আদদিস আবাবা: পৃথিবীতে এমনও একটি জায়গা এখনও আছে যেখানে কোনো রকম প্রাণের চিহ্ন নেই। শুধু জল আর জল। সেই জল সাধারণ জল নয়। লবণাক্ত বা নোনা জল। যাকে বলা যায় স্যালাইন ওয়াটার। হাইপারঅ্যাসিডিক গরম জল। এই জায়গাটি কোথায় সেটাই ভাবছেন তো?

এই জায়গাটি হল ইথিওপিয়ার ডাললের ভূ-তাপীয় এলাকায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন একটি জায়গা খুঁজে পাওয়ার অর্থ হল প্রচলিত ধারণা বা মানদণ্ড যাই বলা হোক না কেন, গ্রহে জল থাকলেই তা প্রাণের বিকাশ ঘটায় এই কথা সর্বৈব সত্য না। অর্থাৎ জল মানেই প্রাণ, তা কিন্তু নয়।

পৃথিবীতে উপস্থিত প্রাণী বিশেষ করে অণুজীবি যারা, তারা চরম থেকে চরম পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। কিন্তু সেই সত্যও ডালল ভূ-তাপীয় এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়।

এই ডালল এলাকাটি ইথিপিয়ার নিচু জমিতে অবস্থিত। স্থানটির নাম ডানাকিল, এটি আগ্নেয় অঞ্চলের ওপর বিস্তারিত। এখানে লবণ বিষাক্ত গ্যাস ইত্যাদি নির্গত হয়। তার ওপরের জলকে বিষাক্ত করে। উত্তপ্ত করে। এটিই হাইড্রোথার্মাল বা ভূ-তাপীয় এলাকার বৈশিষ্ট্য। এটি পৃথিবীর সব থেকে উত্তপ্ত এলাকা। এই জলের প্রাত্যহিক তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই অঞ্চলে বেশ কিছু হাইপার স্যালাইন ও হাইপার অ্যাসিডিক জলাশয় রয়েছে। এই জলাশয়গুলির পিএইচ মান কিছুই নেই।

ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের জীববিজ্ঞানী পিউরিফিক্যাসিয়ান লোপেজ গ্রাসিয়া বলেন, এর আগে বহু বার এই জল পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এই বারও একাধিকবার এই গরম লবণাক্ত হাইপার অ্যসিডিক স্যালাইন জল পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু  প্রতিবারের মতোই এই বারও কোনো প্রাণের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড এভ্যালুয়েশন’ পত্রিকায় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে।  

তবে হ্যাঁ, এই এলাকায় যা রয়েছে তা হল লবণ সহশীলতা ক্ষম নানান ধরনের মাইক্রোঅর্গানিজম। এরা হল ‘হলফিলিক আর্চিয়া’। তবে এই মাইক্রোঅর্গানিজম কিন্তু জলে নেই। রয়েছে জলের বাইরের স্থলভাগে।

তিনি বলেছেন, এই পরীক্ষার জন্য যাবতীয় অধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুই বাদ রাখা হয়নি।

গবেষকদের কথায়, এই গবেষণাটি প্রাণীর আবাসস্থল, তার পরিবেশের সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনীয় পরিবেশের চাহিদা কী ধরনের হতে পারে, ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করবে। ফলে পৃথিবী ও তার বাইরেও মর্ফোলজিক্যাল বায়ো সিগনেচারগুলি নিয়ে কাজ করতে সুবিধা হবে।  

এই গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন, প্রাণের সঞ্চারের ক্ষেত্রে দু’টি বাধা রয়েছে এই জলাশয়ে। এক হল, ক্রিয়োট্রফিক ম্যাগনেশিয়াম সল্ট, দুই প্রচুর পরিমাণে হাইপার স্যালাইন, হাইপার অ্যসিডিক ও উচ্চ তাপমাত্রা।  

গ্রাসিয়া বলেন, এর থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, অন্তত পক্ষে এই পরিবেশ অন্য গ্রহে পেলে সেখানে আর প্রাণের অস্তিত্ব আশা করবেন না বিজ্ঞানীরা।

পড়ুন – পৃথিবীর এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ১১ হাজার বিজ্ঞানী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.