ওয়েবডেস্ক: গাছের পাতার থেকে দশগুণ বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইডকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করতে পারবে কৃত্রিম এক পাতা। তা হলে কি বায়ু পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি এসে গেল? কী বলছেন গবেষকরা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক এক ধরনের কৃত্রিম সবুজ পাতার তৈরি করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, এর কার্য পদ্ধতি প্রাকৃতিক সবুজ পাতার মতোই। পরিবেশ থেকে জল আর কাবন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহ করে সূর্যালোকের সাহায্যে কার্বোহাইড্রেড গঠন করবে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে এসিএস সাসটেইনেবল কেমিস্ট্রি অ্যন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পত্রিকায়।

ইলিনয়েস বিশ্ববদ্যালয়ের সহ অধ্যাপক মীনেস সিংহ জানিয়েছেন, এত দিন গবেষণাগারে ট্যাঙ্কের কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে এই পাতা জ্বালানি তৈরি করেছে। কিন্তু পরীক্ষাগারের বাইরে সাধারণ পরিবেশের গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে থেকে এই পাতাকে শুধুমাত্র কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসকে চয়ন করে তা জ্বালানিতে পরিণত করতে সক্ষম হতে হবে।

পাতাকে ট্যাঙ্কের বিশুদ্ধ কার্বন ডাইঅক্সাইড দেওয়া বন্ধ করার অর্থ হল এর মধ্যে বিশেষ সেই ক্ষমতা রাখতে হবে, যাতে করে পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড খুঁজে নিয়ে সালোকসংশ্লেষ করতে পারে।

বিজ্ঞানের খবর আরও পড়তে ক্লিক করুন 

এই পদ্ধতিকে কার্যকর করতে একটি কৃত্রিম পাতাকে জলপূর্ণ ক্যাপসুলের মধ্যে রাখা হয়েছিল। সূর্যালোকে সেই জল গরম হতেই বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে আর বুদবুদ তৈরি হয়। তখনই একই সঙ্গে কৃত্রিম পাতা তার থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করতে শুরু করে। তার পর তা কার্বন মনোঅক্সাইড আর জলে পরিণত করে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ৩৬০টি কৃত্রিম পাতার প্রত্যেকটি ১.৭ মিটার লম্বা আর ০.২ মিটার চওড়া। এগুলি প্রত্যেক দিন আধ টন করে কার্বন মনোঅক্সাইড তৈরি করবে। এই পাতাগুলি ছড়িয়ে দেওয়া হবে ৫০০ বর্গমিটার এলাকায়। ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা বাতাসের কার্বনডাই অক্সাইডের ১০% হ্রাস করবে।

সুতরাং, গবেষকরা সবুজ সংকেত দিয়েই দিয়েছেন। এই কৃত্রিম পাতা এক দম তৈরি গবেষণাগারের বাইরের বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। এতে করে কিছুটা হলেও কমানো যাবে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here