Connect with us

বিজ্ঞান

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করল পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

PittCoVacc

ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণ ছড়িয়েছে বিশ্বের দু’শোর বেশি দেশে। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লক্ষ, মৃত কমপক্ষে ৫৩ হাজার মানুষ। কোভিড-১৯ মহামারী রুখতে একাধিক তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সে অর্থে কোনো ওষুধ অথবা প্রতিষেধক বাজারে আসেনি। এরই মধ্যে আমেরিকার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দাবি করল, তারা করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সফল হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যায়েলর স্কুল অব মেডিসিনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইঁদুরের উপর ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে সফল হয়েছে তারা। একটি ব্রিটিশ জার্নালে (EBioMedicine) ওই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এমনটাও বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হওয়ার পর আপাতত মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (Food and Drug Administration) অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।

উল্লেখ্য, যখন পিটসকোভ্যাক (PittCoVacc) ইঁদুরগুলির উপর পরীক্ষা করা হয়, তখন এটি দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাস, সারস-কোভি -২(SARS-CoV-2)-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সফল হয় বলে দাবি করা হয়েছে।।

আমেরিকার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সহ-সিনিয়র লেখক অ্যান্ড্রিয়া গ্যাম্বোত্তো বলেছেন, “২০০৩ সালে সারস-কোভি এবং ২০১৪ সালে এমআরএস-কোভি সম্পর্কে আমাদের আগের অভিজ্ঞতা ছিল। এই দু’টি ভাইরাস সারস-কোভি-২-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। স্পাইক প্রোটিন নামে পরিচিত একটি বিশেষ প্রোটিন এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন”।

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানতাম যে এই নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে ঠিক কী ভাবে লড়াই করতে হবে”।

আরও পড়ুন: মাত্র ৫ মিনিটেই হাতে মিলবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল!

অন্য দিকে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বর্তমান গবেষণায় যে ভ্যাকসিনটির কথা বলা হচ্ছে, সেটির সম্পর্কে আরও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষাগারে তৈরি করা যায়, এমন প্রোটিন তৈরি করতে হবে।

বিজ্ঞান

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)

ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের (Hydroxychloroquine) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু কথা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। এর আগে এই ওষুধের প্রয়োগে নিরাপত্তার দিকটি পর্যবেক্ষণ স্থগিত রেখেছিল সংস্থা।

বুধবার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে হু প্রধান টেড্রোস অ্যাডহ্যানোম গ্যাব্রিয়েসাস (Tedros Adhanom Ghebreyesus) বলেন, “প্রাপ্ত মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে…কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে”।

এর আগে কোভিড-১৯ রোগীদের উপর অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ বন্ধ করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

সম্প্রতি হু জানিয়েছিল, এই ওষুধের প্রয়োগ কোভিড-১৯ রোগীর ক্ষেত্রে সঠিক নয়। তারা কোভিড-১৯ রোগীর উপর এই ওষুধের পরীক্ষা করার বিষয়টি স্থগিত রাখছে। সংস্থার মতে, যে সব করোনা রোগীর উপর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর হার বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোভিড-১৯ (Covid-19) চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এটা এমন কোনো বিস্ময়কর ওষুধই নয়, উল্টে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিণতি মারাত্মকও হতে পারে। তাঁরা দাবি করছেন, এই ওষুধ যে কোভিড-১৯ (Covid-19) চিকিৎসায় কার্যকরী তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি।

এমনকী, এইমস-এর চিকিৎসক যুদ্ধবীর সিং বলেছেন, “একক ভাবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন অথবা অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে দেওয়ার ফলে বিশ্বে কয়েক জন রোগীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। এই ওষুধ পটাসিয়াম চ্যানেলকে ব্লক করে দেয়। হৃদস্পন্দনকে দীর্ঘায়িত করে। একাধিক গবেষণায় বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে”।

এমন পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ এ দিন দাবি করে, কোভিড-১৯ রোগীর উপর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হবে। আইসিএমআর বলে, “আমরা জানি না কোন ওষুধটা কাজ করবে আর কোনটা করবে না। কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার জন্য একের পর এক অসংখ্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে”।

পড়তে থাকুন

বিজ্ঞান

কোভিড ১৯ চিকিৎসায় রাশিয়ার প্রথম ওষুধ আগামী সপ্তাহ থেকেই

খবর অনলাইন ডেস্ক: আগামী সপ্তাহ থেকে কোভিড ১৯ (Covid 19) চিকিৎসায় রাশিয়া (Russia) তার প্রথম অনুমোদিত ওষুধটি প্রয়োগ করতে চলেছে। রয়টার্সকে এই খবর দিয়েছে রাষ্ট্রের প্রধান আর্থিক মদতকারী সংস্থা। তাদের আশা, রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর চাপ কমবে এবং স্বাভাবিক অর্থনৈতিক জীবনে দ্রুত ফিরে আসা সম্ভব হবে।

এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার আরডিআইএফ সভরেন ওয়েলথ ফান্ডের (RDIF Sovereign Wealth Fund) প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ (Kirill Dmitriev) রয়টার্সকে জানান, অনুমোদিত ওষুধটি ‘অ্যাভিফেভির’ (Avifavir) নামে নথিভুক্ত হয়েছে। রাশিয়ার হাসপাতালগুলি ১১ জুন থেকে কোভিড ১৯ রোগীদের উপর এই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধটি (antiviral drug) প্রয়োগ করতে পারবে। তিনি জানান, এই ওষুধ তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি মাসে অন্তত ৬০ হাজার রোগীর চিকিৎসা করার মতন ওষুধ উৎপাদন করবে।

আরও পড়ুন: মডার্নার করোনাভাইরাস টিকার প্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল

নতুন করোনাভাইরাসের (coronavirus) জেরে কোভিড ১৯ নামে যে রোগের সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠেকানোর জন্য প্রতিষেধক টিকা (vaccine) তৈরির চেষ্টা বিভিন্ন দেশে জারি থাকলেও এখনও কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি।

কোভিড ১৯-এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে গিলিড-এর (Gilead) অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ (Remdesivir) নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার সময় কিছু ইতিবাচক ফল মিলেছে এবং কিছু দেশে এমার্জেন্সি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

‘অ্যাভিফেভির’-এর জেনেরিক নাম ‘ফ্যাভিপিরাভির’ (Favipiravir)। গত শতকের নব্বই দশকের শেষ দিকে জাপানের একটি কোম্পানি প্রথম এটি তৈরি করে। পরে ফুজিফিল্ম স্বাস্থ্যপরিষেবায় যুক্ত হওয়ার পরে ওই কোম্পানি কিনে নেয়।

আরডিআইএফ প্রধান জানান, রুশ বিজ্ঞানীরা ওই ওষুধের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়েছে এবং আগেকার ওষুধে কী কী সংশোধন করা হয়েছে সেই তথ্য আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজি আছে মস্কো।

জাপানও ওই একই ওষুধ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে। সেখানে এই ওষুধের নাম ‘অ্যাভিগান’ (Avigan)। এই প্রচেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের জোরালো সমর্থন পেয়েছে এবং তাঁর সরকার এ ব্যাপারে ১২৮ মিলিয়ন ডলার সাহায্য করেছে। তবে এই ওষুধ ব্যবহারের কোনো অনুমতি সরকার দেয়নি।

রুশ সরকারের অনুমোদিত ওষুধের তালিকায় গত শনিবারই ঢুকে গিয়েছে ‘অ্যাভিফেভির’। দিমিত্রিভ জানান, ৩৩০ জন কোভিড ১৯ রোগীর উপর এই ওষুধ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের চিকিৎসা করে চার দিনের মধ্যে রোগীদের সুস্থ করে তুলেছে।

এক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষানিরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক বিশেষ দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

পড়তে থাকুন

দেশ

কোভিড নিরাময়ে টিকা তৈরির কাজ চালাচ্ছে ভারতের ৩০ সংস্থা

খবর অনলাইন ডেস্ক: কোভিড ১৯ (Covid 19) নিরাময় করতে অন্তত ৩০টি গোষ্ঠী টিকা উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে যেমন শিক্ষাবিদ রয়েছেন, তেমনই রয়েছে বড়ো শিল্প গোষ্ঠী। কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য বিজ্ঞান উপদেষ্টা (Principal Scientific Advisor) অধ্যাপক কে বিজয় রাঘবন (Prof. K Vijay Raghavan) বৃহস্পতিবার এ কথা জানান।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক রাঘবন জানান, এই ৩০টি গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ২০টি গোষ্ঠী ভালো গতিতে কাজ করছে।

ওষুধ আবিষ্কার হ্যাকাথনে (drug discovery hackathon) নেমেছে দ্য কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর CSIR) এবং অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই AICTE)। এই হ্যাকাথনে ওষুধ আবিষ্কারের বিষয়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

নীতি আয়োগের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সদস্য ভি কে পাল (V K Paul) বলেন, টিকা আর ওষুধ আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি খুবই শক্তিশালী।”

পড়তে থাকুন

নজরে