল না। খালি সেখানে পৌঁছনোর অপেক্ষামাত্র। এখন এ বার কৃষির উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

১৯৭৬ সালে মঙ্গলে একটি বাইকিং ল্যান্ডার পাঠিয়ে ছিল নাসা। সেই গবেষণাটির প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন গিলবার্ট ভি লেভিন। তিনি নাসার অন্য এক জন প্রবীণ বিজ্ঞানী। তিনিই বলেন, হয়ত সেই সময়ই, ৪০ বছর আগেই মঙ্গলে প্রাণের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। লেভিন বলেন, ওই পরীক্ষার নাম ছিল ‘লেবেলড রিলিজ’। মঙ্গলের মাটি পরীক্ষা করাই ছিল মূল কাজ। তখনই অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করেন লেভিন।  

যাইহোক, বর্তমানের এই পরীক্ষায় উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। নেদারল্যান্ডের ওয়াজেনিনজেন উইনিভার্সিটি ও রিসার্চের গবেষকরা এ কথাও বলেছেন, উৎপাদিত এই ফসল থেকে নতুন ফসল ফলানোর উপযুক্ত বীজ পাওয়াও সম্ভব। ফলে কোনো দিনও যদি মানুষ চাঁদ বা মঙ্গলে বসবাস করতে যায় তা হলে না খেতে পেয়ে মরতে হবে না। মানুষ নিজেই ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

গবেষকরা বলেন, এই গবেষণায় মঙ্গল ও চাঁদের সংগৃহীত মাটিকে পৃথিবীর সাধারণ মাটির মতোই করে নিয়েছিলেন গবেষকরা। ১০টির মধ্যে ন’টি ফসলই খুবই ভালো ফলেছে। খালি পালং শাকটাই ভালো হয়নি।

আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল মঙ্গলের নতুন ৩টি ছবি থেকে

বিজ্ঞানের আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here