ম্যাসাচুসেটস : গাছের পাতার সংবহনতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের শরীরে শিরা-ধমনীর মিল রয়েছে। সেই মিলকে কাজে লাগালেন এক দল বিজ্ঞানী। চিকিৎসা শাস্ত্রে ইতিমধ্যেই মানুষের শরীরের অনেক অঙ্গপ্রতঙ্গই কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা জৈব-অজৈব সামগ্রী। এ বার হৃদকোষ তৈরি করার জন্য ব্যবহার হল হৃদয়ের আকৃতি আর রক্ত সংবহনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পালং পাতাকে। এতদিন মানুষের হৃদকোশ নষ্ট হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবে তৈরি করা সম্ভব ছিল না। ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশের কোনো সুরাহা করা যেত না। যদি এই প্রচেষ্টা সফল হয় তাহলে চিকিৎসাশাস্ত্রের এক যুগান্তকারী দিক খুলে যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এই গবেষণাটি করছেন, ওরসেস্টার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক দল গবেষক।


বিজ্ঞানীরা পালংপাতাকে হৃদকোষের সঙ্গে যুক্ত করেন। বলা যায়, বীজ বপন করেন। তার দিন কয়েক পরেই তার মধ্যে হৃদ্‌কোশগুলো জন্মাতে শুরু করে, ঠিক যেমন ভাবে প্রকৃত মানব হৃদয়ে এই কোষ জন্মায় আর বেড়ে ওঠে।


এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী জসুয়া গ্রেসল্যাক জানান, অন্য অঙ্গপ্রতঙ্গ তৈরির থেকে এই ক্ষুদ্র কোশ তৈরি করাটা অনেক বেশি কঠিন। হৃদয়ে সুস্থ সংবহনতন্ত্রের অভাবে বহু হৃদ্‌কোশের মৃত্যু হয়। ফলে দেখা দেয় নানান হৃদরোগ। তিনি বলেন, প্রাণী আর গাছপালার মধ্যে সংবহন পদ্ধতির অনেক ফারাক রয়েছে। কিন্তু গাছ নিজের খাবার সংবহনের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করে সেটাকেই কাজে লাগানো হচ্ছে।

তিনি জানান, গবেষণাটি করার সময় পাতার সবুজ অংশটা পাতা থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে দেওয়া হয়। তার পর এই সংবহনতন্ত্রকে সেলুলারমুক্ত করার জন্য বিশেষ এক রকমের ডিটারজেন্ট সলিউশান ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিকে তাঁরা বলছেন, ডিসেলুলারাইজেশন। এটা সাধারণত করা হয় মানব হৃদয়ের ক্ষেত্রে। তবে এই ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকর হবে তা প্রথম চোটে বোঝা যায়নি। তবে তাঁরা কাজটায় সফল হয়েছেন। জসুয়া বলেন, তাঁরা এই গবেষণার জন্য অনেক ধরনের পাতাই ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু পালং পাতার সংবহনতন্ত্র বেশ জটিল আর ঘন। যা মানব হৃদয়ের রক্তসংবহনের ক্ষেত্রে দারুণ উপযোগী। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁরা এই পাতাকেই বেছে নেন।

তাঁরা পালংপাতাকে হৃদকোষের সঙ্গে যুক্ত করেন। বলা যায়, বীজ বপন করেন। তার দিন কয়েক পরেই তার মধ্যে হৃদ্‌কোশগুলো জন্মাতে শুরু করে, ঠিক যেমন ভাবে প্রকৃত মানব হৃদয়ে এই কোশ জন্মায় আর বেড়ে ওঠে।

এই কোশ স্থাপন করা প্রয়োজন সেই সব রোগীদের জন্য যাঁদের হৃদ্‌কোশ নষ্ট হয়ে গিয়ে সংবহনে ব্যঘাত ঘটছে। সাধারণত এই ঘটনা ঘটে হার্ট অ্যাটাকের মতো কোনো কিছু ঘটার পর। তাঁরা একটা উপায় আবিষ্কার করেছেন মাত্র, এখনও তার যথাযথ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। কীভাবে সেটা করা সম্ভব তার জন্য এখনও গবেষণা চালিয়ে জাচ্ছেন বলে জানান গবেষক জসুয়া।

এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বায়োমেট্রিয়ালস’ পত্রিকায়।

প্রসঙ্গত, গাছের পাতাকে মানুষের শরীরে কাজে লাগানোর কথা এর আগেই ভেবেছিলেন কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here