ওয়েব ডেস্ক: সপ্তাহ দুয়েক আগেই বিজ্ঞানীরা হদিশ পেয়েছেন সভ্যতার ইতিহাসে মানুষের পূর্ব পুরুষের প্রাচীনতম জীবাশ্মের, যার বয়স আনুমানিক ৭২ লক্ষ বছর। আবিষ্কারের স্থান আবার ইউরোপ। দিন কয়েকের মধ্যেই আবার নতুন আবিষ্কার। সম্প্রতি জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার মরক্কোয় পাওয়া মানুষের জীবাশ্ম নাকি তিন লক্ষ বছরের পুরোনো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এরা আধুনিকতম প্রজাতির মানুষ অর্থাৎ হোমো সেপিয়েন্স। আফ্রিকার মারাকেশ অঞ্চলের ৬২ মাইল পশ্চিমে এক গুহায় পাওয়া গিয়েছে তিন লক্ষ বছরের পুরোনো কিছু ফসিল। জেবেল ইরহাউড নামে পরিচিত এই গুহায় প্রাচীন মানুষের জীবন যাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন সেই সময় থেকেই আগুনের ব্যবহার জানত মানুষ।

ড. গুঞ্জ সহ ম্যাক্স প্লাঙ্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিজ্ঞানীর গবেষণাপত্রটি সদ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ জার্নালে। এর আগে আফ্রিকার ইথিওপিয়ায় পাওয়া মানুষের ফসিল ছিল এক লক্ষ ৯৫ হাজার বছরের পুরোনো। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল বিবর্তনের ধারায় আধুনিক মানুষের জন্ম এই সময় থেকেই। সাম্প্রতিক আবিষ্কার পালটে দিল চেনা ধারনাটা। জেবেল ইরহাউড গুহা এবং সংলগ্ন অঞ্চলে পাওয়া ফসিল পর্যবেক্ষণ করে জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন এদের চোয়াল এবং মস্তিষ্কের আকার এখনকার মানুষের মতোই। যদিও মস্তিষ্কের গঠনে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া এদের চোখের ওপরের ভুরুর অংশ বেশ মোটা, চিবুকও বেশ খানিকটা অন্যরকম।

আবিষ্কার প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী গুঞ্জ যদিও বলেছেন, তাঁরা গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন, এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। তবে আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ের পাওয়া মানুষের ফসিল বিবর্তনের ইতিহাসের এক নতুন ব্যাখার আভাস দিচ্ছে। তা হল, আধুনিক হোমো সেপিয়েন্সের জন্ম আফ্রিকার কোনো বিশেষ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, দীর্ঘ সময় ধরে ওই মহাদেশের নানা প্রান্তেই বিবর্তনের ধারা মেনে জন্ম হয়েছে আজকের মানুষের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here