মস্কো: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর ‘বিস্ফোরণ’ ধরা পড়ল রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহ লোমোনোসোভ-এর অতিবেগুনি দূরবিনে। রাশিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের ডিরেক্টর মিখাইল পানাসয়ুক ‘স্পুটনিক’কে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত সেই বিস্ফোরণ ঠিক কী ধরনের বা কেন হল তা নিয়ে কোনো রকম ব্যখ্যা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পানায়সুক। প্রসঙ্গত, মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘মিখাইলো লোমোনোসোভ’ নামে বায়ুমণ্ডলীয় কৃত্রিম উপগ্রহটি ২০১৬ সালে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পাঠানো হয়। এর ওজন ৬২৫ কিলোগ্রাম।

মিখাইল বলেছেন, “প্রত্যাশার থেকে অনেক বেশি পাওয়া গিয়েছে এই দূরবিনের সাহায্যে। নতুন ধরনের বেশ কিছু মহাজাগতিক ঘটনা সামনে আসছে, যদিও সেই সব ঘটনার ভৌত প্রকৃতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। উপগ্রহটি যখন হাজার হাজার কিলোমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে তখন তার টেলিস্কোপে অসংখ্য বিশালাকৃতি আলোক বিস্ফোরণ ধরা পড়েছে। কিন্তু তার নীচের পরিবেশ একেবারেই পরিষ্কার ছিল, সেখানে কোনো রকম মেঘ বা ঝড় কিছুই ছিল না।

আরও পড়ুন – মিমি চক্রবর্তীর জন্মদিন, আদরের ‘বোনুয়া’র স্বভাবের ভালো-খারাপ জানাচ্ছেন নুসরত জাহান

এই বিশেষ ধরনের উপগ্রহটি বানানো হয়েছে পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলের হালচাল ভালোমতো জানার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রহের ম্যাগনেটোস্ফিয়ার থেকে বিচ্ছুরিত আলোর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও পৃথিবীর কক্ষপথের নানাবিধ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। মূলত প্রাথমিক ভাবে মহাজাগতিক বিষয়গুলিকে ভালো করে জানার জন্য এই কৃত্রিম উপগ্রহটি তৈরি করা হয়েছিল।

এতে রয়েছে একটি ‘স্পেস টেলিস্কোপ’। এর সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথের মহাজাগতিক আলোক বর্তিকাগুলির বর্ণালী বিশ্লেষণ, তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ, শক্তি পরিমাপ ইত্যাদি করা যাবে। তা ছাড়াও মহাজাগতিক গামা রশ্মির বিস্ফোরণ ও বায়ুমণ্ডলের ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের খুঁটিনাটি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করার জন্য উপযুক্ত যন্ত্রপাতি সবই রাখা হয়েছে এই কৃত্রিম উপগ্রহটিতে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here