new born

ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম। এক জন মৃত মহিলার গর্ভ অন্য এক জন মহিলার শরীরে প্রতিস্থাপন করার পর সেই জরায়ুতে সন্তানধারণ ও সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম। জন্মের সময় সেই শিশুকন্যার ওজন ২৫৫০ গ্রাম অর্থাৎ ছয় পাউন্ড। গর্ভ ধারণের ৩৫ সপ্তাহ তিন দিন পর ভূমিষ্ঠ হয় এই শিশু। গর্ভ প্রতিস্থাপন থেকে সন্তানের জন্ম, গোটা প্রক্রিয়াটি ডাঃ ড্যানি ইজেনবার্গের তত্ত্বাবধানে ব্রাজিলের সাও পাওলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। এই খবর প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে’।

এই গর্ভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এক জন মৃত মহিলার শরীর থেকে। এই প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ধরে ধরে জরায়ুটির প্রত্যেকটি শিরা উপশিরা, পেশি, ধমনী, লিগামেন্ট অর্থাৎ সমস্ত অংশ নিখুঁত ভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন শরীরে। তার পর দীর্ঘ সময় নজর রাখা হয়েছে কোনো রকম সমস্যা হয় কিনা। তার জন্য করা হয়েছে একাধিক ডাক্তারি পরীক্ষাও।

প্রসঙ্গত এর আগে দশ বার চেষ্টা করা হয়েছে কোনো মৃত মহিলার শরীরের জরায়ু অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন আর তার সাহায্যে জীবন্ত শিশুর জন্ম দেওয়ানোর। কিন্তু প্রতি বারই প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে। এই পদ্ধতি সফল করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্কে।

আরও পড়ুন : অ্যাসিডিটি জ্বালিয়ে মারছে, জেনে নিন রেহাই পাওয়ার ৩টি সহজ উপায়

প্রতিস্থাপনের নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবারবর্গ স্বেচ্ছায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য মত দেয়। তার পরই গোটা ঘটনাটি সংঘঠিত হয়।

ডাঃ ইজেনবার্গ বলেন, জীবিত আর মৃত মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যে কী পার্থক্য তা এখনও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়নি। গোটা বিষয়টি এখনও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে সুইডেনে ২০১৩ সালে জীবন্ত মহিলার গর্ভ অন্য মহিলার শরীরে প্রতিস্থাপন করে তার সাহায্যে সুস্থ সন্তান প্রসব করানো হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে ৩৯টির মধ্যে ১১টি জীবন্ত শিশুর জন্ম হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দম্পতির মধ্যে শিশুর জন্ম দেওয়ায় জটিলতা থাকে। তার মধ্যে মাত্র ৫০০ জনে এক জনের জরায়ুর সমস্যা থাকে। সে ক্ষেত্রে দত্তক বা সারোগেসি ছাড়া সন্তানলাভের আর কোনো পদ্ধতি এত দিন ছিল না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here